‘খামেনিকে হত্যা মানে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, হামলা চলবে’

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
‘খামেনিকে হত্যা মানে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, হামলা চলবে’
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ছবি: রয়টার্স

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে কঠোর প্রতিশোধের অঙ্গীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি এই হত্যাকাণ্ডকে মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী শত্রুর সামরিক ঘাঁটিগুলোতে কঠোর আঘাত হানা অব্যাহত রাখবে।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, “আমাদের সর্বোচ্চ নেতার দেখানো পথ আমরা অনুসরণ করে যাব। এই ঐতিহাসিক অপরাধের পরিকল্পনাকারীদের এমন শাস্তি দেওয়া হবে যা তারা কল্পনাও করতে পারছে না।”

তিনি ঘোষণা করেন যে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইতিমধ্যেই শত্রুদের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে অভিযান শুরু করেছে এবং এটি আরও তীব্রতর হবে।

সর্বোচ্চ নেতার স্মরণে ইরানে ৪০ দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী সাত দিন দেশের সকল সরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

খামেনির শূন্যতা পূরণে একটি অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। এই কাউন্সিলে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নিজেই, প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের জুরিস্ট আলিরেজা।

গত শনিবার মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় তেহরানে খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা পারস্য উপসাগর এবং ইরাকে অবস্থিত অন্তত ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, পাল্টা হামলা অব্যাহত রাখলে তেহরানকে অভূতপূর্ব শক্তির মুখোমুখি হতে হবে।

খামেনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান, কাশ্মীর এবং ইরাকের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিরোধী বিশাল বিক্ষোভ মিছিলের খবর পাওয়া গেছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির মৃত্যু ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যার ফলে এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সম্পর্কিত