সেদিন কী ঘটেছিল ডেইলি স্টারে, যা বলছে বিবিসি

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
সেদিন কী ঘটেছিল ডেইলি স্টারে, যা বলছে বিবিসি
ডেইলি স্টারের অফিসে হামলা চালানো হয়। ছবি: চরচা

‘‘আমি আর নিঃশ্বাস নিতে পারছি না। চারপাশে অনেক ধোঁয়া। আমি ভেতরে আটকে আছি। তোমরা আমাকে মেরে ফেলছো।’’

১৮ ডিসেম্বর মধ্যরাত পেরিয়ে যাওয়ার পর ডেইলি স্টারের সাংবাদিক জায়মা ইসলাম ফেসবুকে এটি লিখেছিলেন। তবে তিনি কোনো রণক্ষেত্র থেকে সংবাদ দিচ্ছিলেন না।

তিনি ঢাকার নিজস্ব নিউজ রুমের ছাদে আটকা পড়েছিলেন। তিনি ছিলেন সেই ২৮ জন সাংবাদিক ও কর্মীর একজন, যারা উগ্রজনতা আগুন দেওয়ার পর ডেইলি স্টার ভবনে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল।

সেদিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশের বৃহত্তম ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদক জায়মা ইসলাম শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু নিয়ে লিড স্টোরি তৈরি করছিলেন। হাদি ছিলেন একটি যুব আন্দোলনের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। ২০২৪ সালের আগস্টে ওই আন্দোলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত হন।

ঢাকার একটি মসজিদের বাইরে মুখোশধারী হামলাকারীদের গুলিতে আহত হওয়ার পর হাদি সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে মারা যান।

জায়মা যখন প্রতিবেদনটি লিখছিলেন, তখনই নিউজ রুমে প্রথম সতর্কবার্তা আসে। তিনি জানতে পারেন, একটি বিশাল মিছিল রাজধানীর মিডিয়া পাড়া হিসেবে পরিচিত কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ের দিকে এগিয়ে আসছে।

আরেকটি জনতা এগিয়ে যাচ্ছিল ডেইলি স্টারের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় বাংলা দৈনিক প্রথম আলোর কার্যালয়ের দিকে।

বিক্ষোভকারীরা পত্রিকা দুটির বিরুদ্ধে হাদি হত্যার ক্ষেত্র তৈরি করার অভিযোগ আনে। এই অভিযোগের কোনো প্রমাণ নেই, কিন্তু তখনকার উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই অভিযোগ ছিল বেশ সংবেদনশীল।

ডেইলি স্টারে আগুন ধরিয়ে দেয় উগ্র জনতা। ফাইল ছবি
ডেইলি স্টারে আগুন ধরিয়ে দেয় উগ্র জনতা। ফাইল ছবি

হাদির হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই হুমকি আসছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পত্রিকা দুটিকে ভারতীয় এজেন্ট হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। অভিযোগ করা হয় যে তারা এই হত্যাকাণ্ডকে খাটো করে দেখাচ্ছে। এই অভিযোগগুলো খোদ হাদির ভারত-বিরোধী বক্তব্যের মাধ্যমে আরও জোরালো হয়ে ওঠে। এর আগে পত্রিকা দুটির কার্যালয়ের সামনেও বিক্ষোভ হয়েছিল।

ডেইলি স্টার-এ জায়মা ইসলাম এবং তার সহকর্মীরা দ্রুত কাজ শেষ করে পত্রিকাটি ছাপানোর জন্য (প্রিন্টে পাঠানোর জন্য) আপ্রাণ চেষ্টা করছিলেন। তিনি বিবিসিকে বলেন, ‘‘আমরা কাজ থামাইনি। কোনো কিছুর জন্যই না। প্রতিবার হুমকির মুখে যদি আমরা কাজ থামিয়ে দিতাম, তবে অনেক দিনই আমাদের পত্রিকা ছাপা হতো না।’’

