চরচা প্রতিবেদক

সরকারি বিদ্যুৎ ক্রেতা সংস্থা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) থেকে বিল পরিশোধে দীর্ঘ বিলম্বের কারণে দেশের বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো গুরুতর আর্থিক চাপে পড়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপপা)।
রাজধানীর একটি হোটেলে আজ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি দাবি করেছে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে ১৮০ থেকে ২৭০ দিন পর্যন্ত বিল পরিশোধে দেরি হচ্ছে। যা বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জ্বালানি আমদানির সক্ষমতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। বকেয়া পরিশোধের সমাধান হিসেবে ‘পাওয়ার বন্ড’ ইস্যু করারও প্রস্তাব দেন বিপপা নেতারা।
বিপপার প্রেজেন্টেশনে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) অনুযায়ী সাধারণত ৩০ দিনের মধ্যে বিল পরিশোধ করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা কয়েক মাস পর্যন্ত দেরি হচ্ছে। এর ফলে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদকদের আর্থিক স্থিতিশীলতা দুর্বল হয়ে পড়েছে।
বিলম্বে হাজার কোটি টাকার ক্ষতি
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, দেরিতে অর্থ দেওয়ার কারণে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ইতোমধ্যে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। মুদ্রা বিনিময় হার ওঠানামার কারণে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি সুদের অতিরিক্ত ব্যয় বাবদ আরও প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয় বেড়েছে।
এলসি খুলতে না পারায় উৎপাদনে চাপ
সংগঠনটি জানিয়েছে, দীর্ঘদিন বিল বকেয়া থাকায় অনেক কোম্পানি জ্বালানি তেল, লুব অয়েল ও যন্ত্রাংশ আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় এলসি খুলতে পারছে না। ফলে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রয়োজনের তুলনায় কম উৎপাদনে চালাতে বাধ্য হচ্ছে। জ্বালানি আমদানি ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হলে জাতীয় গ্রিডের চাহিদা পূরণে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
বিপপা বলছে, আর্থিক ও পরিচালনাগত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে সর্বোচ্চ সক্ষমতা অনুযায়ী উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদকদের সংগঠনটি সম্ভাব্য সংকট এড়াতে সরকারের কাছে কয়েকটি সুপারিশ করেছে।
প্রথমত, বিপিডিবিকে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নিয়মিত বিল পরিশোধ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনটির মতে, চুক্তি অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ না হলে ভবিষ্যতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যেতে পারে।
দ্বিতীয়ত, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কমাতে এইচএফও জ্বালানির ওপর ৩৪ শতাংশ এবং এলএনজির ওপর ২২ শতাংশ আমদানি শুল্ক সাময়িকভাবে কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে। সংগঠনটির মতে, এসব শুল্ক আঞ্চলিক গড়ের (০–১১ শতাংশ) সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ কমবে এবং ভর্তুকির চাপও কমবে।
বকেয়া বিল ও বিদেশি কোম্পানির সুবিধা
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিপপা নেতারা অভিযোগ করেন, দেশীয় আইপিপিগুলো সরকারকে সর্বোচ্চ ছাড় দিলেও তারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। নেতারা জানান, যেখানে দেশীয় কোম্পানিগুলোকে সাত মাস ধরে বিল দেওয়া হচ্ছে না, সেখানে আদানির মতো বিদেশি কোম্পানিগুলোকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে নেতারা প্রশ্ন তোলেন, বিদেশি কোম্পানি সুযোগ পেলে দেশীয় কোম্পানি কেন বঞ্চিত হবে এবং এটি একটি নৈতিক ও জাতীয়তাবাদী দায়িত্বের বিষয়।
বকেয়া পরিশোধের সমাধান হিসেবে তারা ‘পাওয়ার বন্ড’ ইস্যু করার প্রস্তাব দেন। নেতারা জানান, সরকারের কাছে নগদ অর্থের সংকট থাকলে বন্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট করা যেতে পারে, যা দেশীয় কোম্পানিগুলো গ্রহণ করতে রাজি আছে, কিন্তু বিদেশিরা তা নেবে না।
বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমার শঙ্কা
সংগঠনটির দাবি, চুক্তি বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও কমে যাচ্ছে। প্রেজেন্টেশনে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি প্রায় ৫ হাজার ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের দরপত্রে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ খুবই সীমিত ছিল এবং শেষ পর্যন্ত মাত্র ৯০০ মেগাওয়াট প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
সংগঠনটির মতে, বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির শর্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো সম্ভব হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বিপপা প্রেসিডেন্ট ডেভিড হাসনাত, ভাইস প্রেসিডেন্ট গুলাম রাব্বানী, সদস্য ইমরান করিম।

