
আবুধাবিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়ে সৃজনশীলতা প্রতিযোগিতা
প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশকে হৃদয়ে ধারণ করার পাশাপাশি স্বাগতিক দেশ আমিরাতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে গড়ে ওঠার লক্ষ্যে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ফারজানা নাজ শম্পা, ব্রিটিশ কলাম্বিয়া, কানাডা

চার দশকেরও বেশি সময় ধরে নীরব সাধনায় ব্রত কবি, কথাশিল্পী, সম্পাদক, অনুবাদক ও সাহিত্য সংগঠক সৈয়দ মাজহারুল পারভেজ। তার কলম ছুটে চলেছে নিরন্তর। উপন্যাস, ছোটগল্প, কবিতা, শিশু-কিশোর সাহিত্য কিংবা ক্রীড়াঙ্গনের প্রাণবন্ত বয়ান—সবখানেই তার স্বাচ্ছন্দ্য বিচরণ। একই সাথে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে তিনি গ্রন্থিত করেছেন নিপুণ মমতায়।
দেশ-বিদেশের শীর্ষস্থানীয় পত্র-পত্রিকায় এ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে তার তিন হাজারেরও বেশি রচনা। বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত তার গ্রন্থসংখ্যা চার শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে। মৌলিক রচনার পাশাপাশি বিশ্বসাহিত্যের ক্লাসিক কবিতার বাংলা অনুবাদ এবং তার সম্পাদিত কালজয়ী গ্রন্থমালা পাঠকমহলে লাভ করেছে বিশেষ সমাদর। সাহিত্যের এই দীর্ঘ ঋদ্ধ যাত্রার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ভূষিত হয়েছেন ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী সম্মাননা, পশ্চিমবঙ্গের ‘ইতিকথা সাহিত্য পুরস্কার’, ‘উদার আকাশ আজীবন সম্মাননা’, বিএসপিএ’র ‘এআইপিএস-ডে সম্মাননা’ এবং ‘সোনার বাংলা পুরস্কার’-সহ দেশ-বিদেশের দুই শতাধিক মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ও সংবর্ধনায়।
২০১৫ সাল থেকে তিনি ‘বাংলাদেশ লেখক পরিষদ’-এর সভাপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। সম্প্রতি এই লেখকের মুখোমুখি হয়েছিলাম। আলাপচারিতায় উঠে এসেছে তার দীর্ঘ চার দশকের সাহিত্য-ভাবনা, অভিজ্ঞতা ও অন্তর্জগতের কথা। পাঠকদের জন্য সেই দীর্ঘ অন্তরঙ্গ আলাপচারিতার অংশবিশেষ নিচে তুলে ধরছি।
সাহিত্যজগতে তার আগমনের প্রেক্ষাপট নিয়ে আমার প্রশ্নে সৈয়দ মাজহারুল পারভেজ জানান, “আমি কীভাবে লেখালেখির সাথে যুক্ত হলাম সে বিষয়ে ছোট্ট পরিসরে আলোকপাত করা যেতে পারে। সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা আমার ছেলেবেলা থেকেই। তবে লেখক হবো, বই লিখব—এটা কখনো আমার মাথায় আসেনি।
বলতে গেলে হঠাৎ করেই লেখালেখিটা শুরু করা। সেটারও নেপথ্যে একটা ঘটনা আছে। সেটা ১৯৮৯ সালের কথা। আমি একটা ক্রিকেটের বই কিনেছিলাম। বইটাতে অসংখ্য ভুল আমার চোখে পড়ে। আমি একদিন অন্য কাজে বাংলাবাজারে যাই। বলা যায়, সেটাই আমার প্রথম বাংলাবাজারে যাওয়া। তখন আমার মনে হলো ভুল বইয়ের প্রকাশকের সাথে দেখা করে ভুলের বিষয়টি বলে যাই। এই বই ছাপতে থাকলে মানুষের কাছে ভুল মেসেজ যাবে। এটা যেন আর না ছাপে।
আমি সেই বইটির প্রকাশকের কাছে যাই এবং বইটির ভুল নিয়ে কথা বলি। এক ফাঁকে প্রকাশক আমাকে বই লেখার প্রস্তাব দেন। আমিও না বুঝেই সম্মত হই। এর পরের বছর ওই প্রকাশনী থেকে আমার একসাথে ৬টি বই প্রকাশিত হয়।