রাত বারোটা বাজার পাঁচ মিনিট পর তিনি তার প্রতিবেদনটি জমা দিয়ে নিচতলার দিকে রওনা হন। সেদিনের ঘটনা স্মৃতিচারণ করে জায়মা বলেন, ‘‘ কম্পিউটার বন্ধ করার পর ঠিক সেই শব্দটা এল—কাঁচ ভাঙার প্রচণ্ড শব্দ। এটি কোনো বিক্ষিপ্ত শব্দ ছিল না। এটি ছিল প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত। বাইরে যে অনেক মানুষ জড়ো হয়েছে, তা শব্দ শুনেই বোঝা যাচ্ছিল।’’

কেউ কেউ ভবন থেকে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন। অন্যরা নিচ থেকে ধেয়ে আসা শোরগোল শুনে পিছিয়ে আসেন। দুইজন নারীসহ মোট ২৮ জন সাংবাদিক ও কর্মী তখনও ভেতরে আটকা পড়ে ছিলেন।

কেউ কেউ পরামর্শ দিয়েছিলেন নিউজ রুমের ভেতরে নিজেদের তালাবন্ধ করে রাখার। জায়মা ইসলাম এর বিরোধিতা করেন। এই সাংবাদিক বিবিসিকে বলেন, ‘‘আমাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন নিশ্চিত ছিলাম যে, আমাদের এমন কোনো জায়গায় যেতে হবে যেখানে খোলা বাতাস আছে এবং যেখান থেকে ফায়ার সার্ভিসের কাছে পৌঁছানো সহজ হবে।’’

জায়মা বলেন, ‘‘আমরা জানতাম তারা ভবনটিতে আগুন ধরিয়ে দেবে। তাই আগুন লাগার আগেই আমরা ছাদের দিকে রওনা হই।’’

তারা সিঁড়ির দিকে এগিয়ে যান এবং অন্ধকারে নয় তলা পর্যন্ত ওপরে ওঠেন। স্থানীয় সময় রাত ১২টা ২৪ মিনিট ওপরে ওঠার সময়ও তিনি পুলিশের সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন। রাত ১২:৫০ মিনিটের মধ্যে ধোঁয়া চারদিক দিয়ে তাদের ঘিরে ফেলে।

জায়মা বলেন, ‘‘আমি যদি নিজের চোখের সামনে হাত রাখতাম, তাহলেও তা দেখতে পাচ্ছিলাম না। ধোঁয়াটা ধূসর ছিল না; ওটা ছিল একদম কুচকুচে কালো।’’

ছাদের ওপর বড় বড় পাম গাছের টব দিয়ে সাজানো একটি ছোট্ট বাগান ছিল। তারা ছাদের লোহার দরজাটি আটকে দিলেন এবং ভারী টবগুলো টেনে এনে দরজার সামনে স্তূপ করে রাখলেন। জায়মা বলেন, ‘‘ফায়ার এক্সিট বা জরুরি নির্গমন পথ সাধারণত কখনোই তালাবদ্ধ করা হয় না। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে উন্মত্ত জনতা আমাদের কাছে পৌঁছাতে ওই পথটিই ব্যবহার করতে যাচ্ছিল।’’

ছাদ থেকে আটকে পড়া সাংবাদিকরা নিচে ভিড় করা জনতাকে দেখতে পাচ্ছিলেন। জায়মা বলেন, রেলিংয়ের পাশে ছিল মোশন-অ্যাক্টিভেটেড লাইট (যা নড়াচড়া টের পেলে জ্বলে ওঠে)। একটি ভুল পদক্ষেপেই সেগুলো জ্বলে উঠে তাদের উপস্থিতির জানান দিয়ে দিতে পারত।

পনেরো মিনিট পর ভবনটিতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।

ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ডেইলি স্টার ভবনে আগুন দেয় উগ্র জনতা। ছবি: চরচা
ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ডেইলি স্টার ভবনে আগুন দেয় উগ্র জনতা। ছবি: চরচা

