চরচা ডেস্ক

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের গতকাল শুক্রবারের ঐতিহাসিক রায়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের প্রধান পদ্ধতিটি বাতিল হওয়ায় তার প্রশাসনের বাণিজ্য নীতির একটি মূল ভিত্তি নড়ে যায়। এটা বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য অংশীদার ও ব্যবসার ওপর নতুন করে অনিশ্চয়তার বোঝা চাপিয়েছে। বিখ্যাত মার্কিন গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক অনলাইন প্রতিবেদনে এই মন্তব্য করা হয়েছে।
পত্রিকাটি লিখেছে, এই সাম্প্রতিক ধাক্কা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে কী প্রভাব ফেলবে এবং তা কীভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মূল্য, কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধির ওপর প্রতিফলিত হবে– তা এখনো একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন। গত বছর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ট্রাম্পের এই অপ্রত্যাশিত বাণিজ্য পদক্ষেপে সৃষ্ট রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও এখন পর্যন্ত বৈশ্বিক অর্থনীতি স্থিতিস্থাপকতা দেখিয়েছে।
এই মুহূর্তে অধিকাংশ অর্থনীতিবিদ মনে করছেন, আইনি প্রভাব যাই হোক না কেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নীতিতে তেমন তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন আসবে না। অন্য দেশের নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়িক নির্বাহীরা মূলত এই ধারণার ভিত্তিতে কাজ করছেন যে, যতদিন ট্রাম্প ক্ষমতায় আছেন, ততদিন কোনো না কোনোভাবে শুল্ক থাকবে।
শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তিনি আইনের একটি অংশ (সেকশন ১২২) প্রয়োগ করবেন, যা কোনো প্রেসিডেন্ট আগে কখনো ব্যবহার করেননি। এর মাধ্যমে কয়েক দিনের মধ্যেই সার্বিকভাবে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবেন। ট্রাম্প ইতিমধ্যে নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করে বিশ্বের সব দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। এই শুল্ক দুই–তিন দিনের মধ্যে কার্যকর হবে।
আইএনজি রিসার্চের বৈশ্বিক ম্যাক্রো বিভাগের প্রধান কারস্টেন ব্রজেস্কি এক নোটে লিখেছেন, “সুপ্রিম কোর্ট সাংবিধানিক সীমা নিয়ে রায় দিয়েছে, বাণিজ্য নীতি নিয়ে নয়। ট্রাম্পের শুল্ক এজেন্ডা নতুন আইনি ভিত্তি ও একটি বিশৃঙ্খল রূপান্তর পর্বসহ টিকে থাকবে।” ব্রজেস্কি এবং আরও কয়েকজন বিশ্লেষক বলছেন, সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের কারণে তারা এখনই বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ও বাণিজ্য সংক্রান্ত পূর্বাভাস পরিবর্তনের আশা করছেন না।
১৯৭৭ সালের একটি আইনের (যা প্রেসিডেন্টকে জরুরি ক্ষমতা দেয়) মাধ্যমে ট্রাম্প যেভাবে দ্রুত ও ব্যাপকভাবে শুল্ক আরোপ করছিলেন, সে ক্ষমতা হয়তো আর আগের মতো থাকবে না। তবে তিনি আরও লক্ষ্যভিত্তিক শুল্ক আরোপের জন্য অন্যান্য বিধান ব্যবহার করতে পারেন। নিজ উদ্যোগে অথবা রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের সহযোগিতায়।
এখন পর্যন্ত বিদেশি সরকারগুলো এ নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করার ব্যাপারে সতর্ক থেকেছে। তারা বলেছে, তারা সিদ্ধান্তটি এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব পর্যালোচনা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য অংশীদারদের কাছে শুল্ক আলোচনা পুনরায় শুরু করার প্রলোভন থাকতে পারে, কিন্তু নীতিবিশ্লেষকরা মনে করেন অধিকাংশই সে পথে যাবে না। প্রথমত, ট্রাম্পের কাছ থেকে আরও ভালো চুক্তি আদায়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ। দ্বিতীয়ত, পুনরায় আলোচনার অনুরোধ করাও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বিরক্ত করতে পারে, যিনি নিজেই স্বীকার করেছেন যে কখনো কখনো তার নীতিগত সিদ্ধান্ত বিরক্তি থেকেই নেওয়া হয়।