সরকারি বিদ্যুৎ ক্রেতা সংস্থা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) থেকে বিল পরিশোধে দীর্ঘ বিলম্বের কারণে দেশের বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো গুরুতর আর্থিক চাপে পড়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপপা)।
রাজধানীর একটি হোটেলে আজ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি দাবি করেছে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে ১৮০ থেকে ২৭০ দিন পর্যন্ত বিল পরিশোধে দেরি হচ্ছে। যা বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জ্বালানি আমদানির সক্ষমতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। বকেয়া পরিশোধের সমাধান হিসেবে ‘পাওয়ার বন্ড’ ইস্যু করারও প্রস্তাব দেন বিপপা নেতারা।
বিপপার প্রেজেন্টেশনে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) অনুযায়ী সাধারণত ৩০ দিনের মধ্যে বিল পরিশোধ করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা কয়েক মাস পর্যন্ত দেরি হচ্ছে। এর ফলে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদকদের আর্থিক স্থিতিশীলতা দুর্বল হয়ে পড়েছে।
বিলম্বে হাজার কোটি টাকার ক্ষতি
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, দেরিতে অর্থ দেওয়ার কারণে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ইতোমধ্যে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। মুদ্রা বিনিময় হার ওঠানামার কারণে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি সুদের অতিরিক্ত ব্যয় বাবদ আরও প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয় বেড়েছে।
এলসি খুলতে না পারায় উৎপাদনে চাপ
সংগঠনটি জানিয়েছে, দীর্ঘদিন বিল বকেয়া থাকায় অনেক কোম্পানি জ্বালানি তেল, লুব অয়েল ও যন্ত্রাংশ আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় এলসি খুলতে পারছে না। ফলে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রয়োজনের তুলনায় কম উৎপাদনে চালাতে বাধ্য হচ্ছে। জ্বালানি আমদানি ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হলে জাতীয় গ্রিডের চাহিদা পূরণে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
বিপপা বলছে, আর্থিক ও পরিচালনাগত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে সর্বোচ্চ সক্ষমতা অনুযায়ী উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদকদের সংগঠনটি সম্ভাব্য সংকট এড়াতে সরকারের কাছে কয়েকটি সুপারিশ করেছে।
প্রথমত, বিপিডিবিকে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নিয়মিত বিল পরিশোধ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনটির মতে, চুক্তি অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ না হলে ভবিষ্যতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যেতে পারে।
দ্বিতীয়ত, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কমাতে এইচএফও জ্বালানির ওপর ৩৪ শতাংশ এবং এলএনজির ওপর ২২ শতাংশ আমদানি শুল্ক সাময়িকভাবে কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে। সংগঠনটির মতে, এসব শুল্ক আঞ্চলিক গড়ের (০–১১ শতাংশ) সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ কমবে এবং ভর্তুকির চাপও কমবে।
বকেয়া বিল ও বিদেশি কোম্পানির সুবিধা
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিপপা নেতারা অভিযোগ করেন, দেশীয় আইপিপিগুলো সরকারকে সর্বোচ্চ ছাড় দিলেও তারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। নেতারা জানান, যেখানে দেশীয় কোম্পানিগুলোকে সাত মাস ধরে বিল দেওয়া হচ্ছে না, সেখানে আদানির মতো বিদেশি কোম্পানিগুলোকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে নেতারা প্রশ্ন তোলেন, বিদেশি কোম্পানি সুযোগ পেলে দেশীয় কোম্পানি কেন বঞ্চিত হবে এবং এটি একটি নৈতিক ও জাতীয়তাবাদী দায়িত্বের বিষয়।
বকেয়া পরিশোধের সমাধান হিসেবে তারা ‘পাওয়ার বন্ড’ ইস্যু করার প্রস্তাব দেন। নেতারা জানান, সরকারের কাছে নগদ অর্থের সংকট থাকলে বন্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট করা যেতে পারে, যা দেশীয় কোম্পানিগুলো গ্রহণ করতে রাজি আছে, কিন্তু বিদেশিরা তা নেবে না।
বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমার শঙ্কা
সংগঠনটির দাবি, চুক্তি বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও কমে যাচ্ছে। প্রেজেন্টেশনে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি প্রায় ৫ হাজার ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের দরপত্রে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ খুবই সীমিত ছিল এবং শেষ পর্যন্ত মাত্র ৯০০ মেগাওয়াট প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
সংগঠনটির মতে, বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির শর্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো সম্ভব হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বিপপা প্রেসিডেন্ট ডেভিড হাসনাত, ভাইস প্রেসিডেন্ট গুলাম রাব্বানী, সদস্য ইমরান করিম।