বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে কোনো আপস নয় বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার প্রণীত ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে বিচার বিভাগ, মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে আইনে পরিণত করার ক্ষেত্রে সরকার পিছু হটার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আজ সোমবার টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “গুরুত্বপূর্ণ কিছু অধ্যাদেশ বাতিল করা হচ্ছে, কিছু স্থগিত রাখা হচ্ছে এবং কিছু দুর্বল আকারে আইনে পরিণত করা হচ্ছে।... ... বিশেষ করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ—এই তিনটি ক্ষেত্র একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত। এই ক্ষেত্রগুলোতে কোনো ধরনের আপস বা দুর্বলতা গ্রহণযোগ্য নয়।”
টিআইবি নির্বাহী পরিচালক জানান, ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি আইনে পরিণত করার সিদ্ধান্তকে টিআইবি স্বাগত জানালেও, যেসব অধ্যাদেশ বাতিল, সংশোধন বা পরে যাচাইয়ের জন্য রাখা হয়েছে, সেগুলো নিয়ে তাদের উদ্বেগ রয়েছে।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “৯৮টি অধ্যাদেশের সবগুলোই দুর্বলতামুক্ত নয়। কিছু ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যমূলকভাবে দুর্বল করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে সরকারি হিসাব নিরীক্ষা অধ্যাদেশ, স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত সংশোধনী, এবং অন্যান্য কিছু অধ্যাদেশ উল্লেখযোগ্য। আমরা একটু উল্লেখ করবো, যার মধ্যে এমনও আছে–কোন কোন ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যমূলকভাবে দুর্বল করা হয়েছে। যেটি নিয়ে আমরা সরকারের প্রচণ্ড সমালোচনা করেছি–আপনারা সেটি জানেন, তাদের মনে আছে।”
ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, “বিচার বিভাগের স্বাধীনতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ এবং পৃথক সচিবালয় সংক্রান্ত তিনটিসহ মোট চারটি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
তিনি আরও বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনগুলোও এখনই আইনে পরিণত না করে পরে সংশোধনের জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। তার মতে, এটি দেশের আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ নিয়েও কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, “পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ নামে যেটি হয়েছে, সেটি সম্পূর্ণভাবে বাতিলযোগ্য। কারণ বাস্তবে কোনো স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের সুযোগ এতে নেই।”
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিচার বিভাগ স্বাধীন না হলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।