দ্য ডিপ্লোম্যাটের নিবন্ধ
চরচা ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ জয়লাভ করে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের পর এটিই ছিল বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় নির্বাচন। আন্দোলনের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করতে বাধ্য হন। ফলে এই নির্বাচন ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাময়িকী দ্য ডিপ্লোম্যাটের প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের কাছে এই নির্বাচনটি কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনা ছিল না। বরং এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত; যার সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ জড়িত।
১৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান জানান, বাংলাদেশে একটি স্থিতিশীল ও সুশৃঙ্খল সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে জয়লাভের জন্য বিএনপিকে অভিনন্দনও জানিয়েছে। লিন বলেন, বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বন্ধু ও প্রতিবেশী হিসেবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে চীন বাংলাদেশের সাথে কাজ করতে আগ্রহী। এই মন্তব্যগুলো পরবর্তীতে এই বার্তা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম পিপলস ডেইলি-তে পুনঃপ্রকাশিত হয়। এটি চীনের কূটনৈতিক বার্তা এবং মূলধারার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের অবস্থানের মধ্যে সঙ্গতি প্রকাশ করে।
এরই ধারাবাহিকতায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং বাংলাদেশের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একটি অভিনন্দন বার্তা পাঠান। লি চীন ও বাংলাদেশকে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং বিস্তৃত কৌশলগত সমবায় অংশীদার হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি নতুন সরকারের সুশৃঙ্খল পরিচালনার জন্য চীনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর আওতায় সহযোগিতা বাড়ানো এবং দুই দেশের মানুষের কল্যাণে নানা খাতে পারস্পরিক বিনিময় ও যৌথ কাজ এগিয়ে নিতে তারেক রহমানের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ জানান তিনি।

চীন তার নিজস্ব বিবৃতিতে মূলত এই অবস্থান বজায় রেখেছে যে, তারা অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিতে অবিচল থাকবে। অর্থাৎ, অন্য দেশের নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে কোনো প্রকার নেতিবাচক বা ইতিবাচক মূল্যায়ন থেকে বিরত থাকবে।
১৯৭৫ সালের ৪ অক্টোবর কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক খুবই স্থিতিশীল রয়েছে। বেইজিং বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে রাস্তাঘাট, সেতু, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং শিল্পপার্ক নির্মাণের সাথে জড়িত। যার বড় একটি অংশ বিআরআই কাঠামোর আওতাভুক্ত।
২০২১ সালে বাংলাদেশ-চীন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বিশেষ শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিল। দুই দেশের মধ্যে মোট আমদানি ও রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ২৫ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার। যদিও পরবর্তী বছরগুলোতে কিছু মাঝারি ওঠানামা দেখা গেছে, তবে ঐতিহাসিক মানদণ্ডে সামগ্রিক বাণিজ্যের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে উচ্চপর্যায়ে রয়েছে। ২০২৫ সালে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলারে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের বৃহত্তম রেলওয়ে প্রকল্প পদ্মা সেতু রেল সংযোগ চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশর নির্মাণ খাতে পরিবেশবান্ধব উন্নয়নে চীন উল্লেখযোগ্য সহায়তা প্রদান করেছে; যার মধ্যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রযুক্তি এবং কংক্রিটে ফ্লাই অ্যাশ ব্যবহারের অভিজ্ঞতা বিনিময় অন্যতম।
পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে পারস্পরিক সম্পৃক্ততার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক ধীরে ধীরে উন্নয়নকেন্দ্রিক অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এবং একটি বিস্তৃত, ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক কাঠামোর মধ্যে বিকশিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ ‘মাল্টিল্যাটারাল ব্যালেন্সিং’ বা বহুপাক্ষিক ভারসাম্যের কৌশল অনুসরণ করে আসছে, যার মাধ্যমে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মতো বৃহৎ শক্তিগুলোর মধ্যে নিজের কৌশলগত অবস্থান ও নীতিগত নমনীয়তা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের এই সম্পর্কের অর্থ কোনো বিশেষ বলয়ে যোগদান নয়; বরং এটি অর্থনৈতিক রূপান্তর, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিল্প আধুনিকায়নের মতো অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া একটি বাস্তবমুখী পছন্দ। এই উন্নয়নকেন্দ্রিক সহযোগিতার কাঠামোটি কেবল বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির মূল দর্শনের সাথেই সংগতিপূর্ণ নয়, বরং এটি বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা এবং ধারাবাহিকতার প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি হিসেবেও কাজ করে।