জায়মা বলেন, তারা ঠিক কখন আগুন ধরিয়েছিল তা আমি নিশ্চিত করে বলতে পারব না। তবে আমি শুধু এটুকু জানি: রাত ১২:৫০ মিনিটের দিকে ধোঁয়া এত ঘন হয়ে গিয়েছিল যে, নিজের চোখের সামনে নিজের হাতও আমি দেখতে পাচ্ছিলাম না।

নিচে লাগানো সেই আগুন লিফটের ফাঁপা জায়গা (এলিভেটর শ্যাফট) দিয়ে চিমনি স্টাইলে হু হু করে উপরে উঠে আসছিল।

ছাদে একটি পানির কল ছিল; অনেকেই শার্ট এবং রুমাল ভিজিয়ে মুখে চেপে ধরলেন। তারা উপুড় হয়ে শুয়ে পড়লেন যাতে মেঝে ঘেঁষা পরিষ্কার বাতাস পাওয়া যায়। অন্ধকারের মধ্যে তারা একে অপরকে ডাকছিলেন। ধোঁয়ার মাঝে তারা শ্বাস নেওয়ার মতো কিছু খুঁজছিলেন।

নিচে থাকা সহকর্মীরা, যারা ভিড়ের মধ্যে মিশে গিয়েছিলেন, তারা আতঙ্কের সাথে বার্তা পাঠাচ্ছিলেন: কিছু হামলাকারীর কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ও ককটেল রয়েছে এবং তারা হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করছে।

ছাদের ওপর কয়েকজন ভেঙে পড়লেন। তারা বাবা-মাকে ফোন করছিলেন, বিদায় নিচ্ছিলেন, ক্ষমা চাইছিলেন। কিন্তু জায়মা তা করেননি।

একজন ব্যক্তি ছাদ থেকে দুই তলা নিচে পাশের ভবনে লাফ দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন।

জায়মা বলেন, ‘‘আমাদের তাকে সেটি করা থেকে আটকাতে হয়েছিল।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘একজন সহকর্মী আমার সামনেই এলিয়ে পড়লেন। ঠিক তখনই আমি ভয় পেয়ে যাই। আমি ভাবলাম—হয়তো আমরা প্রথম মৃত্যুটি দেখতে যাচ্ছি।’’ তখনই তিনি সেই ধোঁয়া আর অন্ধকারের মধ্যে তার আতঙ্কিত ফেসবুক পোস্টটি করেছিলেন।

এক পর্যায়ে জায়মা তার বাবা-মাকে ফোন করেন। তার বাবা একজন নাবিক এবং মা একজন শিক্ষক, যারা তখন ঢাকার বাইরে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে ছিলেন।

জায়মা ও তার পরিবারের কোনো দীর্ঘ বিদায় বা আবেগী কথা ছিল না। তিনি বলেন, ‘‘আমি ওমন ধরনের মানুষ নই।’’

তিনি কথাগুলো সংক্ষিপ্ত রেখেছিলেন। যেমন: আমি এখানে আছি। আমি আটকে গেছি। আমরা একটা ব্যবস্থা করব।

জায়মা বলেন, ‘‘বাংলাদেশে সাংবাদিকতা করা মানে কখনোই নিরাপদ থাকা নয়। আমরা প্রাণনাশের হুমকিতে অভ্যস্ত। যখন এমন হুমকি আসে, আমরা শুধু সতর্কতা অবলম্বন করি।’’

ভোর সাড়ে চারটায় সেনাবাহিনী উদ্ধার অভিযানে আসে। তারা একটি বেষ্টনী তৈরি করে উত্তেজিত জনতাকে কয়েক মিনিটের জন্য আটকে রাখে। ছাদে আটকে পড়া কর্মীরা জরুরি সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে পেছনের একটি দেয়াল টপকে পালাবেন এমনটাই ছিল পরিকল্পনা।