উদাহরণস্বরূপ, ট্রাম্প স্বীকার করেন যে, তিনি সুইজারল্যান্ডের ওপর শুল্ক ৩১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৯ শতাংশ করেছেন, কারণ সুইস প্রেসিডেন্ট ‘আমাকে ভুলভাবে স্পর্শ করেছিলেন’– অর্থাৎ তাকে বিরক্ত করেছিলেন।
তদুপরি, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কগুলো যতই অস্বস্তিকর হোক না কেন, বর্তমান হারগুলো অন্তত গত বছরের সেই অনিশ্চয়তার কিছুটা অবসান ঘটিয়েছে। আগে তো ট্রাম্পের শুল্ক নীতিগুলো কখনো কখনো সকালের নাশতা ও রাতের খাবারের মাঝেই বদলে যেত।
তবুও অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্রিটিশ চেম্বার্স অব কমার্সের বাণিজ্য নীতিবিষয়ক প্রধান উইলিয়াম বেইন বলেন, এই রায় “ব্যবসার জন্য ঘোলাটে পরিস্থিতি খুব একটা পরিষ্কার করে না।”
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কখনো কখনো অন্যান্য ভূরাজনৈতিক উদ্বেগ শুল্ক ইস্যুকে ছাপিয়ে গেছে। ইউরোপে জাতীয় নিরাপত্তা, আটলান্টিক জোট ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা– সবই অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়, বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ, ইউরোপের প্রতি রাশিয়ার আগ্রাসী অবস্থান এবং ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রচেষ্টার প্রেক্ষাপটে।
জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া, যারা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ওপর নির্ভরশীল, তারাও চীনের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির সময়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। আগেই সম্মত হওয়া বহু বাণিজ্য চুক্তির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত হওয়ায় আদালতের রায় আসন্ন বাণিজ্য আলোচনাতেও প্রভাব ফেলবে। যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তি, যা ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে আইনে পরিণত করেছিলেন, এ গ্রীষ্মে পর্যালোচনার জন্য উঠছে।
বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ীরা যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল ঋণের ওপর রায়ের প্রভাবও বিবেচনা করছেন। এপ্রিল থেকে শুল্কের মাধ্যমে ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি রাজস্ব এসেছে। আটলান্টা ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট রাফায়েল বোস্টিক শুক্রবার বলেন, রায়ের অর্থনৈতিক প্রভাব নির্ভর করবে কোম্পানিগুলো কোনো শুল্ক ফেরত পাবে কি না তার ওপর। তিনি আরও বলেন, কোম্পানিগুলো সিদ্ধান্তের আলোকে তাদের কার্যক্রম কীভাবে পরিবর্তন করে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হবে। তিনি বলেন, “যেসব প্রতিষ্ঠান শুল্ক দিয়েছে, তাদের কি তা ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আছে? যদি থাকে, তাহলে সেটা বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করবে।”
যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের অনেক প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে বাড়তি শুল্ক ফেরতের দাবি তুলেছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ইকোনমিক্স অনুমান করেছে, যদি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারিকে ফেরত দিতে বাধ্য করা হয়, তাহলে ব্যয় হবে ১২০ বিলিয়ন ডলার, যা যুক্তরাষ্ট্রের মোট দেশজ উৎপাদনের ০.৫ শতাংশ। সফটওয়্যার কোম্পানি সোয়াপের লজিস্টিক বিশেষজ্ঞ ও প্রধান বিপণন কর্মকর্তা হুয়ান পেল্লেরানো-রেনদন বলেন, ব্যবসাগুলোকে বড় অপ্রত্যাশিত লাভের আশা করা উচিত নয়। ফেরত এলে তা পেতে মাস কিংবা বছর লেগে যেতে পারে। তিনি বলেন, “কোনো গুরুতর ব্যবসায়ী তার পুরো বছরের পরিকল্পনা সম্ভাব্য শুল্ক ফেরতের ওপর নির্ভর করে সাজাচ্ছেন না।” অধিকাংশ কোম্পানি ইতিমধ্যে বাড়তি পরিবহন, সম্মতি (কমপ্লায়েন্স) ও সরবরাহ শৃঙ্খলার খরচ বিবেচনায় নিয়েছে।
