Advertisement Banner

শহীদ মিনারে টিকটকার রাকিব হত্যা: পিস্তলসহ গ্রেপ্তার ৫

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
শহীদ মিনারে টিকটকার রাকিব হত্যা: পিস্তলসহ গ্রেপ্তার ৫
রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে টিকটকার রাকিবুল ইসলাম রাকিব হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় একটি বিদেশি পিস্তল ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে মাসুদ আলম বলেন, “গত ১৫ মার্চ রাত ৯টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। রাকিব মোটরসাইকেল নিয়ে শহীদ মিনার এলাকায় গেলে আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে গেলে হামলাকারীদের দুজন চাপাতি ও ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে নিশ্চিত করে তার মৃত্যু।”

ডিসি মাসুদ আলম আরও জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সরাসরি তিন থেকে চারজন হামলায় অংশ নেয়। ঘটনাস্থল থেকে পালানোর সময় স্থানীয় জনতার সহায়তায় রাফিন ওরফে শিহাব নামে একজনকে আটক করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। যদিও শুরুতে সে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছিল, পরে প্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তৎপরতায় পুরো চক্রের বিষয়ে নিশ্চিত হয় পুলিশ।

বিষয়টি নিয়ে মাসুদ আলম আরও বলেন, “ঘটনার রাতেই ডিএমপির থানা পুলিশ ও সিটিটিসি (কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) ইউনিটের দুটি দল খুলনায় অভিযান চালায়। তদন্তে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা খুলনা অঞ্চল থেকে ভাড়ায় পরিকল্পিতভাবে ঢাকায় আসে। ঘটনার দুই দিন আগে তারা রাজধানীর ফকিরাপুল ও সোনারগাঁও হোটেলে অবস্থান নেয় এবং রাকিবের চলাফেরা রেকি করে।”

পুলিশ জানায়, খুলনার লবনচরা এলাকা থেকে রাফিন ও শাহরিয়ার নাজিম জয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সাগর নামে আরেকজনকে, যিনি পুরো অপারেশনের সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছিলেন বলে দাবি পুলিশের। পরে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থেকে সাকা ওরফে সাগরকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাগরের কাছ থেকে চার রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের ধারণা, উদ্ধার হওয়া পিস্তলটি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে। অস্ত্রটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। এছাড়া ঘটনাস্থলে ব্যবহৃত তিনটি দেশীয় ধারাল অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।

ভাড়াটে খুনি ও ‘বি কোম্পানি’র সংশ্লিষ্টতা

ডিসি মাসুদ আলম বলেন, “গ্রেপ্তার হওয়া চারজনই ভাড়াটে হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত। তারা খুলনা অঞ্চলের বাসিন্দা। তদন্তে উঠে এসেছে, তাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডটি সমন্বয় করা হয়।” সালাউদ্দিন একটি সন্ত্রাসী চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে দাবি করেন তিনি।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সংঘটিত বিভিন্ন ‘কিলিং মিশন’-এ এই চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। অর্থের বিনিময়ে তারা হত্যাকাণ্ড ঘটাতে দ্বিধা করে না বলেও মন্তব্য করেন ডিসি।

হত্যার পেছনে ব্যক্তিগত সম্পর্কজনিত বিরোধ থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। ডিসি মাসুদ আলম বলেন, “রাকিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে কনটেন্ট তৈরি করতেন এবং তার বড় বন্ধু পরিমণ্ডল ছিল। তিনি বিবাহিত হলেও একাধিক নারীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে।”

তদন্তে ‘জান্নাত’ ওরফে ‘মুন’ নামে এক তরুণীর নাম এসেছে। জান্নাতের স্বামী সাজিদ, তিনি খুলনা অঞ্চলের বাসিন্দা এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশের দাবি। রাকিব ও জান্নাতের সম্পর্ক নিয়ে সাজিদের আপত্তি ও হুমকির বিষয়টি তদন্তে উঠে এসেছে। পুলিশ ধারণা করছে, এ বিরোধ থেকেই হত্যার পরিকল্পনা হতে পারে।

তবে এ বিষয়ে তদন্ত এখনো চলমান। ডিসি আরও বলেন, “আমরা এখনো পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ করিনি। পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও সাত-আটজন জড়িত আছে বলে শনাক্ত করেছি। সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।”

মাসুদ আলম আরও বলেন, “সাজিদসহ যাদের নাম এসেছে, তারা কেউই ধরাছোঁয়ার বাইরে নয়। তদন্তের স্বার্থে এখনই সব তথ্য প্রকাশ করা যাচ্ছে না।”

সম্পর্কিত