মাস শেষ হওয়ার আগেই টাকা ফুরিয়ে যাওয়ার সমস্যা দূর করবেন যেভাবে

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
মাস শেষ হওয়ার আগেই টাকা ফুরিয়ে যাওয়ার সমস্যা দূর করবেন যেভাবে
ছবি: সংগৃহীত

আয় ভালোই করেন, আবার অযথা খরচও তেমন করেন না। কিন্তু মাস শেষে পকেটে টাকা থাকে না। অনেকেই এই সমস্যায় পড়ে থাকেন। আসল সমস্যা শুধু আয় কম হওয়া নয়, বরং টাকাটা কোথায় যাবে, সেই বিষয়ে একটি স্পষ্ট পরিকল্পনার অভাব।

এই সমস্যার একটি সহজ সমাধান হতে পারে ৭০/১০/১০/১০ সূত্র। এটি কোনো কঠোর নিয়ম নয়, তবে টাকা ব্যবস্থাপনার একটি সহজ কাঠামো। ভারতীয় গণমাধ্যম মানি কন্ট্রোলের এক প্রতিবেদনে এই সূত্রটি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

৭০/১০/১০/১০ সূত্র কী এবং কীভাবে কাজ করে

এই পদ্ধতিতে আয়কে চারভাগে ভাগ করা হয়। এই সূত্র অনুযায়ী, আয়ের ৭০ শতাংশ দৈনন্দিন কাজের জন্য রাখা হয়। এর মধ্যে বাসাভাড়া, বাজার, ইউটিলিটি বিল, যাতায়াত, বীমা, স্কুল ফি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ বর্তমান জীবনযাপনের সব খরচ।

এরপর আয়ের ১০ শতাংশ ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় রাখা হয়, যেমন অবসর তহবিল বা মিউচুয়াল ফান্ড। এগুলো হলো দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ।

সূত্র অনুযায়ী, ১০ শতাংশ ব্যয় করা হয় স্বল্পমেয়াদি সঞ্চয়ের জন্য। জরুরি তহবিল, ভ্রমণ, গৃহস্থালি সরঞ্জাম কেনা বা চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য এই অংশ রাখা হয়।

শেষ ১০ শতাংশ রাখা হয় ঋণ পরিশোধ বা ব্যক্তিগত উন্নয়নের কাজে ব্যবহারের জন্য। উচ্চ সুদের ঋণ পরিশোধ, নতুন দক্ষতা অর্জন, শিক্ষা কিংবা ভবিষ্যৎ আয় বাড়াতে সহায়ক কোনো উদ্যোগে এই অর্থ ব্যবহার করা যেতে পারে।

এই সূত্রের মূল আকর্ষণ বা কার্যকারিতা কিন্তু সংখ্যায় নয়, বরং এতে যে প্রতিটি টাকার জন্য একটি নির্দিষ্ট কাজ নির্ধারিত থাকে, সেখানে।

কেন এই পদ্ধতি কাজে আসে

সাধারণত আগে খরচ হয়, পরে সঞ্চয় করার কথা ভাবা হয়। এতে সঞ্চয় আর হয় না। এই সূত্রে আগে ঠিক করা থাকে, আয়ের কতটা খরচ করা যাবে।

যদি দেখা যায় খরচ ৭০ শতাংশের বেশি হচ্ছে, সেটি ব্যর্থতা নয়। এতে বোঝা যায় আয়ের তুলনায় খরচ বেশি, বা আয় বাড়ানোর প্রয়োজন আছে।

ধীরে ধীরে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে উঠলে আর্থিক চাপ কমে। ছোট একটি জরুরি তহবিল থাকলেও হঠাৎ বিপদে পড়লে ঋণ নিতে হয় না।

শুরু করবেন যেভাবে

এক মাসের সব খরচ লিখে রাখুন। দেখুন, এখন আপনি কেমন খরচ করছেন। একবারে বড় পরিবর্তন না করে ধীরে ধীরে সঞ্চয়ের অংশ বাড়ান। অপ্রয়োজনীয় একটি খরচ কমান বা বেতন বাড়লে সেটির কিছু অংশ সঞ্চয়ে রাখুন।

এই পদ্ধতি মানসিক চাপও কমায়। কোন খাতে খরচ করা যাবে আর কোনটায় যাবে না- এটা পরিষ্কার থাকায় টাকা নিয়ে দুশ্চিন্তা কম হয়। ৭০/১০/১০/১০ সূত্র অনেকের জন্য খরচ নিয়ন্ত্রণে আনার একটি সহজ শুরু হতে পারে।

সম্পর্কিত