বৈশ্বিক আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান এবুরির বাজার কৌশল বিভাগের প্রধান ম্যাথিউ রায়ান বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরপরই ডলারের বিক্রি বেড়ে যায়। তিনি বলেন, “সম্ভবত এটি বাড়তি রাজস্ব ঘাটতির উদ্বেগের প্রতিফলন। কারণ বাজার আশঙ্কা করছে যে বিপুল শুল্ক ফেরত দিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজেটে বড় ঘাটতি হতে পারে, ঘাটতি বাড়াতে পারে এবং ঋণ বৃদ্ধি করতে পারে।
ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের জ্যেষ্ঠ নীতিবিশেষজ্ঞ আগাথ দেমারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ও প্রতিপক্ষ উভয়ই যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরে যাওয়ার প্রবণতা দেখাচ্ছে। তিনি বলেন, “২০২৫ সালে চীন ১.২ ট্রিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রেকর্ড করেছে, যা কোনো দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ– এটি দেখায় যে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো সফলভাবে রপ্তানি অন্য বাজারে সরিয়ে নিয়েছে।”
গত এক বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিয়ে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের প্রচেষ্টা জোরদার করেছে। যেমন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাম্প্রতিক চারটি দক্ষিণ আমেরিকান দেশের সঙ্গে এবং ভারতের সঙ্গে চুক্তি করেছে। ট্রাম্পের শুল্ক ঘিরে যত নাটকই থাকুক না কেন, গত বছর বৈশ্বিক বাণিজ্য সামগ্রিকভাবে ৪ শতাংশ বেড়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি গত বছর রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। ক্যাপিটাল ইকোনমিক্সের প্রধান অর্থনীতিবিদ নিল শিয়ারিং বলেন, “মূল বিষয় হলো বাণিজ্য ভেঙে পড়েনি।”

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের গতকাল শুক্রবারের ঐতিহাসিক রায়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের প্রধান পদ্ধতিটি বাতিল হওয়ায় তার প্রশাসনের বাণিজ্য নীতির একটি মূল ভিত্তি নড়ে যায়। এটা বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য অংশীদার ও ব্যবসার ওপর নতুন করে অনিশ্চয়তার বোঝা চাপিয়েছে। বিখ্যাত মার্কিন গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক অনলাইন প্রতিবেদনে এই মন্তব্য করা হয়েছে।
পত্রিকাটি লিখেছে, এই সাম্প্রতিক ধাক্কা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে কী প্রভাব ফেলবে এবং তা কীভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মূল্য, কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধির ওপর প্রতিফলিত হবে– তা এখনো একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন। গত বছর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ট্রাম্পের এই অপ্রত্যাশিত বাণিজ্য পদক্ষেপে সৃষ্ট রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও এখন পর্যন্ত বৈশ্বিক অর্থনীতি স্থিতিস্থাপকতা দেখিয়েছে।
এই মুহূর্তে অধিকাংশ অর্থনীতিবিদ মনে করছেন, আইনি প্রভাব যাই হোক না কেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নীতিতে তেমন তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন আসবে না। অন্য দেশের নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়িক নির্বাহীরা মূলত এই ধারণার ভিত্তিতে কাজ করছেন যে, যতদিন ট্রাম্প ক্ষমতায় আছেন, ততদিন কোনো না কোনোভাবে শুল্ক থাকবে।
শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তিনি আইনের একটি অংশ (সেকশন ১২২) প্রয়োগ করবেন, যা কোনো প্রেসিডেন্ট আগে কখনো ব্যবহার করেননি। এর মাধ্যমে কয়েক দিনের মধ্যেই সার্বিকভাবে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবেন। ট্রাম্প ইতিমধ্যে নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করে বিশ্বের সব দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। এই শুল্ক দুই–তিন দিনের মধ্যে কার্যকর হবে।
