ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থীকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে দায়িত্ব পালন থেকে নয়জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বুধবার রাতে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম। অভিযোগ ওঠার পর তাদের পরিবর্তে অন্য কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রত্যাহার করা কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও একজন ব্যাংক কর্মকর্তা রয়েছেন।
তারা হলেন ঠাকুরগাঁও পৌরসভার সবুজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মাসুদ রানা; ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ ভোটকেন্দ্রের জয়নাল আবেদিন; ঠাকুরগাঁও রোড বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের জুলফিকার আলী এবং গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের ফরিদা ইয়াসমিন।
অন্যরা হলেন সালন্দর পাঁচপীর ডাঙ্গা এবতেদায়ি মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রের সাদেকুল ইসলাম; সিংগিয়া মুন্সিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ; দৌলতপুর সোলেমান খান বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের ওবায়দুর রহমান; বালাপাড়া দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের শাহাদুল ইসলাম এবং বড়গ্রাম আলিম মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রের আবদুল জব্বার।
নয়জনই সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী নিয়ে গঠিত ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৮৫টি। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ১১৩টি, নবগঠিত রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভূল্লী উপজেলায় ৩৯টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে।
এ আসনে নিবন্ধিত ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫০ হাজার ৫৩ জন, নারী ২ লাখ ৫৬ হাজার ৫৭২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার চারজন।
ডাকযোগে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন মোট ২৮৭ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ২৪৯ জন এবং নারী ৩৮ জন।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণের কথা রয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে জন্য কর্তৃপক্ষ পৃথক ভোটকেন্দ্রগুলোর প্রস্তুতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
এ উপনির্বাচনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।