নতুন ও শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল প্রশিক্ষণের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ পুরোনো ও ব্যবহৃত বই সংগ্রহ করে ধ্বংস করছে সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘ফোর জিরো ফোর মিডিয়া’ সম্প্রতি এই গোপন প্রকল্পের তথ্য প্রকাশ করেছে।
ইন্টারনেট থেকে ডেটা নেওয়ার ক্ষেত্রে কপিরাইট জটিলতা ও আইনি ঝুঁকি এড়াতে এআই কোম্পানিগুলোর কাছে ছাপা বই বিক্রির এক নতুন ব্যবসা চালু হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বাজার থেকে সংগৃহীত বইগুলোর বাঁধাই কেটে পাতা আলাদা করেন এবং মেশিনে স্ক্যান করে এআইয়ের ডেটা হিসেবে সংরক্ষণ করেন। এরপর মূল বইটি ধ্বংস করে ফেলে দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ইন্টারনেটে এআই-সৃষ্ট নিম্নমানের কনটেন্ট বেড়ে যাওয়ায় ২০২৩ সালে জেনারেটিভ এআই জনপ্রিয় হওয়ার আগের মানসম্মত ও মানুষের লেখা বইগুলোর চাহিদা এখন সবচেয়ে বেশি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ‘আইএসবিএনডিবি’ নামের একটি সেবা একবারে ১০ লাখ বই সংগ্রহের প্রস্তাব দিয়েছিল, যার মধ্যে হাতে গোনা কয়েকটি কপি টিকে থাকা বিরল বইও অন্তর্ভুক্ত ছিল। দুই বছর আগে ‘ক্লড’ চ্যাটবটের নির্মাতা অ্যানথ্রপিক সাবেক গুগল বুকস কর্মকর্তা টম টারভিকে নিয়োগ দিয়ে বিপুল অর্থ ব্যয়ে বই কিনে এভাবে ধ্বংসের মাধ্যমে স্ক্যান করার কাজ শুরু করে।
এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ইলন মাস্ক উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, তিনি স্পেসএক্সের এআই দলকে যে কোনো বিরল বই মলাট না কেটে কষ্টকর উপায়ে হলেও স্ক্যান ও সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন।
নির্মাতাদের অধিকার সংস্থা ‘ফেয়ারলি ট্রেইন্ড’-এর প্রতিষ্ঠাতা এড নিউটন-রেক্স প্রশ্ন তোলেন, ব্যবহৃত বই কিনে বাণিজ্যিক এআইকে প্রশিক্ষণ দেওয়া নীতিগতভাবে ঠিক নয়, যা পরে মূল লেখকের সঙ্গেই প্রতিযোগিতা করবে। তিনি একে সংস্কৃতিকে গ্রাস করার প্রতীক বলে উল্লেখ করেন।
প্রযুক্তি কোম্পানি ফ্যাক্টরি এআইয়ের প্রধান নির্বাহী মাতান গ্রিনবার্গ সমালোচনা করে বলেন, ইতিহাস বই ধ্বংসকারীদের ভালোভাবে মনে রাখে না। গবেষক ফন্ট ই এস্পিও আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দুর্লভ বইয়ের শেষ কপিটিও এভাবে হারিয়ে যেতে পারে। মানব সংস্কৃতির মূল দলিল ধ্বংস না করে সঠিক উপায়ে ডিজিটাল সংরক্ষণের জোর দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।