এরপর আর আমাকে ফিরে তাকাতে হয়নি। প্রতি বছর নিয়মিতভাবে ১০/১২টি বই প্রকাশিত হতে থাকে এবং ৫ বছরের মধ্যে আমার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা পঞ্চাশ ছাড়িয়ে যায়। বইয়ের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ১৯৯৫ সালে একুশে বইমেলায় আমার একক বইয়ের স্টল ছিল, যা ছিল কোনো লেখকের প্রথম একক বইয়ের স্টল।
আমার সাহিত্যিক হবার পেছনে সুনির্দিষ্ট কারও অনুপ্রেরণা নেই। ছেলেবেলা থেকেই সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা এবং আমার বই পড়ার অভ্যাস ছিল। শুরুতে আমার মা এবং ভাতিজা-ভাতিজিদের একটা অনুপ্রেরণা ছিল। বিয়ের পর আমার স্ত্রী অধ্যাপক শাহানা পারভীন লাভলী এবং দুই কন্যা আয়েশা শাহরিনা ও সৈয়দা আয়েশা তারান্নুমের উৎসাহ আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে।
আমি গ্রামে বেড়ে উঠেছি। ছোটবেলায় আমি রোমেনা আফাজ, কাজী আনোয়ার হোসেন, নীহাররঞ্জন গুপ্ত, ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়, শংকর, সতীনাথ ভাদুড়ী, অদ্বৈত মল্লবর্ম প্রমুখের বই পড়েছি। গ্রামে থেকে তখন বিদেশি লেখকদের বই পড়া হয়ে ওঠেনি। আমার লেখালেখিতে একটা দর্শন সবসময় কাজ করেছে, সেটা হচ্ছে—সমাজ গঠন। আমার লেখার কারণে সমাজে যাতে বিরূপ প্রভাব না পড়ে সে বিষয়ে সবসময় সচেষ্ট থেকেছি।
সুসাহিত্যের ও বর্তমানে বাংলা সাহিত্যের চর্চা প্রসঙ্গে বিষয়ে প্রশ্নে তিনি জানানম যে সাহিত্য একটি সুন্দর সমাজ গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে, সেটাই সুসাহিত্য। আগেকার অধিকাংশ কবি-লেখকেরা এ বিষয়ে সচেষ্ট ছিলেন। কিন্তু এখনকার অধিকাংশ লেখকেরা এ বিষয়ে খুব একটা সচেতন বলে আমার মনে হয় না।
সাহিত্যের অঙ্গনে তার সবচেয়ে প্ৰিয় বিষয় সম্পর্কিত প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমি যেহেতু সব ধরনের লেখা লিখে থাকি, সে কারণে সবচেয়ে প্রিয় লেখা বলে সেভাবে কিছু মনে হয় না। তবে যেহেতু আমার লেখালেখি শুরু হয় উপন্যাস ও ছোটগল্প দিয়ে, সে কারণে এ বিষয়ের প্রতি একটা আলাদা দুর্বলতা তো আছেই। তবে যদিও আমি আমার লেখালেখির অনেক পরে কবিতার সাথে যুক্ত হই, সে কারণে কবিতাও আমার ভালোবাসার একটি অন্যতম মাধ্যম। কবিতার মধ্য দিয়ে খুব সহজে পাঠকের কাছে পৌঁছানো যায়।”