আর ঠিক সেটিই ঘটেছিল।

কর্মীরা শেষ পর্যন্ত ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন নয় তলা সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত নিচে নেমে আসেন—কারো মুখে মাস্ক ছিল না, কেবল ভেজা শার্ট আর জ্যাকেট মুখে চেপে ধরেছিলেন। দমকলকর্মীরা যাতায়াতের পথের জানালাগুলো ভেঙে দিয়েছিল, যা সামান্য হলেও ধোঁয়া বের হতে সাহায্য করেছিল।

নিচে পেছনের দেয়ালের সঙ্গে একটি মই লাগানো ছিল। দেয়ালের ওপাশে ওপর থেকে লাফিয়ে পড়ার আঘাত সামলাতে সেনাবাহিনী একটি ভাঙা রিকশাভ্যান রেখেছিল।

জায়মা বলেন, ‘‘আমরা মই দিয়ে উপরে উঠে রিকশাভ্যানটির ওপর লাফিয়ে পড়ি।’’

কয়েকজন আহত হয়েছিলেন—কারণ সবাই তরুণ বা চটপটে ছিলেন না কিন্তু এছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। তারা টানা চার ঘণ্টা ওই ছাদে আটকে ছিলেন।

ডেইলি স্টারের অনুসন্ধানী এই সাংবাদিক সেই ঘটনার স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘‘ যখন আমি বের হই, আমার ফোনের চার্জ অনেক আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। বিশ্বাসই হচ্ছিল না যে প্রায় ভোর হয়ে এসেছে। ওই ছাদের ওপর সময়টা যেন এক অন্তহীন মাঝরাত বলে মনে হচ্ছিল।’’

প্রথম আলো ভবনে আগুন দেওয়ার ঘণ্টা খানিক পর ডেইলি স্টারে আগুন দেওয়া হয়। ফাইল ছবি
প্রথম আলো ভবনে আগুন দেওয়ার ঘণ্টা খানিক পর ডেইলি স্টারে আগুন দেওয়া হয়। ফাইল ছবি

একটি পার্শ্ববর্তী গলিতে যা ছিল গা ছমছমে শান্ত। সেখানে তারা লুকিয়ে থাকেন। ততোক্ষণে উন্মত্ত জনতা নিউজ রুম তছনছ করছিল। সেই হইচই আর লুটপাটের মাঝেই তারা কৌশলে সটকে পড়েন। সেনাবাহিনীর গাড়ি তাদের কাছের একটি ক্যাম্পে পৌঁছে দেয়।

জায়মা বাসায় ফিরে বাবা-মাকে ফোন করেন এবং কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নিয়ে নেবুলাইজার নেওয়ার জন্য হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান।

জায়মা বলেন, ‘‘আমি একদিনের ছুটি নিয়েছিলাম। আমার শরীরে কিছুটা কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়া হয়েছিল।’’

ডেইলি স্টার সেদিন সকালে ছাপা হয়নি—যা তাদের ৩৪ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার। তবে এই স্থবিরতা স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ১৫ ঘণ্টা। অফিসটি ভস্মীভূত এবং ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় কর্মীরা দূরবর্তী স্থান (রিমোটলি) থেকে কাজ করেন। দুই সপ্তাহের মধ্যে সম্পাদকীয় বিভাগের দুটি তলা মেরামত করা হয়। তারা আবারও ডেস্কে ফিরে আসেন।

প্রায় তিন মাস পার হয়ে গেলেও ভবনটির রন্ধ্রে রন্ধ্রে সেই হামলার ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে: বিমাকারীরা ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করছে, প্রবেশপথে কাঁচের স্তূপ জমে আছে, অডিটোরিয়ামটি পুড়ে গেছে। বিদেশি কূটনীতিকরা এখনও ধ্বংসযজ্ঞ পরিদর্শনে আসছেন, যা মনে করিয়ে দেয় যে এই হামলার প্রতিধ্বনি নিউজ রুমের গণ্ডি ছাড়িয়ে অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছেছে।

