রংপুরে চার হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের ফলাফলে তাদের শরীরে কোনো অবৈধ মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘটনার ১০ দিন পর নমুনা সংগ্রহ করায় পরীক্ষায় মাদকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
এদিকে, রংপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক রফিকুল ইসলামের আদালতে মামলার অধিকতর তদন্তের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা জিন্নাত আলী। পরে বিচারক আসামিদের দুই দিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।
আজ সোমবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা ইউএনবি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আসামিরা জানিয়েছিলেন, হত্যাকাণ্ডের সময় তারা চরম উন্মাদনা ও মাদকাসক্ত অবস্থায় ছিল।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের আদেশে গত ৩০ আগস্ট রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করেন চিকিৎসকরা। পরে হাসপাতালের ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার পর দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, উভয় আসামির শরীরে ইয়াবা, গাঁজা বা অন্য কোনো নিষিদ্ধ মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
তবে চিকিৎসকদের মতে, মাদক সেবনের পর মানবদেহে বা প্রস্রাবে এর উপস্থিতি সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টা থেকে চার-পাঁচ দিন পর্যন্ত শনাক্ত করা যায়। হত্যাকাণ্ডের ১০ দিন পর পরীক্ষা করায় স্বাভাবিকভাবেই শরীরে মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
গণপতি চক্রবর্তীর শ্যালিকা পূজা চক্রবর্তী বলেন, “এত বড় একটি ঘটনার এক-দুই দিন পরই ডোপ টেস্ট করা যেত। সেখানে ১০ দিন পর ডোপ টেস্ট করে নেগেটিভ এসেছে। এখন কী হবে, তা আপনারা দেখেন।”
ডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, ডোপ টেস্টে মাদকের উপস্থিতি না পাওয়া গেলেও এতে খুনের তদন্তের অন্য দিকগুলো অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাচ্ছে না। আসামিদের জবানবন্দি, ঘটনাস্থলের আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত যাচাই করেই মামলার তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
রংপুর মেডিকেল কলেজের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. রাশেদুল হক বলেন, “কারাগার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ১০ দিনের মাথায় ডোপ টেস্ট করানো হয়েছে। যারা মাদক সেবন করেন, তাদের প্রস্রাবে পাঁচ থেকে সাত দিন পর্যন্ত মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়। আরও কম সময়ের মধ্যে পরীক্ষা করা হলে ভালো হতো।”
তিনি বলেন, “সাত দিনের মধ্যে পরীক্ষা করা হলে তারা মাদকে আসক্ত কি না, তা বোঝা যেত। পরীক্ষায় পজিটিভ পাওয়া যায়নি বলে তারা মাদকাসক্ত নন- এমনটা বলা যায় না। আবার ১০ দিন পর পরীক্ষা করায় তারা মাদকাসক্ত ছিলেন না, সেটিও বলা যাবে না।”
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, “ডোপ টেস্টে তাদের ফলাফল নেগেটিভ এসেছে।”
গত ২২ আগস্ট মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।