Advertisement Banner

ফুটবল মাঠের যোদ্ধা কায়সার হামিদ এবার জীবনের কঠিন লড়াইয়ে

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
ফুটবল মাঠের যোদ্ধা কায়সার হামিদ এবার জীবনের কঠিন লড়াইয়ে

কায়সার হামিদ এদেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার। মোহামেডান ও বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে খেলেছেন আশি ও নব্বইয়ের দশকে। দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন একাধিকবার। দীর্ঘদেহী কায়সার মাঠে আলাদাভাবেই নজর কাড়তেন ঝাঁকড়া চুলের কারণে। খেলা ছেড়েছেন বহু বছর। ব্যবসা–বাণিজ্যই তার এখনকার পেশা। স্ত্রী, দুই ছেলে এক মেয়ে নিয়ে সুখের সংসার।

কায়সার হামিদের মা কিংবদন্তি দাবাড়ু রানী হামিদ। বাংলাদেশের ক্রীড়াজগতে কায়সার হামিদদের পরিবারের আছে অনন্য অবদান। কিন্তু সেই কায়সার হামিদ এ মুহূর্তে তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে দাঁড়িয়ে। কায়সারের বর্তমান যুদ্ধ আদরের মেয়েকে বাঁচানোর যুদ্ধ। ফুটবল মাঠে প্রতিপক্ষের আক্রমণের সামনে আস্থার প্রতীক, অবিচল আত্মবিশ্বাসী কায়সার ঠিক জানেন না, এই পরিস্থিতি তিনি কীভাবে সামাল দেবেন।

আদরের মেয়ে কারিনা কায়সার লিভার জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে এ মুহূর্তে এভারকেয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে আছেন। কারিনাও পরিচিত মুখ। সোশ্যাল মিডিয়ায় একজন ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে তিনি নিজেকে চিনিয়েছেন। হাসিখুশি ও প্রাণবন্ত এক তরুণী। অভিনয় জগতেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ভালোভাবেই। কিন্তু হাসির আড়ালে যে নীরবে এমন জটিল রোগ বাসা বেঁধেছিল, সেটা কেউই বুঝতে পারেননি।

শনিবার লিভার জটিলতায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কারিনাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একেবারে লাইফ সাপোর্টেই নিতে হয় তাকে। এখন উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। ভীষণ ব্যয়বহুল সেই চিকিৎসা। লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করতে হবে। সেই সুবিধা বাংলাদেশে নেই। কারিনাকে নিতে হবে বিদেশে।

আজ রোববার চরচার সঙ্গে আলাপকালে কায়সার হামিদ আদরের মেয়ের চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগের কথাই জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘কারিনার লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করতে হবে। আমরা জানতাম না বাংলাদেশে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট হয় না। এখন মেয়েকে বাঁচাতে হলে বিদেশে নিতে হবে। আমরা সিঙ্গাপুর কিংবা ভারতে নিতে চাই। তবে চিকিৎসার ব্যয় অনেক। জানি না কী হবে! এত টাকা কোথায় পাব।’’

কায়সার হামিদের সঙ্গে যখন চরচার কথা হয়, তখন সাবেক এই তারকা ফুটবলার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। মেয়েকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া সারছিলেন। তার কথা, ‘‘মেয়েকে তো বাঁচাতে হবে। ও আমার অনেক আদরের। আমার প্রথম সন্তান। আমার বন্ধুই বলতে পারেন। দরকার হলে সবকিছু বিক্রি করে দেব। ওকে বিদেশে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। আমি আমার মেয়ের জন্য দেশের মানুষের দোয়া চাই।’’

কায়সার জানান, কারিনার ফ্যাটি লিভার ছিল। ওষুধপত্র চলত নিয়মিতই। কয়েকদিন ধরে একটু অসুবিধার কথাও বলেছেন তিনি। হঠাৎ করেই শনিবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসকেরা জানান, লিভার ফেইলিওরের কথা। একইসঙ্গে হেপাটাইটিস এ–তেও আক্রান্ত কায়সার–কন্যা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় মজার মজার কন্টেন্ট তৈরি করে বেশ পরিচিতি পেয়েছেন কারিনা কায়সার। একইসঙ্গে অভিনয়ের সঙ্গেও যুক্ত। চিত্রনাট্যের কাজও করেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে আছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬–২৪–৩৬’।

সম্পর্কিত