Advertisement Banner

নারীরা যে ৮ কারণে মানসিক চাপে ভোগেন

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
নারীরা যে ৮ কারণে মানসিক চাপে ভোগেন
মেন্টাল লোড তখনই হয়, যখন আপনার চিন্তার সঙ্গে একটি আবেগগত স্তর জড়িয়ে থাকে। ছবি: ফ্রিপিক

দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে বিশ্ব। আর এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে এক ধরনের অদৃশ্য কিন্তু বিপুল চাপের সঙ্গে লড়াই করছেন নারীরা। যাকে বলা হচ্ছে ‘মেন্টাল লোড’। এটি হলো সেই অদৃশ্য মানসিক শ্রম, যা একটি পরিবার ও গৃহস্থালি সচল রাখতে প্রয়োজন। এরমধ্যে শিশুর যত্নের ব্যবস্থা করা, স্বাস্থ্যকর খাবারের পরিকল্পনা করা থেকে শুরু করে বিনোদনমূলক কার্যক্রম খোঁজা পর্যন্ত সবকিছু রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং ‘ড্রেইনড’ বইয়ের লেখক লিয়াহ ‍রুপপানের বিবিসিকে এই মেন্টাল লোডের ব্যাপারে ব্যাখ্যা করেন। তার মতে, আট ধরনের মেন্টাল লোড রয়েছে।

এই বিশ্লেষক ব্যাখা করেন, “মেন্টাল লোড তখনই হয়, যখন আপনার চিন্তার সঙ্গে একটি আবেগগত স্তর জড়িয়ে থাকে। আর সেই কারণেই এটি এত ক্লান্তিকর। কখনো কখনো সবকিছু ভালো চললে এটি ইতিবাচক অনুভূতিও এনে দিতে পারে। কিন্তু মেন্টাল লোড ঠিক তার উল্টোও হতে পারে। এটি এমন এক ধরনের আবেগঘন চিন্তার কাজ, যেখানে আপনি ক্রমাগত ভাবতে থাকেন এবং যার কোনো শেষ নেই। আপনি যেমন আশপাশে হাঁটতে বের হলে কাপড়চোপড় সঙ্গে করে নিয়ে যান না, কিন্তু এই মেন্টাল লোডটা সবসময় আপনার সঙ্গেই থাকে।”

লিয়াহ আট ধরনের মেন্টাল লোডের কথা বলেছেন। সেগুলো হলো-

১. জীবন সংগঠন

এটি মেন্টাল লোডের সবচেয়ে প্রচলিত ধারণা- যেখানে পরিকল্পনা সংক্রান্ত কাজগুলো মাথায় রাখা হয়, অর্থাৎ ঘরকে সচল রাখতে প্রয়োজনীয় সব অদৃশ্য কাজের চিন্তা মাথায় নিয়ে ঘুরেন নারীরা।

২. আবেগগত সহায়তা

এতে পরিবার, বন্ধু বা সহকর্মীদের খোঁজখবর রাখা, তাদের মনের অবস্থা বোঝা এবং বড়-ছোট মুহূর্তে মানসিক সহায়তা দেওয়া অন্তর্ভুক্ত। এসব কাজ করতে গিয়ে নারীরা মানসিক চাপে ভোগেন।

৩. সম্পর্কের পরিচর্যা

সন্তান, বন্ধু, সঙ্গী ও আত্মীয়দের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক বজায় রাখার এক অদৃশ্য চাপ অনুভব করেন নারীরা। কর্মক্ষেত্রে একে নেটওয়ার্কিং বলা হতে পারে-কিন্তু মূলত এটি সবার সঙ্গে সংযোগ ও ভালোবাসা বজায় রাখার কাজ। যা এক সময় মেন্টাল লোড হয়ে দাঁড়াতে পারে।