‘প্রেম’, ‘মানবতা’ ও ‘মানবাধিকার’ বিষয়গুলোকে তিনি কীভাবে সংজ্ঞা দেন প্রশ্নে তিনি জানান, এগুলো জীবনের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে থাকে। একজন লেখককে এই বিষয়গুলো হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করতে হয়। ‘প্রেম ও মানবতা’ না থাকলে একজন লেখক সত্যিকারের লেখক বা গণমানুষের লেখক হতে পারেন না। একজন ভালো লেখক হওয়ার পাশাপাশি ভালো মানুষ হতে হয়।
বর্তমান প্রজন্মের বই পড়ার ইচ্ছে কেন কম সেই বিষয়ে তিনি জানান, এ কথা নিঃসন্দেহে ঠিক যে আগের তুলনায় বর্তমান প্রজন্মের পাঠকদের পাঠাভ্যাস অনেক কমে গেছে। যদিও তার অনেক কারণ রয়েছে। প্রথমে যে নামগুলো উঠে আসবে তার মধ্যে রয়েছে—গুগল, ফেসবুক, ইউটিউব। এগুলোর যেমন কিছু ভালো দিক রয়েছে, আবার অনেক খারাপ দিকও রয়েছে। আজকালকার পাঠকেরা বইয়ের চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতি আকৃষ্ট বেশি। ফলে তাদের বই পড়ার প্রতি আগ্রহ কম।
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রকাশনার বর্তমান অবস্থা নিয়ে তিনি অভিমত দেন, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের শ্রেষ্ঠ অর্জন। মুক্তিযুদ্ধ না হলে দেশ স্বাধীন হতো না, দেশ স্বাধীন না হলে আমরা একটা স্বাধীন রাষ্ট্র পেতাম না। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমার নিজের লেখা বইয়ের সংখ্যা ষাটের অধিক। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গবেষণাভিত্তিক সমৃদ্ধ সাহিত্য প্রকাশনা নিয়ে আমার বক্তব্য হচ্ছে, বিশেষ করে বিগত ২০ বছরে প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে অসংখ্য মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণাভিত্তিক বই প্রকাশিত হয়েছে, যেসব বইয়ের অধিকাংশের মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এসবের অধিকাংশ চর্বিতচর্বণ। অনেকে হয়তো কথাটা বুঝতে নাও পারেন। ধরুন, আমি অনেক খাটাখাটনি করে মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণাভিত্তিক একটা বই লিখলাম। আমার বই প্রকাশিত হবার পর এক মাস না যেতেই একাধিক কপি বের হয়ে গেল। আমার ও আমার স্ত্রী শাহানার অধিকাংশ বইয়ের ক্ষেত্রে সেটাই হয়েছে।
নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে কী পদক্ষেপ জরুরি; এ বিষয়ে আমি বলব, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের সবার ওপরে। এটা কোনো দল বা ব্যক্তির একক অর্জন নয়। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানে না। সে কারণে বর্তমান সরকারের উচিত মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস বর্তমান প্রজন্মের পাঠকদের সামনে তুলে ধরা। সেটার জন্য সরকারের কাজ হবে বেশি করে মুক্তিযুদ্ধের বই প্রকাশ ও সারা দেশের পাঠাগারগুলোতে সংরক্ষণ করা।
আমার সাহিত্যের দীর্ঘ পথচলায় বলতে গেলে তেমন কোনো প্রতিবন্ধকতা বা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়নি। আমি যা লিখতে চেয়েছি তাই লিখেছি এবং প্রত্যেকটা বিষয়ে সফলতা পেয়েছি। একজীবনে চার শতাধিক বই লিখেছি, এটা আমার জীবনের পরম প্রাপ্তি।