আইএনজি রিসার্চের বৈশ্বিক ম্যাক্রো বিভাগের প্রধান কারস্টেন ব্রজেস্কি এক নোটে লিখেছেন, “সুপ্রিম কোর্ট সাংবিধানিক সীমা নিয়ে রায় দিয়েছে, বাণিজ্য নীতি নিয়ে নয়। ট্রাম্পের শুল্ক এজেন্ডা নতুন আইনি ভিত্তি ও একটি বিশৃঙ্খল রূপান্তর পর্বসহ টিকে থাকবে।” ব্রজেস্কি এবং আরও কয়েকজন বিশ্লেষক বলছেন, সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের কারণে তারা এখনই বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ও বাণিজ্য সংক্রান্ত পূর্বাভাস পরিবর্তনের আশা করছেন না।
১৯৭৭ সালের একটি আইনের (যা প্রেসিডেন্টকে জরুরি ক্ষমতা দেয়) মাধ্যমে ট্রাম্প যেভাবে দ্রুত ও ব্যাপকভাবে শুল্ক আরোপ করছিলেন, সে ক্ষমতা হয়তো আর আগের মতো থাকবে না। তবে তিনি আরও লক্ষ্যভিত্তিক শুল্ক আরোপের জন্য অন্যান্য বিধান ব্যবহার করতে পারেন। নিজ উদ্যোগে অথবা রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের সহযোগিতায়।
এখন পর্যন্ত বিদেশি সরকারগুলো এ নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করার ব্যাপারে সতর্ক থেকেছে। তারা বলেছে, তারা সিদ্ধান্তটি এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব পর্যালোচনা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য অংশীদারদের কাছে শুল্ক আলোচনা পুনরায় শুরু করার প্রলোভন থাকতে পারে, কিন্তু নীতিবিশ্লেষকরা মনে করেন অধিকাংশই সে পথে যাবে না। প্রথমত, ট্রাম্পের কাছ থেকে আরও ভালো চুক্তি আদায়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ। দ্বিতীয়ত, পুনরায় আলোচনার অনুরোধ করাও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বিরক্ত করতে পারে, যিনি নিজেই স্বীকার করেছেন যে কখনো কখনো তার নীতিগত সিদ্ধান্ত বিরক্তি থেকেই নেওয়া হয়।

উদাহরণস্বরূপ, ট্রাম্প স্বীকার করেন যে, তিনি সুইজারল্যান্ডের ওপর শুল্ক ৩১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৯ শতাংশ করেছেন, কারণ সুইস প্রেসিডেন্ট ‘আমাকে ভুলভাবে স্পর্শ করেছিলেন’– অর্থাৎ তাকে বিরক্ত করেছিলেন।
তদুপরি, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কগুলো যতই অস্বস্তিকর হোক না কেন, বর্তমান হারগুলো অন্তত গত বছরের সেই অনিশ্চয়তার কিছুটা অবসান ঘটিয়েছে। আগে তো ট্রাম্পের শুল্ক নীতিগুলো কখনো কখনো সকালের নাশতা ও রাতের খাবারের মাঝেই বদলে যেত।
তবুও অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্রিটিশ চেম্বার্স অব কমার্সের বাণিজ্য নীতিবিষয়ক প্রধান উইলিয়াম বেইন বলেন, এই রায় “ব্যবসার জন্য ঘোলাটে পরিস্থিতি খুব একটা পরিষ্কার করে না।”
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কখনো কখনো অন্যান্য ভূরাজনৈতিক উদ্বেগ শুল্ক ইস্যুকে ছাপিয়ে গেছে। ইউরোপে জাতীয় নিরাপত্তা, আটলান্টিক জোট ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা– সবই অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়, বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ, ইউরোপের প্রতি রাশিয়ার আগ্রাসী অবস্থান এবং ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রচেষ্টার প্রেক্ষাপটে।
জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া, যারা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ওপর নির্ভরশীল, তারাও চীনের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির সময়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। আগেই সম্মত হওয়া বহু বাণিজ্য চুক্তির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত হওয়ায় আদালতের রায় আসন্ন বাণিজ্য আলোচনাতেও প্রভাব ফেলবে। যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তি, যা ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে আইনে পরিণত করেছিলেন, এ গ্রীষ্মে পর্যালোচনার জন্য উঠছে।
বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ীরা যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল ঋণের ওপর রায়ের প্রভাবও বিবেচনা করছেন। এপ্রিল থেকে শুল্কের মাধ্যমে ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি রাজস্ব এসেছে। আটলান্টা ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট রাফায়েল বোস্টিক শুক্রবার বলেন, রায়ের অর্থনৈতিক প্রভাব নির্ভর করবে কোম্পানিগুলো কোনো শুল্ক ফেরত পাবে কি না তার ওপর। তিনি আরও বলেন, কোম্পানিগুলো সিদ্ধান্তের আলোকে তাদের কার্যক্রম কীভাবে পরিবর্তন করে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হবে। তিনি বলেন, “যেসব প্রতিষ্ঠান শুল্ক দিয়েছে, তাদের কি তা ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আছে? যদি থাকে, তাহলে সেটা বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করবে।”
যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের অনেক প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে বাড়তি শুল্ক ফেরতের দাবি তুলেছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ইকোনমিক্স অনুমান করেছে, যদি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারিকে ফেরত দিতে বাধ্য করা হয়, তাহলে ব্যয় হবে ১২০ বিলিয়ন ডলার, যা যুক্তরাষ্ট্রের মোট দেশজ উৎপাদনের ০.৫ শতাংশ। সফটওয়্যার কোম্পানি সোয়াপের লজিস্টিক বিশেষজ্ঞ ও প্রধান বিপণন কর্মকর্তা হুয়ান পেল্লেরানো-রেনদন বলেন, ব্যবসাগুলোকে বড় অপ্রত্যাশিত লাভের আশা করা উচিত নয়। ফেরত এলে তা পেতে মাস কিংবা বছর লেগে যেতে পারে। তিনি বলেন, “কোনো গুরুতর ব্যবসায়ী তার পুরো বছরের পরিকল্পনা সম্ভাব্য শুল্ক ফেরতের ওপর নির্ভর করে সাজাচ্ছেন না।” অধিকাংশ কোম্পানি ইতিমধ্যে বাড়তি পরিবহন, সম্মতি (কমপ্লায়েন্স) ও সরবরাহ শৃঙ্খলার খরচ বিবেচনায় নিয়েছে।
বৈশ্বিক আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান এবুরির বাজার কৌশল বিভাগের প্রধান ম্যাথিউ রায়ান বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরপরই ডলারের বিক্রি বেড়ে যায়। তিনি বলেন, “সম্ভবত এটি বাড়তি রাজস্ব ঘাটতির উদ্বেগের প্রতিফলন। কারণ বাজার আশঙ্কা করছে যে বিপুল শুল্ক ফেরত দিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজেটে বড় ঘাটতি হতে পারে, ঘাটতি বাড়াতে পারে এবং ঋণ বৃদ্ধি করতে পারে।
ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের জ্যেষ্ঠ নীতিবিশেষজ্ঞ আগাথ দেমারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ও প্রতিপক্ষ উভয়ই যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরে যাওয়ার প্রবণতা দেখাচ্ছে। তিনি বলেন, “২০২৫ সালে চীন ১.২ ট্রিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রেকর্ড করেছে, যা কোনো দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ– এটি দেখায় যে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো সফলভাবে রপ্তানি অন্য বাজারে সরিয়ে নিয়েছে।”
গত এক বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিয়ে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের প্রচেষ্টা জোরদার করেছে। যেমন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাম্প্রতিক চারটি দক্ষিণ আমেরিকান দেশের সঙ্গে এবং ভারতের সঙ্গে চুক্তি করেছে। ট্রাম্পের শুল্ক ঘিরে যত নাটকই থাকুক না কেন, গত বছর বৈশ্বিক বাণিজ্য সামগ্রিকভাবে ৪ শতাংশ বেড়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি গত বছর রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। ক্যাপিটাল ইকোনমিক্সের প্রধান অর্থনীতিবিদ নিল শিয়ারিং বলেন, “মূল বিষয় হলো বাণিজ্য ভেঙে পড়েনি।”