Advertisement Banner

পৃথিবীতে আটকে যাচ্ছে তাপ, প্রভাব হাজার বছর স্থায়ী হতে পারে

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
পৃথিবীতে আটকে যাচ্ছে তাপ, প্রভাব হাজার বছর স্থায়ী হতে পারে
ছবি: সংগৃহীত

গত বছর পৃথিবীতে আটকে থাকা তাপের পরিমাণ রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে। এর প্রভাব হাজার হাজার বছর স্থায়ী হতে পারে বলে আজ সোমবার সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘের আবহাওয়া ও জলবায়ু সংস্থা বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) তাদের প্রধান বার্ষিক প্রতিবেদন ‘স্টেট অব দ্য গ্লোবাল ক্লাইমেটে’ এই তথ্য জানিয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এই খবর জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস।

ডব্লিউএমও জানায়, ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ ১১টি বছরই ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে। গত বছরটি রেকর্ড অনুযায়ী দ্বিতীয় বা তৃতীয় উষ্ণতম বছর ছিল। ১৮৫০-১৯০০ সময়ের গড়ের তুলনায় ওই বছর তাপমাত্রা ছিল প্রায় ১ দশমিক ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি।

প্রথমবারের মতো ডব্লিউএমও-এর এই প্রতিবেদনে পৃথিবীর ‘এনার্জি ইমব্যালান্স’ বা শক্তির ভারসাম্যহীনতার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটি পৃথিবীতে প্রবেশ করা ও বের হয়ে যাওয়া শক্তির হারের পার্থক্য নির্দেশ করে।

জেনেভাভিত্তিক সংস্থাটি জানায়, স্থিতিশীল জলবায়ুতে সূর্য থেকে আসা শক্তি ও বের হয়ে যাওয়া শক্তির পরিমাণ প্রায় সমান থাকে। কিন্তু কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইডের মতো তাপ ধারণকারী গ্রিনহাউস গ্যাসের ঘনত্ব কমপক্ষে আট লাখ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোয় এই ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে।

ডব্লিউএমও জানায়, ১৯৬০ সালে পর্যবেক্ষণ শুরু হওয়ার পর থেকে, পৃথিবীর শক্তির ভারসাম্যহীনতা বেড়েই চলেছে, বিশেষ করে গত ২০ বছরে। ২০২৫ সালে এটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়।

সমুদ্রে তাপের রেকর্ড

ডব্লিউএমও প্রধান সেলেস্তে সাউলো জানান, অতিরিক্ত তাপের ৯১ শতাংশের বেশি সাগরে জমা হচ্ছে।

ডব্লিউএমও জানায়, ২০২৫ সালে সমুদ্রের তাপমাত্রা নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে। ১৯৬০-২০০৫ সময়ের তুলনায় ২০০৫-২০২৫ সময়ে উষ্ণতা বৃদ্ধির হার দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, সমুদ্রের উষ্ণতা বৃদ্ধি সামুদ্রিক প্রতিবেশের অবনতি, জীববৈচিত্র্য হ্রাস ও কার্বন শোষণ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এটি উষ্ণ ও উপ-উষ্ণমণ্ডলীয় ঝড়কে শক্তিশালী করে। মেরু অঞ্চলের সমুদ্রের বরফও দ্রুত গলিয়ে দেয়। ইতোমধ্যে অ্যান্টার্কটিকা ও গ্রিনল্যান্ডের বরফের স্তর উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে।

ডব্লিউএমওর বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জন কেনেডি বলেন, বৈশ্বিক আবহাওয়াতে এখনো লা নিনার প্রভাব রয়েছে। এটি একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু পরিস্থিতি, যা প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের মধ্য ও পূর্ব অংশে পৃষ্ঠতলের তাপমাত্রা কমিয়ে দেয়। এতে বাতাস, চাপ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন আসে।

লা নিনা ও এর বিপরীত উষ্ণ প্রবণতা এল নিনোর মধ্যে পর্যায়ক্রমে পরিবর্তন ঘটে। মাঝখানে থাকে নিরপেক্ষ অবস্থা।

কেনেডি জানান, পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি বছরের মাঝামাঝি নিরপেক্ষ অবস্থা বিরাজ করতে পারে। বছরের শেষের দিকে এল নিনো গড়ে উঠতে পারে। তিনি বলেন, “এটি হলে ২০২৭ সালে আবারও উচ্চ তাপমাত্রা দেখা যেতে পারে।”

সম্পর্কিত