ডেইলি স্টারের আসবাবপত্র ভেঙে ফেলা হয়েছে, আর্কাইভ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী ছিঁড়ে ফেলে আগুন দেওয়া হয়েছে। নিচতলার অডিটোরিয়ামটি পুরোপুরি ভস্মীভূত, ক্যাফেটেরিয়া লুট করা হয়েছে। স্টেশনারি স্টোরগুলো আগুনে পুড়ে গেছে; কনফারেন্স হল, লাইব্রেরি এবং ১০০ আসনের অডিটোরিয়াম ভাঙচুর করা হয়েছে; ভিডিও স্টুডিওটি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

ফটোগ্রাফি বিভাগ এবং ৩৫ বছরের আর্কাইভ সবকিছু খালি করে ফেলা হয়েছে, ক্যামেরা এবং হার্ডড্রাইভগুলো চুরি হয়েছে। প্রশাসনিক অফিসগুলোতে লুটপাট চালানো হয়েছে। হামলাকারীরা সপ্তম তলা পর্যন্ত উঠে কাঁচ ভাঙচুর করেছিল। সম্ভবত ঘন ধোঁয়ার কারণেই সার্ভার রুমটি রক্ষা পেয়েছে।

তবুও পরের দিন থেকেই সাংবাদিকরা বাড়ি থেকে কাজ শুরু করেন; ভাঙা কাঁচ বদলে ফেলা হয়; ল্যাপটপের ব্যবস্থা করা হয়; ষষ্ঠ তলার নিউজ রুমটি কোনোমতে মেরামত করা হয়।

২০ ডিসেম্বরের সকালের পত্রিকাটি একটি মাত্র শব্দের শিরোনাম নিয়ে প্রকাশিত হয়-‘অপরাজেয়’ (Unbowed)। আট পৃষ্ঠার সেই সংষ্করণটির বেশিরভাগই লিখেছিলেন এবং সম্পাদনা করেছিলেন সেইসব সাংবাদিকরা, যারা আগের রাতটি একটি ভবনের ছাদে কাটিয়েছিলেন।

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক কামাল আহমেদ বলেন, ‘‘যে মানুষগুলো সেখানে আটকা পড়েছিলেন এবং নিজের প্রাণের ভয়ে ছিলেন, তারা মাত্র ১৫ ঘণ্টা পরেই কাজ শুরু করে দেন। এই যে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি—আমরা হাল ছাড়ব না।’’

ডেইলি স্টার তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ ডলার অনুমান করছে। হামলার প্রায় তিন মাস পার হয়ে গেলেও, এখন পর্যন্ত কেবল ঘটনার পরপরই করা ৩৭ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। ডেইলি স্টারের মামলায় ১১ জন এবং প্রথম আলোর মামলায় ২৬ জন। পুলিশ বলছে, তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সহিংসতায় উস্কানি দেওয়া এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছে, কিন্তু তাকে এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি। কে বা কারা এই হামলার পরিকল্পনা ও পরিচালনা করেছিল এবং কেন করেছিল—তা এখনও অস্পষ্ট।

জায়মাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ওই হামলার রাতটিই কি তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বা উল্লেখযোগ্য রাত ছিল কি না? তিনি মাথা নেড়ে অসম্মতি জানান।

জায়মা বলেন, ‘‘বাংলাদেশ কোনো যুদ্ধক্ষেত্র নয়। কিন্তু একটি গণতন্ত্রে সাংবাদিকদের যে ধরনের অধিকার এবং সুরক্ষা পাওয়ার কথা, বাংলাদেশ তা দেয় না।’’

এই সাংবাদিক বলেন, ‘‘আমরা একটি রাত পার করেছি। আমরা প্রয়োজনে আরও একটি রাত পার করতে পারব।’’

এরপর তিনি এমন একটি কথা বললেন যা বিদ্রোহের চেয়ে অভ্যাসের মতোই বেশি শোনায়। জায়মা বলেন, ‘‘ওদের আসতে দিন আমাদের দিকে।’’

সম্পর্কিত