নির্বাচনে ৮,৭৭০ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, থাকবে তিন স্তরের নিরাপত্তা: আইজিপি

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
নির্বাচনে ৮,৭৭০ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, থাকবে তিন স্তরের নিরাপত্তা: আইজিপি
পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। ছবি: চরচা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৮ হাজার ৭৭০টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। তবে প্রতিটি কেন্দ্রে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে বলেও জানান তিনি।

আজ মঙ্গলবার পুলিশ সদর দপ্তরে মিডিয়া সেন্টারে ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি’ সম্পর্কে আয়োজিত সংবাদ তিনি এসব তথ্য জানান।

আইজিপি বলেন, সারা দেশে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৮ হাজার ৭৭০টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া ১৬ হাজার কেন্দ্রকে মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ এবং বাকি কেন্দ্রগুলোকে সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নজরদারি থাকবে।

বাহারুল আলম বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে নিরাপদ নির্বাচন হিসেবে আয়োজন করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। নির্বাচন উপলক্ষে সারা দেশে প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন পুলিশ সদস্য, প্রায় ৬ লাখ আনসার, বিজিবি এবং ১ লাখ সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে।

নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিন স্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে থাকবে স্ট্যাটিক ফোর্স, এর বাইরে থাকবে মোবাইল টিম এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্ট্রাইকিং ফোর্স।

নির্বাচন ঘিরে গত ১১ ডিসেম্বরের পর থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে ৩১৭টি সহিংসতার ঘটনায় মোট ৬১৩ জন আহত এবং পাঁচজন নিহত হয়েছেন জানিয়েছে আইজিপি। তিনি বলেন, একটি মৃত্যুও আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। আমরা চেষ্টা করেছি যেন একটি মৃত্যুও না ঘটে। তবু বাস্তবতায় কিছু ঘটনা ঘটেছে, যা আমরা তদন্ত করছি।

নির্বাচনকেন্দিক পাঁচজন নিহতের মধ্যে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি ও শেরপুরের জামায়াত নেতা রেজাউল করিম নিহতের কথা উল্লেখ করেন আইজিপি। এছাড়া নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে তিনজন নিহতের কথা জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। এর বাইরে অন্য নিহতের ঘটনা নির্বাচনকেন্দ্রীক না বলে জানান আইজিপি।

আইজিপি বলেন, এবার নির্বাচন নিরাপত্তায় প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি জেলা পুলিশ সুপাররা প্রয়োজন অনুযায়ী ড্রোন ক্যামেরা ব্যবহার করবেন।

৫ই আগস্টে জেল পালানো আসামি ও জঙ্গিরা নির্বাচনে কোনো হুমকি তৈরি করছে কি না জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, নির্বাচনী প্রচারের সময় কিছু আশঙ্কা ছিল। তবে প্রচার শেষ হয়েছে বড় কোনো ঘটনা ছাড়াই। বর্তমানে নির্বাচনকে ব্যাহত করার মতো কোনো শক্তিশালী জঙ্গি হুমকি নেই।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন, অতিরিক্ত আইজি (অর্থ) মো. আকরাম হোসেন, অতিরিক্ত আইজি (লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন) মোসলেহ উদ্দিন আহমদ ও অতিরিক্ত আইজি (ডেভেলপমেন্ট) সরদার নূরুল আমিন।

সম্পর্কিত