লেখালেখির প্রথম দিকে ক্রীড়াবিষয়ক বই লিখেছি। আমার লেখা ক্রীড়াবিষয়ক বই অর্ধশতাধিক, যা অন্য কোনো লেখকের নেই। উপন্যাস দিয়ে আমার লেখক জীবনের সূচনা। আমার প্রকাশিত উপন্যাসের সংখ্যা এক ’শর কাছাকাছি। কবিতা লেখা ছাড়াও কবিতা নিয়ে যে কাজগুলো করেছি, আমার মনে হয় বাংলা সাহিত্যের মানুষের মনে অনেকদিন বেঁচে থাকতে পারব। মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলন নিয়ে আমার লেখা বইয়ের সংখ্যা ষাটের অধিক, যার অধিকাংশ ডকুমেন্টারি বই, যা পরের প্রজন্মের গবেষণার জন্য কাজে আসবে। সবকিছু মিলিয়ে আমি আমার সাহিত্যকর্মে হ্যাপি।
যারা নতুন লিখছেন তাদের উদ্দেশে বলছি—সাহিত্যকর্ম হচ্ছে একটা সাধনার বিষয়। কোনো প্রাপ্তির আশা করলে ভালো সাহিত্য করা যায় না। সাহিত্যকে মনে-প্রাণে ধারণ করে, সবরকম মোহের ঊর্ধ্বে থেকে সাহিত্যচর্চা করতে পারলে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব।
অনুবাদ সাহিত্যের প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের দেশে অনুবাদ সাহিত্যকে খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় না। যে কারণে আমরা অনেকেই বিদেশি সাহিত্য এবং লেখক সম্পর্কে খুব বেশি অবগত নই। অধিকাংশ প্রকাশক অনুবাদ বিষয়ে খুব একটা আন্তরিক নন। আমি নিজেও ২০টি বইয়ের অনুবাদ করেছিলাম, কিন্তু যথাযোগ্য সম্মানী না পাওয়ার পর আর করিনি। অন্যরা যারা অনুবাদ করেন, তাদের বেশির ভাগ অনুবাদক খুব একটা সম্মানী পান না; যে কারণে তারাও একসময় নিরুৎসাহী হয়ে পড়েন। যার ফলে খুব বেশি ভালো অনুবাদকও সৃষ্টি হচ্ছে না। তবে বাংলাদেশ যতদিন অনুবাদে অগ্রগতি করতে পারবে না, ততদিন বিশ্বসাহিত্যেও পিছিয়ে থাকবে। বিশ্বসাহিত্যে জায়গা করে নেওয়ার প্রধান মাধ্যম হচ্ছে ভালো অনুবাদ। এ কারণে বাংলা একাডেমি ও প্রকাশকসহ সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। এই কথাটা মাথায় রাখতে হবে, অনুবাদ ছাড়া বিশ্বসাহিত্যে বাংলাদেশ জায়গা করে নিতে পারবে না।”
’বাংলাদেশ লেখক পরিষদ ‘ প্রসঙ্গে জানকে চাইলে তিনি বলেন, “এটি একটি পরিচ্ছন্ন সাহিত্য সংগঠন। বিভিন্ন রকমের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে অনেক সাহিত্য সংগঠন বিতর্কিত হয়ে পড়ে। বাংলাদেশ লেখক পরিষদের ৩৩ বছরের দীর্ঘ পথচলায় সকল বিতর্ক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ঊর্ধ্বে থাকার চেষ্টা করে চলেছে। কতটা সফল হয়েছে সেটা সাহিত্যামোদী মহল ভালো বলতে পারবেন। তা ছাড়াও একটি সাহিত্য সংগঠন ৩৩ বছর অতিক্রম করাটাও কম কথা নয়।”

