Advertisement Banner

আদ-দ্বীন হাসপাতালের গাফিলতিতেই ৬ শিশুর মৃত্যু: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
আদ-দ্বীন হাসপাতালের গাফিলতিতেই ৬ শিশুর মৃত্যু: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
ছবি: সংগৃহীত

এসির গ্যাস লিকেজ নয়, আদ-দ্বীন হাসপাতালের গাফিলতিতেই ৬ শিশু মারা গেছে। পাশাপাশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

গত বুধবার রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালে হঠাৎ ৬ নবজাতক মারা যায়। যাদের বয়স এক থেকে তিন দিনের মধ্যে। শিশুর স্বজনদের অভিযোগ ছিল, এসির গ্যাস লিকেজ হয়ে শিশুরা মারা গেছে। তবে সেই ওয়ার্ড থেকে আলামত সংগ্রহ করে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটসহ একাধিক সংস্থার বিশেষ দল এসির গ্যাসের উপস্থিতি পায়নি।

ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের বিশেষায়িত দল বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট অত্যাধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করে গ্যাস লিকেজের বিষয়টি নিশ্চিতে কাজ করে। ওয়ার্ডের শীততাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রে (এসি) কোন ত্রুটিও ধরা পড়েনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা চরচাকে বলেন, ‘‘এসির চেম্বারে বিউটেন গ্যাস থাকে। তবে ওয়ার্ডের আমরা তার উপস্থিতি আমরা পাইনি।’’

এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা চরচাকে জানিয়েছেন, মূলত হাসপাতালের কক্ষটি নির্মাণে ত্রুটি, দায়িত্বরত নার্সদের চূড়ান্ত অবহেলা এবং গাফিলতিতেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘‘মূলত ওয়ার্ডে বাতাস চলাচলের জন্য কোন জায়গা নেই। এসি বন্ধ থাকায় সেখানে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়। নবজাতকদের অক্সিজেনের সংকট দেখা দিলে দায়িত্বরত নার্সদের আরও অ্যাকটিভ হওয়ার কথা ছিল, তবে তা হননি তারা। বাচ্চাদের তাৎক্ষনিক এনআইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন ছিল, এক্ষেত্রেও পদক্ষেপ নিতে যথেষ্ট সময় নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে হাসপাতালের চরম অব্যবস্থাপনাকেই আমরা দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে দেখছি।’’

এদিকে, হাসপাতালের কক্ষটি বদ্ধ হওয়ায় এটিকে ব্যবহার করা উচিত হয়নি বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান। তিনি বলেন, ‘‘যেখানে বাচ্চাগুলো মারা গেছে, সেখানে আমরা কোনো ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থাই দেখিনি। সেখানে এসি চলে। যদি এসিগুলো হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলেও এটা কিন্তু খুব এই কক্ষে বাতাস চলাচল করতে পারে না। এটা প্রাথমিকভাবে বলা যায়, ওটা পোস্ট–অপারেটিভ হিসেবে কক্ষটি ব্যবহার হওয়া উচিত হয়নি।’’

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় বুধবার রাতেই রাজধানীর রমনা থানায় হাবিবুর রহমান নামে এক নবজাতকের বাবা অভিযোগ দায়ের করেন। বৃহস্পতিবার সেটি মামলা হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়।

রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল সাংবাদিকদের মামলার তথ্য নিশ্চিত করে জানান, আসামি হিসেবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনাটি তদন্তে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে।

সম্পর্কিত