প্রতিদিন দুপুর পর্যন্ত ঘুমালে শরীরে যা ঘটে

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
প্রতিদিন দুপুর পর্যন্ত ঘুমালে শরীরে যা ঘটে
নজরদারি সফটওয়্যার, ঘন ঘন মিটিং ও সময় মাপার সংস্কৃতি কর্মীদের মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে। ছবি: ফ্রিপিক

অনেককেই দেখা যায় কাজের চাপে আথবা অভ্যাসের কারণে রাত জেগে থাকেন। আর এই রাত জাগার কারণে ঘুম থেকে উঠতে দুপুর হয়ে যায়। কখনো কি মনে প্রশ্ন জেগেছে এই দুপুর অব্দি ঘুমানো ভালো নাকি খারাপ?

নিয়মিত দুপুর পর্যন্ত ঘুমানো শরীর ও মন দুটোর জন্যই ক্ষতিকর হতে পারে। এমন অভ্যাস দীর্ঘদিন চলতে থাকলে শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ বা জৈবিক ক্রিয়া নষ্ট হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন গ্লেনিগলস হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ডা. মঞ্জুষা আগরওয়াল। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে তিনি এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “ঘুম শরীরের জন্য প্রয়োজনীয়, কিন্তু ঘুমের সময়ের সঠিকতা না থাকলে তার প্রভাব পড়ে শরীরের নানা অংশে। কেউ যদি প্রতিদিন রাত জেগে সকালে দেরিতে ঘুমাতে যান এবং দুপুরে ঘুম থেকে ওঠে, তাহলে তার ঘুমের প্রাকৃতিক সময়চক্রে ব্যাঘাত ঘটে। এতে শরীরের হরমোন, বিপাকক্রিয়া ও মনোযোগ নষ্ট হয়।‘’

ডা. আগরওয়ালের মতে, এমন ঘুমের অভ্যাসে ’সোশ্যাল–জেটল্যাগ’ দেখা দিতে পারে। অর্থাৎ, দিনের স্বাভাবিক সময়সূচির সঙ্গে শরীরের ঘুমের সময় মেলে না। এতে সকালে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়, ক্লান্তি বাড়ে এবং কাজের দক্ষতা কমে যায়।

তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন দুপুর পর্যন্ত ঘুমালে সকালে সূর্যের আলো কম পাওয়া যায়। এতে মনের ওপর প্রভাব পড়ে, অবসাদ ও ক্লান্তি দেখা দেয়। নিয়মিত এমন হলে মুড নষ্ট হয়, শক্তি কমে যায় এবং কাজের আগ্রহ হারিয়ে যায়।

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা অনেক সময় খাওয়ার ও শারীরিক কার্যক্রমের পরিবর্তন ঘটায়। এতে ওজন বেড়ে যায়, রক্তে শর্করা বাড়ে এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, অনিয়মিত ঘুম শরীরে প্রদাহ বাড়ায় এবং দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করে।

এছাড়া, দিনের আলোতে না থাকলে শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি দেখা দেয়। এতে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। পাশাপাশি সামাজিক জীবনে প্রভাব পড়ে-দৈনন্দিন কাজ, পড়াশোনা বা চাকরির সময়সূচির সঙ্গে মানিয়ে চলা কঠিন হয়ে পড়ে।

ডা. আগরওয়াল বলেন, ‘’যদি কেউ নিয়মিত দুপুর পর্যন্ত ঘুমান এবং তারপরও সারাদিন ক্লান্ত থাকে বা মনোযোগ দিতে না পারে, তবে এটি ‘হাইপারসমনিয়া’ নামের ঘুমজনিত সমস্যা হতে পারে। এ অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।”

তিনি পরামর্শ দেন, সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও জাগার অভ্যাস করতে হবে। সকালে অন্তত কিছুক্ষণ সূর্যের আলোতে থাকা উচিত। নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাবার ও পর্যাপ্ত পানি খাওয়া ঘুমের মান উন্নত করে। রাতে দেরি করে মোবাইল বা টিভি দেখা কমাতে হবে, কারণ এগুলো ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়।

ডা. আগরওয়াল আরো বলেন, “ঘুম শরীরের পুনরুদ্ধারের সময়। এটি হরমোন ঠিক রাখে, মনকে শান্ত রাখে এবং শরীরকে সতেজ করে। তাই দেরি করে ঘুমানোর অভ্যাস পরিবর্তন করা দরকার।”

চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত ঘুমের সময় ঠিক রাখলে মানসিক প্রশান্তি ও শারীরিক শক্তি বাড়ে। ফলে মনোযোগ, কর্মক্ষমতা এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়।

অর্থাৎ, দুপুর পর্যন্ত ঘুমানো যতই আরামদায়ক মনে হোক না কেন, এটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর। সময়মতো ঘুমানো ও সকালে ওঠার অভ্যাসই হতে পারে সুস্থ জীবনের প্রথম ধাপ।

সম্পর্কিত