চরচা ডেস্ক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কারণে ৯ কোটি ২০ লাখ মানুষ বেকার হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম।
একই সঙ্গে নতুন করে সাত কোটি ৮০ লাখ লোকের চাকরি তৈরি হবে বলেও জানিয়েছে বৈশ্বিক এ সংস্থাটি।
অর্থাৎ, কর্মক্ষেত্রের কাঠামো যেমন বদলাবে, তেমনি পাল্টে যাবে শিক্ষার ধরনও। এর মানে শুধু এআই দিয়ে প্রভাবিত পেশাগুলো নিয়ে ভাবলেই চলবে না। গভীরভাবে ভাবতে হবে ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রের জন্য কী ধরনের শিক্ষা দরকার, কোন ডিগ্রিগুলো কার্যকর থাকবে আর কোনগুলো হয়ে উঠবে অপ্রাসঙ্গিক।

যেসব কাজ সংখ্যা ও তথ্য নিয়ে বিশ্লেষণ করে এবং যেসব কাজে নিয়মিত হিসাব বা রিপোর্ট তৈরি করতে হয়, সেসব কাজ সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছে। এমন কিছু কাজ হলো- ডেটা অ্যানালাইসিসের প্রাথমিক স্তরের পদ, কাস্টমার সার্ভিস, প্রশাসনিক কাজ, বুককিপিং ও অ্যাকাউন্টিং, প্যারালিগাল বা আইনি সহকারী, অনুবাদকের কাজ ইত্যাদি। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছে ২০৩০ সালের এই পদগুলো আর থাকবে না।
এই পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়বে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর। সম্প্রতি ফোর্বস ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বিলুপ্তপ্রায়’ পেশাগুলোর সঙ্গে সঙ্গে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাবে কিছু ডিগ্রি। এই ব্যাচেলর ডিগ্রির মধ্যে রয়েছে অ্যাকাউন্টিং ও বুককিপিং, কমিউনিকেশন/অ্যাডভার্টাইজিং/মার্কেটিং ও গ্রাফিক ডিজাইন।
প্রথাগত হিসাবরক্ষণ বা বুককিপিং-এর কাজ এখন সহজেই এআই সফটওয়্যার দিয়ে করা যায়। তাই এই বিষয়ে পড়ুয়াদের উচিত এআই ফর ফিন্যান্স বা ফিনটেক-ভিত্তিক কোর্সে নিজেদের দক্ষতা বাড়ানো।

অন্যদিকে, মার্কেটিং ও যোগাযোগের জগতে এআই ইতিমধ্যেই বিপ্লব ঘটিয়েছে। কনটেন্ট রাইটিং, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, এমনকি বিজ্ঞাপন তৈরিতেও এআই এখন মানুষের বিকল্প হয়ে উঠছে। তাই ভবিষ্যতের মার্কেটিং ডিগ্রিতে শেখানো উচিত, কীভাবে এআই নৈতিক ও সৃজনশীলতার সঙ্গে ব্যবহার করা যায়, যাতে মানবিক অনুভূতিও অটুট থাকে।
একইভাবে, গ্রাফিক ডিজাইন জগতও পরিবর্তনের মুখে। এখ চ্যাটজিপিটি, ড্যাল.ই বা মিড জার্নির টুল ব্যবহার করে যে কেউ লোগো বা পোস্টার তৈরি করতে পারে। তাই শুধুমাত্র সফটওয়্যার শেখানোর বদলে শিক্ষার্থীদের শেখাতে হবে মানব মনস্তত্ত্ব, ডিজাইন চিন্তা, মার্কেটিং কৌশল, সৃজনশীল ভাবনা।
শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয়, কিছু দায়িত্ব নিতে হবে অফিস কর্তৃপক্ষেরও। তাদের উচিত কর্মীদের জন্য এআই সংক্রান্ত আপস্কিলিং বা রিস্কিলিং প্রোগ্রাম চালু করা, যাতে তারা ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর কাজের জন্য প্রস্তুত থাকে।
পেশাজীবীদের জন্য রয়েছে কোর্সেরা, লিংকডিন লার্নি, ইউডাসিটি, কোডেকাডেমি, গ্রেট লার্নিং-এর মতো অসংখ্য ফ্রি ও কম খরচের প্ল্যাটফর্ম, যেখানে তারা ২০২৬ ও তার পরের সময়ের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও অ-প্রযুক্তিগত এআই দক্ষতা অর্জন করতে পারেন।
ভবিষ্যতের পৃথিবীতে টিকে থাকতে হলে শুধু ‘ডিগ্রি’ নয়, প্রয়োজন অভিযোজন ও ক্রমাগত শেখার মানসিকতা। বিশ্ববিদ্যালয়, নিয়োগদাতা এবং ব্যক্তিগত পর্যায় সবার দায়িত্ব হচ্ছে নিজেদের প্রস্তুত করা সেই সময়ের জন্য।
তথ্যসূত্র: ফোর্বস