তিনি বলেন, “১৯৯৫ সালে ঢাকার বাংলাবাজারের মান্নান মার্কেটের তৃতীয় তলায় বাংলাদেশ লেখক পরিষদের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটে। দেড় শতাধিক প্রতিষ্ঠিত কবি-লেখকের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে প্রয়াত কবি, কথাসাহিত্যিক, ফোকলোরবিদ ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. আশরাফ সিদ্দিকীকে সভাপতি এবং আন্তর্জাতিক কবি ও বহুমাত্রিক লেখক সৈয়দ মাজহারুল পারভেজকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে একটি কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করে পরিষদের যাত্রা শুরু হয়। ২০১৫ সাল থেকে আমি পরিষদের সভাপতির গুরুদায়িত্ব পালন করে আসছি।”
তার প্রকাশিত বইয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, আমার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা চার শতাধিক। একজন মানুষের এক জীবনে এর বেশি আর চাই-ই বা কী! আমার লেখালেখির শুরুতে ক্রীড়াবিষয়ক বই, প্রেমের উপন্যাস ও ছোটগল্প লিখেছি। সেসময় আমার ‘এরই নাম প্রেম’, ‘ভালোবাসা কারে কয়’, ‘হৃদয়ের কথা’, ‘একটু ভালোবাসার জন্য’, ‘মন ভালো নেই’, ‘তোমার জন্য ভালোবাসা’, ‘পিয়া’, ‘প্রেম নয় ভালোবাসা’, ‘ভালোবাসা প্রেম নয়’সহ অন্য উপন্যাসগুলো ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা পায়। পরে কফি হাউজের আড্ডার মতো কয়েকটি সিরিয়াস ও রাজনৈতিক উপন্যাস লিখি।
এরপর কবিতা লিখতে শুরু করি এবং কবিতা নিয়ে অনুবাদ ও সম্পাদনার কাজ করি। বিশ্বের সেরা ২০ জন কবির কবিতার ২০টি অনুবাদ বই প্রকাশিত হয়, যা পাঠক সমাজে ব্যাপক প্রশংসিত হয়। এ ছাড়াও, হাজার বছরের হাজার কবির ১০ হাজার কবিতা নামে একটি সিরিজ বইয়ের কাজ করছি, ইতিমধ্যে যার কয়েকটি খণ্ড প্রকাশিত হয়েছে। যদি এর ১০টি খণ্ড প্রকাশ করে যেতে পারি, তাহলে বাংলা কবিতার ১০ হাজার কবির একটি তালিকা হয়ে যাবে।

এই সিরিজ বইতে একজন কবির একটি কবিতাই যাবে; প্রথম খণ্ডে যার কবিতা গেছে তার কবিতা আর কোনো খণ্ডে যাবে না। বাংলা সাহিত্যে কবি ও কবিতা নামে যে বইটি করেছি, সেটিও একটি অমূল্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হবে। ছড়া নিয়ে হাজার বছরের হাজার ছড়াকারের এক হাজার ছড়া নামে যে বইটি করেছি, সেটিও ছড়ার ইতিহাসের একটি অনন্য সংযোজন। কবিতা নিয়ে আমার আরও অনেক ভালো ভালো কাজ আছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের লেখকদের কাজে আসবে।
প্রযুক্তির চাপে প্রকাশিত ছাপার অক্ষরের বই হারিয়ে যাবে কি না সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “এমন কথা আমাকেও অনেকে বলেন। তবে আমি এ বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করতে পারছি না। এ বিষয়ে আমার বক্তব্য হচ্ছে—উন্নত প্রযুক্তির ভিড়ে গুগল, ফেসবুক, ইউটিউব হয়তো একদিন বদলে যাবে বা হারিয়ে যাবে, কিন্তু পৃথিবী যতদিন থাকবে, ততদিন ছাপা বই থাকবে।”

আবুধাবিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়ে সৃজনশীলতা প্রতিযোগিতা
প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশকে হৃদয়ে ধারণ করার পাশাপাশি স্বাগতিক দেশ আমিরাতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে গড়ে ওঠার লক্ষ্যে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অস্ট্রেলিয়ার বন্দাই বিচে আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গির অভিযোগে ১ জন গ্রেপ্তার
ঘটনার পর ৫৩ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে সিডনির সারি হিলস পুলিশ স্টেশনে নেওয়া হয়। পরে তার বিরুদ্ধে জনসমক্ষে আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ আনা হয়।

রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত শাহেদের পরিবারে শোক, পিতৃহীন দুই শিশু
সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন শহীদ আহমেদ আশিক (৩৫)। তার মৃত্যুতে স্ত্রী, দুই শিশুসন্তান ও পরিবারের অন্য সদস্যদের জীবনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

অভিবাসন অপরাধ দমনে সহযোগিতা জোরদারে একমত ঢাকা ও লন্ডন
চুক্তির আওতায় নথি ও ভিসা জালিয়াতিসহ অনিয়মিত অভিবাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অপরাধ শনাক্ত করা, অপরাধী চক্রের কার্যক্রম ব্যাহত করা এবং এসব অপরাধ মোকাবিলায় দুই দেশ আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।