Advertisement Banner

জ্বালানিতে ভর্তুকি, বাড়তে পারে বাজেট ঘাটতি: অর্থমন্ত্রী

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
জ্বালানিতে ভর্তুকি, বাড়তে পারে বাজেট ঘাটতি: অর্থমন্ত্রী
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: বাসস

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানিতে অতিরিক্ত ৩৬ হাজার কোটি টাকা ভুর্তকি দিতে হবে। এ জন্য বাজেট ঘাটতি বাড়তে পারে।

আজ শুক্রবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।

এ বিধিতে কোনো মন্ত্রী স্পিকারের অনুমতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিবৃতি দিতে পারেন। এই বিবৃতি নিয়ে পরে প্রশ্ন করা যায় না।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমরা দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১০ দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ শুরু হয়েছে; যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার সরবরাহ শৃঙ্খল এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। জ্বালানি তেল ও এলএনজির মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারে দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।”

আমির খসরু বলেন, “এর প্রভাবে সরকারকে চলতি অর্থবছরের মার্চে বিদ্যুৎ জ্বালানি এলএনজিতে নির্ধারিত ভর্তুকির চেয়ে অতিরিক্ত ভর্তুকি প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা দিতে হবে। এটি একদিকে যেমন সরকারের বাজেট ঘাটতি বাড়ানোর সম্ভাবনার দিকে যাবে। অন্যদিকে সমপরিমাণ প্রায় তিন বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আমদানি মূল্য পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর প্রভাব ফেলবে।”

জনগণের কষ্টের কতা মাথায় রেখে সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করেনি উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, “একটি আমদানি-নির্ভর অর্থনীতি হিসেবে বাংলাদেশ এই ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার বাইরে নয়। বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে সরকারের অতিরিক্ত ভর্তুকি দেওয়ার প্রয়োজন হলেও জনগণের কষ্টের কথা মাথায় রেখে সরকার এখন পর্যন্ত মূল্য সমন্বয় না করে পূর্বের মূল্যই বহাল রেখেছে। এই প্রতিকূল বৈশ্বিক পরিবেশের মুক্তি আমাদের অর্থনীতিকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে এবং আমরা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত।”

নতুন বাজেট প্রণয়নের কথা জানিয়ে আমির খসরু বলেন, “আমরা অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা স্থাপন, নানামুখী চাপ মোকাবিলা করে ২০২৬-২৭ অর্থবছর বাজেট প্রণয়ের কাজ হাতে নিয়েছি। নবনির্বাচিত সরকারের প্রথম বাজেটের কাছে জনগণের যে প্রত্যাশা, সে সম্বন্ধে আমরা সম্পূর্ণ সচেতন। অন্যদিকে জনগণ উত্তরাধিকার হিসেবে পাওয়া বিভিন্ন সমস্যার কারণে আমাদের সীমা আমাদের সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় রাখবেন এটাও আমরা আশা করি।”

অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমাদের এবারের লক্ষ্য কেবল প্রবৃদ্ধি নয় বরং একটি টেকসই স্বচ্ছ অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা।”

সম্পর্কিত