সরকারি বিবৃতির তুলনায় চীনের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক এবং একাডেমিক মহলে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় কাঠামোগত বিশ্লেষণের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা এখন আগের তুলনায় আরও সংগঠিত, নিয়মভিত্তিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্ত একটি নতুন ধাপে প্রবেশ করছে। যেহেতু বিএনপি প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামোর বাইরে কোনো শক্তি নয়, বরং বিদ্যমান ব্যবস্থারই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, তাই চীনা পণ্ডিতদের সাধারণ মূল্যায়ন হলো তাদের সরকার গঠনের কারণে কোনো কৌশলগত ফাটল সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বরং দলটির সঙ্গে নীতিগত সমন্বয় ও ধারাবাহিকতা বজায় থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে সাংহাই ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের দক্ষিণ এশিয়া গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক লিউ জোংই পূর্বাভাস দিয়েছেন যে, বিএনপি একটি ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক নীতি অনুসরণ অব্যাহত রাখবে। বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ, ঋণ পুনর্গঠনের তাগিদ এবং শিল্পোন্নয়নের নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি রয়েছে। ফলে সরকার পরিবর্তনের কারণে অবকাঠামোতে অর্থায়ন এবং উৎপাদন খাতে সহায়তার চাহিদা কমেনি। একইসঙ্গে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক আলোচনা, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সমন্বয় এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুগুলো দেশটির নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রকে আরও প্রভাবিত করবে।
সামগ্রিকভাবে, চীনের সরকারি বিবৃতি এবং শিক্ষাবিদদের মন্তব্য থেকে একটি স্পষ্ট মূল্যায়ন পাওয়া যায়, বাংলাদেশের নির্বাচন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মৌলিক কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন আনেনি। বরং, অর্থনৈতিক চাপ এবং বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার এই পরিবেশে দুই দেশের বাস্তবমুখী সহযোগিতা একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। সংশ্লিষ্ট মহলের বিশ্বাস, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের এই কাঠামোগত এবং রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ জয়লাভ করে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের পর এটিই ছিল বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় নির্বাচন। আন্দোলনের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করতে বাধ্য হন। ফলে এই নির্বাচন ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাময়িকী দ্য ডিপ্লোম্যাটের প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের কাছে এই নির্বাচনটি কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনা ছিল না। বরং এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত; যার সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ জড়িত।
১৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান জানান, বাংলাদেশে একটি স্থিতিশীল ও সুশৃঙ্খল সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে জয়লাভের জন্য বিএনপিকে অভিনন্দনও জানিয়েছে। লিন বলেন, বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বন্ধু ও প্রতিবেশী হিসেবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে চীন বাংলাদেশের সাথে কাজ করতে আগ্রহী। এই মন্তব্যগুলো পরবর্তীতে এই বার্তা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম পিপলস ডেইলি-তে পুনঃপ্রকাশিত হয়। এটি চীনের কূটনৈতিক বার্তা এবং মূলধারার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের অবস্থানের মধ্যে সঙ্গতি প্রকাশ করে।
এরই ধারাবাহিকতায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং বাংলাদেশের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একটি অভিনন্দন বার্তা পাঠান। লি চীন ও বাংলাদেশকে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং বিস্তৃত কৌশলগত সমবায় অংশীদার হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি নতুন সরকারের সুশৃঙ্খল পরিচালনার জন্য চীনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর আওতায় সহযোগিতা বাড়ানো এবং দুই দেশের মানুষের কল্যাণে নানা খাতে পারস্পরিক বিনিময় ও যৌথ কাজ এগিয়ে নিতে তারেক রহমানের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ জানান তিনি।

চীন তার নিজস্ব বিবৃতিতে মূলত এই অবস্থান বজায় রেখেছে যে, তারা অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিতে অবিচল থাকবে। অর্থাৎ, অন্য দেশের নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে কোনো প্রকার নেতিবাচক বা ইতিবাচক মূল্যায়ন থেকে বিরত থাকবে।
