পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ার ডেরা ইসমাইল খান শহরে আজ শনিবার একটি পুলিশ চেকপোস্টে বোমা হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২০ জন। হামলার পর উদ্ধারকাজ চালানো সংগঠন রেসকিউ ১১২২-এর কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন লিখেছে, নিহতদের মধ্যে আটজন পুরুষ, দুজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ডিআই খান-কোয়েটা সড়কের মুঘল কোট ও দারাজিন্দার কাছে আমান মেলা চেকপোস্টে এ হামলা হয়। এলাকাটি খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তান প্রদেশের সীমান্তের কাছে।
কাতারি সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে অবশ্য এই হামলাকে আত্মঘাতী বোমা হামলা বলা হয়েছে। সশস্ত্র গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) এরই মধ্যে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে বলেও লিখেছে আল-জাজিরা।
তবে ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাইবার পাখতুনখাওয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি বলেছেন, “এই হামলা ফিতনা আল-হিন্দুস্তান খাওয়ারিজের একটি নোংরা ষড়যন্ত্র।”
পাকিস্তান সরকার বেলুচিস্তানভিত্তিক কয়েকটি গোষ্ঠীকে ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ নামে অভিহিত করে। এর মাধ্যমে দেশটি পাকিস্তানে সন্ত্রাস ও অস্থিতিশীলতার পেছনে ভারতের ভূমিকার অভিযোগ তুলে ধরে। একইভাবে নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে (টিটিপি) ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ নামে উল্লেখ করে পাকিস্তান সরকার।
এদিকে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি বলেছেন, “খাওয়ারিজদের কাপুরুষোচিত এসব কর্মকাণ্ড কখনোই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আমাদের কঠোর প্রতিজ্ঞাকে দুর্বল করতে পারবে না।” পাকিস্তান সরকার ‘খাওয়ারিজ’ শব্দটি ব্যবহার করে সন্ত্রাসীদের বোঝায়। মহসিন নাকভি আরও বলেন, “খাইবার পাখতুনখাওয়া সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সামনের সারিতেই আছে।”
সন্ত্রাসী হামলা বাড়ছে
ডনের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা হচ্ছে।
চলতি মাসের শুরুতে পুলিশ জানিয়েছিল, ডেরা ইসমাইল খানের দারাবান এলাকায় একটি চেকপোস্টে টিটিপির সন্ত্রাসীদের হামলার চেষ্টা তারা ব্যর্থ করে দিয়েছে। ওই ঘটনায় কোনো পুলিশ সদস্য হতাহত হননি।
এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর খাইবার পাখতুনখাওয়ার কোহাটে পুরনো পুলিশ লাইনসে এক হামলায় ২৩ জন নিহত হন। আহত হন প্রায় ১০০ জন। হামলার পর রাতভর চালানো অভিযানে আটজন সন্ত্রাসী নিহত হন।
পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (পিআইসিএসএস) মাসিক তথ্য তুলে ধরেছে ডন। সেখানে বলা হয়েছে, খাইবার পাখতুনখাওয়ার মূল ভূখণ্ডে গত আগস্টে ৫৪টি সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। জুলাইয়ে এ সংখ্যা ছিল ৩৬টি। অর্থাৎ এক মাসে হামলার সংখ্যা বেড়েছে ৫০ শতাংশ।