ads

বঙ্গভবন কবে ছাড়বেন মো. সাহাবুদ্দিন?

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
বঙ্গভবন কবে ছাড়বেন মো. সাহাবুদ্দিন?
কার্টুন চরচা

গত কয়েকদিন ধরেই রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ছিল রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের খবর। নানা সূত্রের বরাতে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে একের পর এক জল্পনা-কল্পনার খবর প্রকাশিত হতে থাকে। অবশেষে সব গুঞ্জনকে সত্য প্রমাণ করে গতকাল শুক্রবার জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় পৌনে দুই বছর আগেই পদত্যাগ করা মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগের পেছনে মূলত শারীরিক ও নানাবিধ স্বাস্থ্যগত জটিলতার কথা উল্লেখ করেছেন।

Advertisement

গতকাল শুক্রবার সকাল থেকেই বঙ্গভবন ও গণমাধ্যমপাড়ায় শুরু হয় থমথমে অবস্থা, আসলেই কী পদত্যাগ করছেন সাহাবুদ্দিন? করলে আজ নাকি কবে? তবে দুপুরের পর বঙ্গভবন ও সংসদ সচিবালয়ে বাড়তি প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়। সংসদে যায় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির প্রটোকল। পরে জানা যায়, বিকেল ৫টার দিকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পৌঁছায় মো. সাহাবুদ্দিনের স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র।

পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন যে, তিনি দীর্ঘদিন হৃদরোগ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতা এবং অটোনমিক নিউরোপ্যাথিসহ বিভিন্ন কঠিন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। এসব শারীরিক অসুস্থতার কারণে রাষ্ট্রপ্রধানের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ তার পক্ষে আর করা সম্ভব হচ্ছে না। সম্প্রতি স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার ‘Autonomic Neuropathy’ নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে, যার কারণে তিনি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যান। সে কারণেই সংবিধানের ৫০ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি স্বপ্রণোদিত হয়ে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

পদত্যাগপত্র পাওয়ার পরপরই স্পিকার জাতীয় সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলন ডাকেন। স্পিকার আনুষ্ঠানিকভাবে মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের বিষয়টি গণমাধ্যম ও দেশবাসীকে জানান। তিনি জানান, রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতি বা আসন শূন্য হলে স্পিকার অস্থায়ীভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। সে অনুযায়ী সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি নিজে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করছেন এবং আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল এই পদত্যাগকে স্বাগত জানিয়ে তাকে গ্রেপ্তার দাবি করে।

জামায়াতে ইসলামীর সংবাদ সম্মেলনে আমির শফিকুর রহমানকে প্রশ্ন করা হয়, মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে জুলাই হত্যার জন্য জামায়াতে ইসলামী মামলা করবে কি না। জবাবে জামায়াতের এই আমির বলেন, “যদি সে রকমের কোনো ক্রেডিবল আলামত পাওয়া যায়, তাহলে কোনো ব্যক্তিই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”

সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পরপরই বিকেলে ইনকিলাব মঞ্চও তার গ্রেপ্তারের দাবিতে মিছিল করে। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র আবদুল্লাহ জাবের বলেন, “শেখ হাসিনার গুম-খুনকে বৈধতা দিয়েছেন সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। কিন্তু ৫ আগস্টের পর তাকে অপসারণ করে বিচারের দাবি করা হলেও বিএনপি সরকার তা অগ্রাহ্য করেছে। আমরা চাই একজন গণহত্যার সহায়তাকারী হিসেবে তার বিচার করা হোক। অন্যথায় কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”

অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পাশাপাশি বিগত সময়ে তার ভূমিকার তদন্ত, বিচার এবং তাকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানায়।

কবে ছাড়বেন বঙ্গভবন

নিয়ম অনুযায়ী সাহাবুদ্দিন আরও একমাস বঙ্গভবনে থাকতে পারবেন। তবে সূত্র বলছে, দ্রুতই তিনি বঙ্গভবন ছাড়বেন। এরইমধ্যে তার গুলশানের বাসা প্রস্তুত করা হয়েছে। দেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমকে মো. সাহাবুদ্দিন জানিয়েছেন, তিনি গুলশানের বাসায় উঠবেন।

এদিকে, গতকাল শুক্রবার বিকেলে গুলশানের ১২৩ নম্বর সড়কের ‘গ্রিন ভিলা’ ভবনে নতুন টেলিফোন সংযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল)। বাসার সামনে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও দেখা গেছে।

সূত্র জানায়, মো. সাহাবুদ্দিনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও অন্যান্য মালামাল এরইমধ্যে বঙ্গভবন থেকে গুলশানের সেই বাসায় স্থানান্তর করা হয়েছে। যেকোনো সময় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গভবন ছাড়বেন।

সম্পর্কিত