Advertisement Banner

ঢাবির মুহসীন হলে হাতাহাতি, শিবির-ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
ঢাবির মুহসীন হলে হাতাহাতি, শিবির-ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আবাসিক হল রাজনীতিতে আবারও উত্তেজনার ছাপ পড়ল হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে। একটি ব্যানারকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ দ্রুতই রূপ নেয় মুখোমুখি অবস্থান, বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতিতে। ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির–উভয় পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করছে।

জানা গেছে, মুহসীন হল ছাত্র সংসদের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক জুলহাস ইসলামকে গত ২৩ এপ্রিল শাহবাগ এলাকায় মারধর করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে গত সোমবার হলের মূল ফটকে একটি ব্যানার টানায় হল সংসদ। হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন রবিনকে হামলাকারী উল্লেখ করে ব্যানারে তার ছবি যুক্ত করা হয়। হল ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা তা সরিয়ে ফেললে গতকাল মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে আবার ব্যানার টানাতে যান হল সংসদের নেতারা। তখন উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মুহসীন হলের এক শিবিরকর্মী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠে। আহত ওই শিক্ষার্থী অ্যাকাউন্টিং বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী মো. সালমান খান।

আহত শিক্ষার্থী সালমান খান দাবি করেন, “ব্যানার টানানোর কিছুক্ষণের মধ্যে ২০-৩০ জন ছাত্রদলের নেতা-কর্মী মিছিল নিয়ে এসে হলগেটের ব্যানার টান দিয়ে ছিঁড়ে সামনের দিকে হাঁটা ধরে। তখন নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে আমিসহ হল সংসদের কয়েকজন সেই ব্যানারটা তাদের হাত থেকে ফিরিয়ে আনতে যাই।...তারা টানাটানি করে। একপর্যায়ে আমাকে একটা গাছের পেছনে নিয়ে যায়।...আমার ডান পাশের কান ও মাথায় ঘুষি মারে। আমার হাতে খুব বাজেভাবে আঘাত করে। এতে ব্লিডিং হয়।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হল সংসদের ভিপি সাদিক শিকদার চরচাকে বলেন, “সাংস্কৃতিক সম্পাদককে মেরে তারা (ছাত্রদল) কান ফাটিয়ে দেবে, আবার এটার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আমরা বিচার চাইতে গেলে আমাদের শিক্ষার্থীদেরই তারা হামলা করে রক্তাক্ত করবে–এই হলো তাদের চরিত্র। তারা তাদের সেই ৯০-এর দশকের যে অস্ত্রের রাজনীতি, সেটি করতে চায়। কিন্তু আমরা বারবার সহনশীলতার পরিচয় দিয়ে গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখতে চাচ্ছি।”

হল প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই নেতা। তিনি বলেন, “ঘটনার ১২-১৩ দিন পার হয়ে গেলেও প্রাধ্যক্ষ একবারও খোঁজ নেননি।”

এ ঘটনার বিষয়ে জানতে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের প্রাধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলামকে মোবাইলে একাধিকবার কল করা হয়। কিন্তু তিনি কলের জবাব দেননি।

অন্যদিকে ছাত্রদলের নেতারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অভিযুক্ত সাজ্জাদ হোসেন চরচাকে বলেন, “আমাকে বারবার সন্ত্রাসী হিসেবে উল্লেখ করে ব্যানার দেওয়া হয়েছে। আমি ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। এগুলো যারা গুপ্ত, যারা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিশৃঙ্খলা করতে চায়, তাদের কাজ।”

জানতে চাইলে হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুজর গিফারী ইফাত চরচাকে বলেন, “আসল অভিযুক্তের নামে ব্যানার দিলে আমরা সমর্থন দিতাম। আমরা তাদের বলেছিও যে, ন্যায্য বিচারের দাবিতে আমরা পাশে থাকব। কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুল ব্যক্তিকে সন্ত্রাসী তকমা তারা দিতে পারে না। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে ছাত্রদলের নাম জড়িয়ে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করছে।”

পুরো বিষয়টিকে ‘গুপ্তদের সাজানো নাটক’ বলছেন ছাত্রদল নেতা আবিদুল ইসলাম আবিদ। চরচাকে তিনি বলেন, “এসব ঘটনা পুরোটায় সাজানো, নাটক। এগুলোই গুপ্তদের চরিত্র। তারা বিশৃঙ্খলার জন্য নানাভাবে চেষ্টা করছে। তবে ছাত্রদল তাদের এসব সাজানো নাটক, বিশৃঙ্খলার সুযোগ দেবে না।”

সম্পর্কিত