চট্টগ্রামে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি জন্মাষ্টমী উপলক্ষে চার দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ। আজ বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আগামী শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের জে এম সেন হল থেকে শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচি শুরু হবে। শোভাযাত্রার উদ্বোধন করবেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।
বুধবার বিকেলে চট্টগ্রামের জে এম সেন হলে অনুষ্ঠিত ধর্ম মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের পক্ষ থেকে হিন্দুদের নিরাপত্তা, সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও কমিশন গঠন, বৈষম্যমূলক সকল আইন বিলুপ্ত করা এবং অধিকার নিশ্চিত করাসহ প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১৫ দফা দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কমিটির সাধারণ সম্পাদক আর কে দাশ রুপু বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে হিন্দুরা বিভিন্নভাবে নির্যাতন, শোষণ ও বৈষম্যের শিকার হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে প্রত্যেকটি সরকারের সময় সাম্প্রদায়িক হামলা, বৈষম্যের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু আমরা সনাতনীরা কোনো বিচার পাইনি।”
তিনি জানান, রংপুরে একই পরিবারের চারজন খুন, বিভিন্ন জায়গায় হিন্দুদের শ্মশান ও জমি জবর দখল এবং ‘ইসকন’ ট্যাগ দিয়ে হিন্দুদের হয়রানি ও চাকরিচ্যুতির ঘটনা হিন্দুদের চরমভাবে হতাশ ও আতঙ্কিত করেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত আন্তরিক। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে তিনি মডেল রেইনবো নেশন গড়ে তুলবেন।
পরিষদের পক্ষে ১৫ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- সংবিধানের আলোকে সকল ধর্মের মানুষের মত হিন্দুদের নিরাপত্তা প্রদান, জাতিগত সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও সংখ্যালঘু কমিশন গঠন, বৈষম্যমূলক সকল আইন বিলুপ্ত করা এবং হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানদের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন, সরকারি চাকরিসহ বিভিন্ন স্তরে হিন্দুদের অধিকার নিশ্চিত ও তাদের পদায়নে বৈষম্য দূর করা, পার্বত্য ভূমি কমিশন আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন এবং সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন ও দেবোত্তর সম্পত্তি সংরক্ষণ আইন প্রণয়ণ।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে জে এম সেন হলে আগামী শনিবার থেকে অনুষ্ঠিত হবে ষোড়শপ্রহরব্যাপী মহানাম সংর্কীতন।