ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ফের দেউলিয়া, বন্ধ ঘোষণা

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ফের দেউলিয়া, বন্ধ ঘোষণা
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। ছবি: আরব নিউজ

ভারত শাসন ও উপনিবেশ বিস্তারের ইতিহাসে পরিচিত নাম ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। প্রায় ১৭০ বছর আগে বিলুপ্ত হওয়া প্রতিষ্ঠানটি ২০১০ সালে নতুন রূপে লন্ডনে বিলাসপণ্য বিক্রির ব্র্যান্ড হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল। তবে সেই পুনরুজ্জীবন বেশিদিন টিকল না। যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের মেফেয়ারে কোম্পানির ফ্ল্যাগশিপ স্টোর বন্ধ হয়ে গেছে, কার্যক্রমে ইতি টানা হয়েছে, এবং প্রতিষ্ঠানটিকে দেউলিয়া ঘোষণা করা হয়েছে।

ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য টাইমস জানায়, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ২০২৫ সালের অক্টোবরে লিকুইডেটর নিয়োগ দেয়। কোম্পানিটির ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসে নিবন্ধিত মূল প্রতিষ্ঠানের কাছে বকেয়া দেয় ৬ লাখ পাউন্ডেরও বেশি। এ ছাড়া কর বকেয়া ছিল প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার পাউন্ড, কর্মচারীদের বকেয়া ১ লাখ ৬৩ হাজার পাউন্ড। মালিক সঞ্জীব মেহতার সঙ্গে যুক্ত একই নামধারী আরও কয়েকটি কোম্পানি ইতোমধ্যে বিলুপ্ত হয়েছে। তাদের ওয়েবসাইট বন্ধ এবং দোকানটি খালি অবস্থায় ভাড়ার বিজ্ঞপ্তি ঝুলছে।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির যাত্রা শুরু ১৬০০ সালের ৩১ ডিসেম্বর, রানি প্রথম এলিজাবেথের দেওয়া সনদে। ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মসলা ও পণ্যের বাণিজ্য করতে গঠিত এই যৌথ-শেয়ার কোম্পানি দ্রুতই সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়।

১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের পর বাংলার শাসনভার নিজের হাতে নেয় তারা। পরে ভারতজুড়ে কর আদায়, শোষণ, দমন-পীড়ন, দুর্ভিক্ষ এবং ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের ইতিহাস তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটি।

১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পর ১৮৫৮ সালে ব্রিটিশ সরকার ভারত শাসনের দায়িত্ব নেয় এবং ১৮৭৪ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

২০০০-এর দশকের শুরুতে ভারতীয় উদ্যোক্তা সঞ্জীব মেহতা কোম্পানির নামের অধিকার কিনে ২০১০ সালে বিলাসপণ্য বিক্রির দোকান স্থাপন করেন। চা, চকলেট, মসলা, প্রিমিয়াম খাবারসহ নানা পণ্য বিক্রি করে কোম্পানিটিকে ‘উপনিবেশবাদের নেতিবাচক প্রতীক থেকে ইতিবাচক ব্র্যান্ডে’ রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

বিশ্ব ইতিহাসে ক্ষত রেখে যাওয়া ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দ্বিতীয়বারের মতো সমাপ্তি চূড়ান্ত হলো।

সম্পর্কিত