বাংলা ভাষার কিংবদন্তি মরমি দার্শনিক, মানবতাবাদী ও বাউল সংগীতশিল্পী ফকির লালন সাঁইয়ের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেছে নেপালের কাঠমান্ডুতে নিয়োজিত বাংলাদেশ দূতাবাস।
এ আয়োজনে বাংলা সংস্কৃতি ও সাহিত্যে লালনের অসামান্য অবদান এবং মানবতা, সাম্য ও সামাজিক সম্প্রীতির সর্বজনীন মূল্যবোধ তুলে ধরা হয়।
গতকাল শনিবার আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কাঠমান্ডুতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য, নেপালের সাহিত্যাঙ্গনের ব্যক্তিত্ব, তরুণ নেতৃবৃন্দ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং ঢাকায় দায়িত্ব পালন করা নেপালের সাবেক কূটনীতিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
কাঠমাণ্ডুর বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে।
অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্যে নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান লালন শাহের চিরন্তন দর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরে একে বাংলা সংস্কৃতি ও পরিচয়ের ভিত্তি হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি বলেন, লালনের গান তার সময়ের ভৌগোলিক ও ধর্মীয় সীমানা অতিক্রম করেছিল। একই সঙ্গে এসব গান সাংস্কৃতিক ও সামাজিক গোঁড়ামিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মানবতাবাদী বিশ্বাসকে উদ্যাপন করেছে।
লালনের বহুল পরিচিত গানের প্রসঙ্গ টেনে রাষ্ট্রদূত ধর্ম, জাতপাত ও সামাজিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের অভিন্ন সত্তাকে স্বীকৃতি দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টায় লালনের শিক্ষা আজও অনুপ্রেরণা জোগায়।
বক্তব্য দিচ্ছেন রাষ্ট্রদূত শফিকুর রহমান। ছবি: নেপালের বাংলাদেশ দূতাবাসের ফেসবুক
প্রথাবিরোধী, মরমি ও আধ্যাত্মিক সংগীতসাধক এবং বাউল সম্প্রদায়ের ইতিহাস ও সংস্কৃতি তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাউল সংস্কৃতি বাংলা সমাজ ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি উল্লেখ করেন, সর্বজনীন আবেদন থাকায় লালনের গান আজ ইউনেসকোর স্বীকৃত মানবতার অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে বিবেচিত।
বাংলাদেশ ও নেপালের সাংস্কৃতিক এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রদূত শফিকুর রহমান বলেন, উভয় দেশই নিজেদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পরম্পরা থেকে শক্তি অর্জন করে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, সাংস্কৃতিক বিনিময় পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে, বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগাতে এবং দুই দেশের বন্ধুত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করতে পারে।
অতিথিরা। ছবি: নেপালের বাংলাদেশ দূতাবাসের ফেসবুক
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি শিল্পীরা লালনগীতি পরিবেশন এবং লালনের কবিতা আবৃত্তি করেন। এসব পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অতিথিরা বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক স্বতন্ত্র ধারার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান। অনুষ্ঠানে লালন শাহের জীবন, দর্শন এবং বাংলা সমাজ, সংস্কৃতি ও সাহিত্যে তার অবদান নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।
আয়োজনে উপস্থিত সব অতিথিকে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার দিয়ে মধ্যাহ্নভোজে আপ্যায়ন করা হয়।