Advertisement Banner

বাংলাদেশে সিসা দূষণ রোধে নীতি জোরদার ও খাত সংস্কারে উদ্যোগ

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
বাংলাদেশে সিসা দূষণ রোধে নীতি জোরদার ও খাত সংস্কারে উদ্যোগ
ছবি: পিওর আর্থ বাংলাদেশ

সিসা দূষণ এখনও দেশে একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে, যার প্রধান উৎস লেড অ্যাসিড ব্যাটারি (এলএবি) উৎপাদন ও পুনর্ব্যবহার। এই সমস্যা সমাধানে কম নির্গমনকারী গলনকারখানার জন্য ভর্তুকি ও ব্যবহৃত ব্যাটারি সংগ্রহে সহায়তা, ব্যাটারি বিক্রিতে স্মেল্টিং ফি আরোপ, ব্যাটারির ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিত করতে পাবলিক রেজিস্ট্রি চালু, ব্যবহৃত ব্যাটারি রপ্তানি সহজ করা এবং সিসা আমদানিতে শুল্ক বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন উদ্যোগের সুপারিশ করা হয়েছে।

গত বুধবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং পিওর আর্থ-এর যৌথ উদ্যোগে “লেড অ্যাসিড ব্যাটারি সার্কুলার ইকোনমি উইথ ফর্মাল অ্যান্ড ইনফর্মাল প্রসেসেস” শীর্ষক একটি স্টেকহোল্ডার পরামর্শ সভা পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে পিওর আর্থ।

সভায় সাসটেইনেবল ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল পলিউশন (এসএমইপি) প্রকল্পের অধীনে অবৈধ সিসা-ব্যাটারি রিসাইক্লিং থেকে সিসা দূষণ কমাতে চলমান গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয় এবং উপস্থিত বক্তারা ব্যবহৃত সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারির ‘সার্কুলার ম্যানেজমেন্ট’ -এর খাতিরে সম্ভাব্য সমাধান ও সুপারিশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান সঞ্চালিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় সচিব মোহাম্মদ রায়হান কাওছার। সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম। সভায় অতিথি হিসেবে ছিলেন, পিওর আর্থ বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মিতালি দাশ, জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনের ইকোনমিক্স অ্যাফেয়ার্স অফিসার হেনরিক পাচিনি,এবং সভায় গবেষণা ও পলিসি রিকমেন্ডেশন উপস্থাপনা করেন স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইয়ন কিম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. নুরুন নাহার এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জিয়াউল হক। এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন সৈয়দ ফরহাদ হোসেন, পরিচালক (মনিটরিং ও এনফোর্সমেন্ট), মুহাম্মদ সোলায়মান হায়দার, পরিচালক (ঢাকা ল্যাবরেটরি) এবং মোহাম্মদ হাসান হাছিবুর রহমান, পরিচালক (পরিকল্পনা) সহ অন্যান্য সম্মানিত কর্মকর্তাবৃন্দ।

প্রযুক্তিগত অধিবেশনে অধ্যাপক এরিকা প্ল্যামবেক ও অধ্যাপক ইয়ন কিম যৌথ উপস্থাপনায় আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক পুনর্ব্যবস্থা, বাজার প্রণোদনা ও নীতিগত কাঠামোর প্রভাব তুলে ধরেন। প্রধান সুপারিশগুলোর মধ্যে ছিল- কম নির্গমনকারী গলনকারখানার জন্য ভর্তুকি ও ব্যবহৃত ব্যাটারি সংগ্রহে সহায়তা, ব্যাটারি বিক্রিতে স্মেল্টিং ফি আরোপ, ব্যাটারির ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিত করতে পাবলিক রেজিস্ট্রি চালু, ব্যবহৃত ব্যাটারি রপ্তানি সহজ করা এবং সিসা আমদানিতে শুল্ক বৃদ্ধি।

অনুষ্ঠানে পিওর আর্থ বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সিসা দূষণের প্রভাব ও তা মোকাবিলায় চলমান উদ্যোগ তুলে ধরেন। পরবর্তী উন্মুক্ত আলোচনায় অংশীজনরা নীতিগত প্রভাব ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে মতামত দেন।

সভাপতির বক্তব্যে ড. ফাহমিদা খানম বলেন, প্রমাণভিত্তিক এ সুপারিশগুলো সময়োপযোগী এবং এগুলো নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হবে। তিনি আরও বলেন, যেহেতু আনুষ্ঠানিক খাতে উৎপাদিত অনেক ব্যাটারির উৎস অনানুষ্ঠানিক খাত, তাই ধাপে ধাপে এ খাতকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোয় আনা জরুরি।

সম্পর্কিত