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কারণে ৯ কোটি ২০ লাখ মানুষ বেকার হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম।
একই সঙ্গে নতুন করে সাত কোটি ৮০ লাখ লোকের চাকরি তৈরি হবে বলেও জানিয়েছে বৈশ্বিক এ সংস্থাটি।
অর্থাৎ, কর্মক্ষেত্রের কাঠামো যেমন বদলাবে, তেমনি পাল্টে যাবে শিক্ষার ধরনও। এর মানে শুধু এআই দিয়ে প্রভাবিত পেশাগুলো নিয়ে ভাবলেই চলবে না। গভীরভাবে ভাবতে হবে ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রের জন্য কী ধরনের শিক্ষা দরকার, কোন ডিগ্রিগুলো কার্যকর থাকবে আর কোনগুলো হয়ে উঠবে অপ্রাসঙ্গিক।

যেসব কাজ সংখ্যা ও তথ্য নিয়ে বিশ্লেষণ করে এবং যেসব কাজে নিয়মিত হিসাব বা রিপোর্ট তৈরি করতে হয়, সেসব কাজ সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছে। এমন কিছু কাজ হলো- ডেটা অ্যানালাইসিসের প্রাথমিক স্তরের পদ, কাস্টমার সার্ভিস, প্রশাসনিক কাজ, বুককিপিং ও অ্যাকাউন্টিং, প্যারালিগাল বা আইনি সহকারী, অনুবাদকের কাজ ইত্যাদি। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছে ২০৩০ সালের এই পদগুলো আর থাকবে না।
এই পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়বে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর। সম্প্রতি ফোর্বস ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বিলুপ্তপ্রায়’ পেশাগুলোর সঙ্গে সঙ্গে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাবে কিছু ডিগ্রি। এই ব্যাচেলর ডিগ্রির মধ্যে রয়েছে অ্যাকাউন্টিং ও বুককিপিং, কমিউনিকেশন/অ্যাডভার্টাইজিং/মার্কেটিং ও গ্রাফিক ডিজাইন।
প্রথাগত হিসাবরক্ষণ বা বুককিপিং-এর কাজ এখন সহজেই এআই সফটওয়্যার দিয়ে করা যায়। তাই এই বিষয়ে পড়ুয়াদের উচিত এআই ফর ফিন্যান্স বা ফিনটেক-ভিত্তিক কোর্সে নিজেদের দক্ষতা বাড়ানো।

অন্যদিকে, মার্কেটিং ও যোগাযোগের জগতে এআই ইতিমধ্যেই বিপ্লব ঘটিয়েছে। কনটেন্ট রাইটিং, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, এমনকি বিজ্ঞাপন তৈরিতেও এআই এখন মানুষের বিকল্প হয়ে উঠছে। তাই ভবিষ্যতের মার্কেটিং ডিগ্রিতে শেখানো উচিত, কীভাবে এআই নৈতিক ও সৃজনশীলতার সঙ্গে ব্যবহার করা যায়, যাতে মানবিক অনুভূতিও অটুট থাকে।
একইভাবে, গ্রাফিক ডিজাইন জগতও পরিবর্তনের মুখে। এখ চ্যাটজিপিটি, ড্যাল.ই বা মিড জার্নির টুল ব্যবহার করে যে কেউ লোগো বা পোস্টার তৈরি করতে পারে। তাই শুধুমাত্র সফটওয়্যার শেখানোর বদলে শিক্ষার্থীদের শেখাতে হবে মানব মনস্তত্ত্ব, ডিজাইন চিন্তা, মার্কেটিং কৌশল, সৃজনশীল ভাবনা।
শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয়, কিছু দায়িত্ব নিতে হবে অফিস কর্তৃপক্ষেরও। তাদের উচিত কর্মীদের জন্য এআই সংক্রান্ত আপস্কিলিং বা রিস্কিলিং প্রোগ্রাম চালু করা, যাতে তারা ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর কাজের জন্য প্রস্তুত থাকে।
পেশাজীবীদের জন্য রয়েছে কোর্সেরা, লিংকডিন লার্নি, ইউডাসিটি, কোডেকাডেমি, গ্রেট লার্নিং-এর মতো অসংখ্য ফ্রি ও কম খরচের প্ল্যাটফর্ম, যেখানে তারা ২০২৬ ও তার পরের সময়ের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও অ-প্রযুক্তিগত এআই দক্ষতা অর্জন করতে পারেন।
ভবিষ্যতের পৃথিবীতে টিকে থাকতে হলে শুধু ‘ডিগ্রি’ নয়, প্রয়োজন অভিযোজন ও ক্রমাগত শেখার মানসিকতা। বিশ্ববিদ্যালয়, নিয়োগদাতা এবং ব্যক্তিগত পর্যায় সবার দায়িত্ব হচ্ছে নিজেদের প্রস্তুত করা সেই সময়ের জন্য।
তথ্যসূত্র: ফোর্বস