Advertisement Banner

থালাপতির সব বিধায়কের পদত্যাগের হুমকি, কেন

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
থালাপতির সব বিধায়কের পদত্যাগের হুমকি, কেন
বিজয় থালাপতি। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের তামিলনাড়ুর সরকার গঠনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। অভিনেতা বিজয়ের নেতৃত্বাধীন দল তামিলগা ভেট্রি কাজগম (টিভিকে) হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, ডিএমকে অথবা এআইএডিএমকে যদি সরকার গঠনের দাবি জানায়, তাহলে দলটির সব বিধায়ক একযোগে পদত্যাগ করবেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

টিভিকের অভিযোগ, জনসমর্থন পাওয়া সত্ত্বেও তাদের ক্ষমতার বাইরে রাখতে ডিএমকে ও এআইএডিএমকে গোপন সমঝোতার পথে হাঁটছে। সূত্রের খবর, দুই দলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পরই এই আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।

১০৭টি আসনে জয় পেয়ে টিভিকে রাজ্যের একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছে। দলটির দাবি, সংবিধান অনুযায়ী রাজ্যপালের উচিত তাদের সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো। তবে আজ সকালে রাজ্যপাল আর ভি আরলেকর বিজয়কে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পর্যাপ্ত সংখ্যা না থাকায় তিনি সরকার গঠনের দাবি জানাতে পারবেন না।

জানা গেছে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য বিজয় যে পরিকল্পনা জমা দিয়েছিলেন, তাও গ্রহণ করেননি রাজ্যপাল। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। রাজ্যপাল বিজয়কে ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

বর্তমানে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য টিভিকের আরও ১০টি আসন প্রয়োজন। ইতিমধ্যে কংগ্রেসের পাঁচ বিধায়ক তাদের সমর্থন জানিয়েছেন। বাকি সমর্থনের জন্য বামপন্থী ও ছোট দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। পরিস্থিতি নিয়ে দলটি আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও ভাবছে।

এদিকে ডিএমকে-র বৈঠকে চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রস্তাবে দলীয় প্রধান এম কে স্ট্যালিনকে জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। দলটির দাবি, পুনর্নির্বাচন এড়িয়ে স্থিতিশীল সরকার গঠন করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।

ডিএমকে তাদের সব বিধায়ককে ১০ মে পর্যন্ত চেন্নাইয়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে শোনা যাচ্ছে, ডিএমকে-র বাইরের সমর্থনে এআইএডিএমকে নেতা ই পালানিস্বামীকে মুখ্যমন্ত্রী করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দলের তরুণ নেতাদের একাংশের আশঙ্কা, বিজয় একবার ক্ষমতায় এলে তিনি প্রয়াত এম জি রামচন্দ্রনের মতো দীর্ঘদিন তামিল রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে পারেন। তবে ডিএমকে-র প্রবীণ নেতারা এখনও এমন সমীকরণ নিয়ে দ্বিধায় রয়েছেন। কারণ দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের সম্ভাব্য সমঝোতায় জনরোষ তৈরি হতে পারে বলেও মনে করছেন তারা।

অন্যদিকে এআইএডিএমকে-ও নিজেদের বিধায়কদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলেছে। যদিও দলের একটি অংশ বিজয়ের সঙ্গে সমঝোতার পক্ষে, সিনিয়র নেতৃত্ব তা নাকচ করে দিয়েছে। পালানিস্বামীর বৈঠকে ৪৫ জনের বেশি বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

রাজ্যপালের অবস্থানের সমালোচনায় সরব হয়েছে সম্ভাব্য মিত্র দলগুলোও। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি বলেছে, একক বৃহত্তম দল হিসেবে বিজয়কে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল। দলটির মতে, শপথের আগেই ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন দেখাতে বলা সংবিধানসম্মত নয়।

সম্পর্কিত