সারা দেশে মব ও রাজনৈতিক সহিংসতা চলতি বছরের জুলাইয়ের তুলনায় আগস্ট মাসে উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করেছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)। সংস্থাটি দাবি করেছে, এই সময়ে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের সংখ্যাও বেড়েছে।
এমএসএফ তাদের জুলাই-আগস্ট ২০২৬ সময়কালের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিং প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনটি চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘটিত সহিংসতা, প্রাণহানি, গ্রেপ্তার, হেফাজতে মৃত্যু, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, সীমান্ত পরিস্থিতি, সংখ্যালঘু নির্যাতন, অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার ও অন্যান্য মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট ঘটনাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সারা দেশে জুলাইয়ের ৩১ জনের তুলনায় আগস্টে মব সহিংসতায় ৩৫ জন নিহত এবং আহতের সংখ্যা ৫৮ থেকে বেড়ে ৭৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এদিকে, রাজনৈতিক সহিংসতায় আহতের সংখ্যা জুলাইয়ের ৯৫ জন থেকে আগস্টে ২৬৭ জনে উন্নীত হয়েছে। যদিও নিহতের সংখ্যা সাত থেকে পাঁচে কমেছে। আহতের সংখ্যা ব্যাপক বৃদ্ধি রাজনৈতিক সংঘাতের বিস্তার ও তীব্রতার বিষয় আতংকজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে এমএসএফ মনে করে।
জুলাই ও আগস্টের তুলনামূলক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগস্ট মাসে কিছু সূচকে ইতিবাচক পরিবর্তন হলেও সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতিতে কিছু প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে যা উদ্বেগজনক।
২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও সরকার পতন পরবর্তী বিভিন্ন মামলার ক্ষেত্রেও উদ্বেগজনক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। সরকার পতন পরবর্তী মামলায় আসামির সংখ্যা জুলাইয়ের ৬০০ থেকে আগস্টে ২৪০ জনে কমলেও গ্রেপ্তারকৃত আসামির সংখ্যা ১২৬ থেকে বেড়ে ২০৫ জনে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তারের সংখ্যাও জুলাইয়ের পাঁচ হাজার ১৯৬ থেকে আগস্টে পাঁচ হাজার ৬১৮ জনে বৃদ্ধি পেয়েছে। মনিটরিং অনুযায়ী এসব গ্রেপ্তারের বড় অংশ মাদক সংশ্লিষ্ট।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যু জুলাইয়ের দুজন থেকে আগস্টে একজনে এবং কারা হেফাজতে মৃত্যু নয়জন থেকে পাঁচজনে কমেছে। এটি সংখ্যাগতভাবে ইতিবাচক পরিবর্তন হলেও দুই মাসের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি উন্নতি হিসেবে বিবেচনা করা সমীচীন নয়।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা জুলাইয়ের ৩৬ জন থেকে আগস্টে ৩৭ জনে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ সাংবাদিক সংবাদ সংগ্রহের সময় হামলার শিকার হয়েছেন। পাশাপাশি একজন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার এবং আরেকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে সাইবার সংক্রান্ত মামলা ও গ্রেপ্তারের সংখ্যা কমেছে। তবে অনলাইন বক্তব্যের ক্ষেত্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইন প্রয়োগের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।
অজ্ঞাত লাশ জুলাইয়ের ৫৬টির তুলনায় আগস্টে ৭১টি উদ্ধার হয়েছে। এসব মৃতদেহের মধ্যে ৫৫ জন পুরুষ, ১৪ জন নারী এবং দুজনের লিঙ্গ ও বয়স শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এমএসএফ মনে করে, মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে আইনের শাসন নিশ্চিতকরণ, মব বিচার প্রতিরোধ, রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ, নির্বিচার গ্রেফতার প্রতিরোধ, হেফাজত ও কারাগারে জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, সাংবাদিক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষা, সীমান্তে নাগরিকের জীবন ও মর্যাদা রক্ষা এবং সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ জরুরি।