১৯৭৫ সালের ৪ অক্টোবর কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক খুবই স্থিতিশীল রয়েছে। বেইজিং বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে রাস্তাঘাট, সেতু, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং শিল্পপার্ক নির্মাণের সাথে জড়িত। যার বড় একটি অংশ বিআরআই কাঠামোর আওতাভুক্ত।
২০২১ সালে বাংলাদেশ-চীন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বিশেষ শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিল। দুই দেশের মধ্যে মোট আমদানি ও রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ২৫ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার। যদিও পরবর্তী বছরগুলোতে কিছু মাঝারি ওঠানামা দেখা গেছে, তবে ঐতিহাসিক মানদণ্ডে সামগ্রিক বাণিজ্যের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে উচ্চপর্যায়ে রয়েছে। ২০২৫ সালে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলারে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের বৃহত্তম রেলওয়ে প্রকল্প পদ্মা সেতু রেল সংযোগ চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশর নির্মাণ খাতে পরিবেশবান্ধব উন্নয়নে চীন উল্লেখযোগ্য সহায়তা প্রদান করেছে; যার মধ্যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রযুক্তি এবং কংক্রিটে ফ্লাই অ্যাশ ব্যবহারের অভিজ্ঞতা বিনিময় অন্যতম।
পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে পারস্পরিক সম্পৃক্ততার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক ধীরে ধীরে উন্নয়নকেন্দ্রিক অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এবং একটি বিস্তৃত, ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক কাঠামোর মধ্যে বিকশিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ ‘মাল্টিল্যাটারাল ব্যালেন্সিং’ বা বহুপাক্ষিক ভারসাম্যের কৌশল অনুসরণ করে আসছে, যার মাধ্যমে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মতো বৃহৎ শক্তিগুলোর মধ্যে নিজের কৌশলগত অবস্থান ও নীতিগত নমনীয়তা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের এই সম্পর্কের অর্থ কোনো বিশেষ বলয়ে যোগদান নয়; বরং এটি অর্থনৈতিক রূপান্তর, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিল্প আধুনিকায়নের মতো অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া একটি বাস্তবমুখী পছন্দ। এই উন্নয়নকেন্দ্রিক সহযোগিতার কাঠামোটি কেবল বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির মূল দর্শনের সাথেই সংগতিপূর্ণ নয়, বরং এটি বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা এবং ধারাবাহিকতার প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি হিসেবেও কাজ করে।
সরকারি বিবৃতির তুলনায় চীনের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক এবং একাডেমিক মহলে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় কাঠামোগত বিশ্লেষণের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা এখন আগের তুলনায় আরও সংগঠিত, নিয়মভিত্তিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্ত একটি নতুন ধাপে প্রবেশ করছে। যেহেতু বিএনপি প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামোর বাইরে কোনো শক্তি নয়, বরং বিদ্যমান ব্যবস্থারই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, তাই চীনা পণ্ডিতদের সাধারণ মূল্যায়ন হলো তাদের সরকার গঠনের কারণে কোনো কৌশলগত ফাটল সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বরং দলটির সঙ্গে নীতিগত সমন্বয় ও ধারাবাহিকতা বজায় থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে সাংহাই ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের দক্ষিণ এশিয়া গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক লিউ জোংই পূর্বাভাস দিয়েছেন যে, বিএনপি একটি ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক নীতি অনুসরণ অব্যাহত রাখবে। বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ, ঋণ পুনর্গঠনের তাগিদ এবং শিল্পোন্নয়নের নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি রয়েছে। ফলে সরকার পরিবর্তনের কারণে অবকাঠামোতে অর্থায়ন এবং উৎপাদন খাতে সহায়তার চাহিদা কমেনি। একইসঙ্গে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক আলোচনা, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সমন্বয় এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুগুলো দেশটির নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রকে আরও প্রভাবিত করবে।
সামগ্রিকভাবে, চীনের সরকারি বিবৃতি এবং শিক্ষাবিদদের মন্তব্য থেকে একটি স্পষ্ট মূল্যায়ন পাওয়া যায়, বাংলাদেশের নির্বাচন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মৌলিক কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন আনেনি। বরং, অর্থনৈতিক চাপ এবং বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার এই পরিবেশে দুই দেশের বাস্তবমুখী সহযোগিতা একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। সংশ্লিষ্ট মহলের বিশ্বাস, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের এই কাঠামোগত এবং রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।