ফেসবুকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননা করার দায়ে শ্রীলঙ্কার নাগরিক আনোজান শিভারাসাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল সৌদি আরবের একটি আদালত। তবে ওই মন্তব্য মুছে ফেলে ক্ষমা চাওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে ফেসবুকে করা একটি মন্তব্যের কারণে ইসলাম অবমাননার অভিযোগে ২৭ বছর বয়সী আনোজান শিভারাসাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় রিয়াদের একটি আদালত।
তবে শ্রীলঙ্কার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী অরুণ হেমচন্দ্র জানিয়েছেন, সৌদি আরবের সর্বোচ্চ আদালত ওই মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল করেছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম মিডলইস্ট আই এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
গত বুধবার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে হেমচন্দ্র এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হওয়ায় তিনি সৌদি আরবের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
চলতি বছরের শুরুর দিকে হিন্দু তীর্থযাত্রার পর এক মুসলিম ব্যক্তির কুকুরকে লাথি মারার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে অনলাইনে বিতর্ক শুরু হয়।
একপর্যায়ে ওই ভিডিওর মন্তব্যের ঘরে এক ব্যবহারকারী হিন্দু দেবতা সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। এর জবাবে শিভারাসা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননা করে মন্তব্য করেন।
পরে শিভারাসা তার মন্তব্যটি মুছে ফেলেন এবং একটি ভিডিও প্রকাশ করে ক্ষমা চান। তবে তাদের কথোপকথনের একটি স্ক্রিনশট তার নিয়োগকর্তা ও সৌদি কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়। এর প্রেক্ষিতেই জুলাই মাসে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শিভারাসা এখনো কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে আর কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
শিভারাসাকে দোষী সাব্যস্ত করার সময় আল-আহসা ফৌজদারি আদালত তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানাও করেন। জরিমানার পরিমাণ প্রায় আট লাখ আমেরিকান ডলার।
সৌদি আরবের বিচারব্যবস্থা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মধ্যে এই দণ্ডের ঘটনা ঘটে।
‘জননৈতিকতা’ রক্ষার যুক্তিতে অনলাইনে মতপ্রকাশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সৌদি আরব ইসলামী আইনের বিভিন্ন ব্যাখ্যার পাশাপাশি সাইবার অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদ দমনসংক্রান্ত আইন প্রয়োগ করে থাকে।
এর ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের কারণে ব্যবহারকারীদের দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনা বেড়েছে। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগের প্রবণতাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত সৌদি আরবে অন্তত ১৭৫ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তাদের অধিকাংশই বিদেশি নাগরিক।