চরচা ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি-কে ঘিরে বৈশ্বিক উত্তেজনার মধ্যে ইউরোপীয় দেশগুলো একটি নতুন নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে, যা কেবল সামরিক নয়–ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যেও বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই পরিকল্পনার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, এতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইচ্ছা করেই বাইরে রাখা হতে পারে।
প্রভাশালী মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে হরমুজ প্রণালিতে যে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মিশন গঠন করা হবে, সেখানে ‘সংঘাতে জড়িত পক্ষগুলো’–অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান অংশ নেবে না। এর অর্থ দাঁড়ায়, ইউরোপ প্রথমবারের মতো এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ছাড়াই কাজ করতে চায়।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক শিপিং কোম্পানিগুলোর আস্থা পুনরুদ্ধার করা, যাতে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তারা আবার এই গুরুত্বপূর্ণ রুট ব্যবহার শুরু করে। কারণ হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ–যেখানে অস্থিরতা মানেই বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা।
এই প্রেক্ষাপটে জার্মানির সম্ভাব্য অংশগ্রহণ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ঐতিহ্যগতভাবে জার্মানি বিদেশে সামরিক সম্পৃক্ততা এড়িয়ে চললেও, এবার তারা ইউরোপীয় পরিকল্পনায় যুক্ত হতে পারে–যা ইউরোপের নিরাপত্তা নীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে এগোচ্ছে। কাতারে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে ইরানের বন্দরগুলোতে কার্যত অবরোধ আরোপ করেছে এবং মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে সামুদ্রিক বাণিজ্য সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অর্থনীতি সমুদ্রপথে বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল–ফলে এই অবরোধ সরাসরি তেহরানের অর্থনীতিকে ধ্বংস করার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি।
সেন্টকম আরও জানিয়েছে, প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কোনো জাহাজ এই অবরোধ অতিক্রম করতে পারেনি এবং কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজকে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। এই অভিযানে হাজার হাজার মার্কিন নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্য, একাধিক যুদ্ধজাহাজ এবং বিমান অংশ নিচ্ছে–যা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির ব্যাপকতা নির্দেশ করে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ইউরোপ ভিন্নভাবে দেখছে। তাদের দৃষ্টিতে, এটি একটি একতরফা সামরিক উদ্যোগ, যা আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন তোলে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। ফলে ইউরোপীয় দেশগুলো এখন এমন একটি বিকল্প কাঠামো গড়ে তুলতে চায়, যেখানে তারা নিজেরাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে–যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর না করে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক দিকও রয়েছে। ইরান নাকি প্রণালির বিকল্প রুট ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে প্রতি ট্রিপে প্রায় ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত টোল নিচ্ছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একইসঙ্গে, সমুদ্রপথে মাইন পাতা এবং রুট পরিবর্তনের ফলে বাণিজ্যিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনাপ্রবাহ তিনটি বড় বাস্তবতা সামনে নিয়ে আসে। প্রথমত, হরমুজ প্রণালি এখন শুধু একটি সামুদ্রিক পথ নয়–এটি একটি কৌশলগত যুদ্ধক্ষেত্র। দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে নিরাপত্তা ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য দ্রুত বাড়ছে। তৃতীয়ত, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ এখন সরাসরি সামরিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
ইউরোপের এই নতুন উদ্যোগ সফল হলে, এটি শুধু একটি সামরিক মিশন হবে না–বরং এটি হবে ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়, যেখানে ইউরোপ নিজস্ব কৌশলগত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি-কে ঘিরে বৈশ্বিক উত্তেজনার মধ্যে ইউরোপীয় দেশগুলো একটি নতুন নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে, যা কেবল সামরিক নয়–ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যেও বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই পরিকল্পনার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, এতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইচ্ছা করেই বাইরে রাখা হতে পারে।
প্রভাশালী মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে হরমুজ প্রণালিতে যে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মিশন গঠন করা হবে, সেখানে ‘সংঘাতে জড়িত পক্ষগুলো’–অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান অংশ নেবে না। এর অর্থ দাঁড়ায়, ইউরোপ প্রথমবারের মতো এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ছাড়াই কাজ করতে চায়।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক শিপিং কোম্পানিগুলোর আস্থা পুনরুদ্ধার করা, যাতে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তারা আবার এই গুরুত্বপূর্ণ রুট ব্যবহার শুরু করে। কারণ হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ–যেখানে অস্থিরতা মানেই বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা।
এই প্রেক্ষাপটে জার্মানির সম্ভাব্য অংশগ্রহণ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ঐতিহ্যগতভাবে জার্মানি বিদেশে সামরিক সম্পৃক্ততা এড়িয়ে চললেও, এবার তারা ইউরোপীয় পরিকল্পনায় যুক্ত হতে পারে–যা ইউরোপের নিরাপত্তা নীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে এগোচ্ছে। কাতারে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে ইরানের বন্দরগুলোতে কার্যত অবরোধ আরোপ করেছে এবং মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে সামুদ্রিক বাণিজ্য সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অর্থনীতি সমুদ্রপথে বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল–ফলে এই অবরোধ সরাসরি তেহরানের অর্থনীতিকে ধ্বংস করার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি।
সেন্টকম আরও জানিয়েছে, প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কোনো জাহাজ এই অবরোধ অতিক্রম করতে পারেনি এবং কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজকে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। এই অভিযানে হাজার হাজার মার্কিন নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্য, একাধিক যুদ্ধজাহাজ এবং বিমান অংশ নিচ্ছে–যা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির ব্যাপকতা নির্দেশ করে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ইউরোপ ভিন্নভাবে দেখছে। তাদের দৃষ্টিতে, এটি একটি একতরফা সামরিক উদ্যোগ, যা আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন তোলে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। ফলে ইউরোপীয় দেশগুলো এখন এমন একটি বিকল্প কাঠামো গড়ে তুলতে চায়, যেখানে তারা নিজেরাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে–যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর না করে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক দিকও রয়েছে। ইরান নাকি প্রণালির বিকল্প রুট ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে প্রতি ট্রিপে প্রায় ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত টোল নিচ্ছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একইসঙ্গে, সমুদ্রপথে মাইন পাতা এবং রুট পরিবর্তনের ফলে বাণিজ্যিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনাপ্রবাহ তিনটি বড় বাস্তবতা সামনে নিয়ে আসে। প্রথমত, হরমুজ প্রণালি এখন শুধু একটি সামুদ্রিক পথ নয়–এটি একটি কৌশলগত যুদ্ধক্ষেত্র। দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে নিরাপত্তা ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য দ্রুত বাড়ছে। তৃতীয়ত, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ এখন সরাসরি সামরিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
ইউরোপের এই নতুন উদ্যোগ সফল হলে, এটি শুধু একটি সামরিক মিশন হবে না–বরং এটি হবে ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়, যেখানে ইউরোপ নিজস্ব কৌশলগত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।