তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় দ্বিতীয় প্রজন্মের ঝলক

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় দ্বিতীয় প্রজন্মের ঝলক
শপথ নেন শামা ওবায়েদ ইসলাম ও অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। ছবি: ফেসবুক

তারেক রহমান নিজেই বিএনপির রাজনীতিতে ‘দ্বিতীয় প্রজন্ম’। প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তার রাজনীতির পরম্পরাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া খালেদা জিয়ার সন্তান তিনি। বাবা রাষ্ট্রপতি, মা প্রধানমন্ত্রী, সন্তান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, এমন উদাহরণ বাংলাদেশে আগে নেই। সে দিক দিয়ে তারেক রহমান বাংলাদেশের রাজনীতির নতুন এক ইতিহাস। এর আগে বাবার সন্তান হিসেবে প্রধানমন্ত্রিত্ব করেছেন শুধু শেখ হাসিনাই।

বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় এবার দ্বিতীয় প্রজন্মের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী আছেন। বাবা আগে মন্ত্রিত্ব করেছেন তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় আছেন এমন অন্তত ৬ জন। এরা হচ্ছেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ফারজানা শারমিন, মীর হেলালউদ্দিন, শামা ওবায়েদ ইসলাম, আফরোজা খানম রীতা ও ইশরাক হোসেন। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বিএনপির সাবেক শীর্ষ নেতা তরিকুল ইসলামের সন্তান। তরিকুল ইসলাম ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার প্রথম সরকারের আমলে ছিলেন নারী ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী। ২০০১ সালে তিনি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী। বিএনপির এই তারকা রাজনীতিবিদ ২০১৩ সালের দিকে কিছু সময়ের জন্য দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁর ছেলে অনিন্দ্য ইসলাম খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক তিনি। তার মা অধ্যাপক নার্গিস বেগমও। বিএনপির অন্যতম ভাইস চেয়ারম্যান। তাঁকে এবারের বিএনপির মন্ত্রিসভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অনিন্দ্য ইসলাম নিজেদের নির্বাচনী এলাকা যশোর–৩ আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

শামা ওবায়েদ ইসলাম বিএনপির সাবেক মহাসচিব কেএম ওবায়েদুর রহমানের কন্যা। কেএম শেখ মুজিবুর রহমানের মন্ত্রিসভায় ডাক ও তার প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তিনি খন্দকার মোশতাক আহমেদের মন্ত্রিসভারও সদস্য ছিলেন। পরে জিয়াউর রহমানের সময় তিনি প্রথমে মৎস্য ও পশুসম্পদ ও পরে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। শামা ফরিদপুর–২ আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁকে তারেক রহমান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন।

মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথ। ছবি: ফেসবুক
মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথ। ছবি: ফেসবুক

খালেদা জিয়ার ২০০১ সালের সরকারের সময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ছিলেন ফজলুর রহমান পটল। অকালপ্রয়াত এই রাজনীতিবিদের কন্যা ফারজানা শারমিন এবারের নির্বাচনে বাবার উত্তরাধিকার হিসেবে নাটোর–১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেন। এই আসন থেকেই তার বাবা ফজলুর রহমান পটল চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ফারজানা শারমিনকে নারী ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আফরোজা খানম রীতা বিএনপির সাবেক মন্ত্রী ও সাংসদ এবং শিল্পপতি হারুনার রশিদ খান মুন্নুর কন্যা। হারুনার রশীদ খান মুন্নু মানিকগঞ্জ–৩ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী ছিলেন তিনি। আফরোজা খানম রীতাকে এবার বেসমারিক বিমান চলাচলা ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী করা হয়েছে।

ইশরাক হোসেন সাদেক হোসেন খোকার সন্তান। ঢাকার সাবেক মেয়র ও যুব ও ক্রীড়াপ্রতিমন্ত্রী সাদেক হোসেন খোকা ঢাকা মহানগর বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। ১৯৯১ নির্বাচনে সাদেক হোসেন খোকা ঢাকা–৭ (সূত্রাপুর–কোতোয়ালি) থেকে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হারিয়ে দিয়েছিলেন। তার উত্তরসূরি ইশরাক হোসেন অবশ্য বিএনপির রাজনীতিতে পরিচিত মুখই। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচন করেছিলেন তিনি। যদিও জিততে পারেননি। এবারের নির্বাচনে ইশরাক ঢাকা–৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে ইশরাককে।

সিরাজগঞ্জ–৬ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এমএ মুহিত দায়িত্ব পেয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর। তিনি এক সময়ের জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতা ডা.এমএ মতিনের ছেলে। ডা. মতিন জিয়াউর রহমানের সময় বিএনপির রাজনীতিও করেছেন। জিয়া ও এরশাদ দুই সময়ই মন্ত্রী ছিলেন। এরশাদের সময় উপপ্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। সে হিসেবে বাবার মন্ত্রিত্ব করা মন্ত্রণালয়েরই প্রতিমন্ত্রী হলেন এমএ মুহিত।

বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা মীর নাসিরউদ্দিনের সন্তান মীর মোহাম্মদ হেলালউদ্দিন। তিনি এবারের নির্বাচনে চট্টগ্রাম–৫ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে। মীর মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী ছিলেন।

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীও শপথ নিয়েছেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০৯ আসনে জয় পেয়ে দুই দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরেছে বিএনপি।

সম্পর্কিত