৪. ম্যাজিক-মেকিং

ঐতিহ্য ধরে রাখা এবং বিশেষ মুহূর্ত তৈরি করার মানসিক শ্রমকে লিয়াহ বলেছেন ‘ম্যাজিক মেকিং’। যেমন, উৎসবের ‘বিশেষ মুহূর্তগুলো’ কে তৈরি করে এবং এর পেছনে কারা কাজ করে-তা ভাবুন।

৫. স্বপ্ন পূরণ

লিয়াহর ভাষ্য, কাছের মানুষদের তাদের স্বপ্ন ও লক্ষ্য পূরণের জন্য সঠিক সুযোগ নিশ্চিত করার কাজও সাধারণত নারীরা। যেমন, সন্তানকে তার পছন্দের শখে যুক্ত করা বা সঙ্গীর ক্যারিয়ার বা ব্যক্তিগত সময় নিশ্চিত করা- এসব কাজ করতে গিয়ে তৈরি হয় মেন্টাল লোড।

৬. ব্যক্তিগত যত্ন

এটি শুধু স্ব-যত্ন নয় বরং নিজেকে সুস্থ ও ফিট রাখা, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন করা এবং অন্যদের সামনে সেই চিত্র তুলে ধরা। এ নিয়েও মানসিক চাপে ভোগেন নারীরা।

৭. নিরাপত্তা

লিয়াহ বলেন, প্রিয়জন ও সমাজ নিরাপদ কিনা-বাস্তব বা সম্ভাব্য উভয় দিক থেকেই তা নিয়ে চিন্তা করেন নারীরা। বিশেষ করে কিছু পরিবার, যেমন বর্ণভিত্তিক সংখ্যালঘু বা প্রতিবন্ধী পরিবারের ক্ষেত্রে এই মানসিক চাপ আরও বেশি হতে পারে।

৮. মেটা-কেয়ার

এই বিশ্লেষকের মতে, এই মেন্টাল লোড কিছুটা বিমূর্ত-আপনি যে পৃথিবীতে বাস করতে চান, তা গড়ে তুলতে কী করছেন বা কী করা প্রয়োজন তা নিয়ে ভাবা। নিজের দায়িত্ব ও মূল্যবোধ অনুযায়ী জীবন পরিচালনার বড় চিত্রটি এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

যেভাবে দূর করবেন মেন্টাল লোড

এই মানসিক চাপ থেকে বাঁচার উপায় সম্পর্কে লিয়াহ বলেছেন, “প্রথমেই আমাদের স্বীকার করতে হবে যে নিজের অনুভূতি অনুভব করা মূল্যবান, কিন্তু আপনি অন্য সবার অনুভূতির জন্য দায়ী নন, কিংবা একটি ‘নিখুঁত পরিবার’ গড়ে তোলার দায়িত্বও আপনার নয়। একইভাবে, একটি নিখুঁত পৃথিবী তৈরি করাও আপনার দায়িত্ব নয়। আমাদের অনেক নারী জন্ম থেকেই এমনভাবে বড় হন, যেখানে অন্যদের জন্য সদয়, ভদ্র, যত্নশীল ও আত্মত্যাগী হতে শেখানো হয়- নিজের ক্ষতির বিনিময়ে হলেও।“

তার পরামর্শ, পুরুষদের অনুভূতির প্রতি অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া বন্ধ করতে হবে। নারীদের ওপর অন্যদের আবেগের দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়, বিশেষ করে যখন তা তাদের নিজেদের ক্ষতি করে।

এই বিশ্লেষকের ভাষ্য, “আমাদের বুঝতে হবে কখন আমরা অতিরিক্ত কাজ করছি। কখন সত্যিই আবেগগত সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন, আর কখন নয়। যদি আমরা বুঝতে পারি যে সবসময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা সামাজিকভাবে শেখানো আচরণ অনুযায়ী না চলেও কৌশলগতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়, তাহলে তা সহায়ক হবে।”

সম্পর্কিত