কামরাঙ্গীরচরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: চার জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
কামরাঙ্গীরচরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: চার জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
প্রতীকী ছবি

ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থানায় ২৫ বছরের এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় চারজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

আজ রোববার সকালে ঢাকা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন শহিদুল ইসলাম (২৩), সাইফুল ইসলাম (২৫), নিজাম (২৪) ও মনির হোসেন ওরফে সেন্টু (২৬)।

সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম (জর্জ) এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

এরশাদ আলম বলেন, রায় ঘোষণার সময় আসামি শহিদুল ইসলাম, নিজাম ও মনির হোসেন ওরফে সেন্টুকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণা শেষে তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে আবারও জেল হাজতে পাঠানো হয়। আসামি সাইফুল ইসলাম পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

রায়ে আসামিদের স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় করে জরিমানার টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০০৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ২৫ বছর বয়সি ওই নারী তার বান্ধবীর সাথে কামরাঙ্গীরচর থানার আশ্রাফাবাদে ময়দার মিলের পাশে নৌকা ঘাটে বেড়িবাধে বেড়াতে যান। একপর্যায়ে তার বান্ধবী তাকে রেখে বাসায় চলে যায়। এরপর ওই বিকেল ৬টা ৪৫ মিনিটে আসামি মো. শহিদুল, মো. সাইফুল, মো. নিজাম, সুজন, মো. পলাশ এবং মো. সেন্টু জোরপূর্বক তার প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে একটি নৌকায় উঠায় এবং বুড়িগঙ্গা নদীর মাঝখানে নিয়ে মাঝিকে নদীর মধ্যে ফেলে দেন। নৌকার মধ্যে আসামিরা পালাক্রমে ওই নারীকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণ করার পর আসামিরা ভুক্তভোগীকে একটি রুমের মধ্যে তালাবদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে ভুক্তভোগীর বাবা-মা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেন। পরে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে কামরাঙ্গীরচর থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলাটি করেন।

মামলাটি তদন্ত করে ২০১০ সালের ৩১ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কামরাঙ্গীরচর থানার উপপরিদর্শক মো. শফিকুল ইসলাম শিকদার আসামি শহিদুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, নিজাম এবং মনির হোসেন সেন্টু-দের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯(৩) ধারা অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এছাড়াও আসামি সুজন এবং পলাশের ঠিকানা সঠিক না পাওয়ায় এবং আসামি মো. সাইফুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন।

পরে আসামি শহিদুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, নিজাম এবং মনির হোসেন ওরফে সেন্টুর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯(৩) ধারায় চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। অপর আসামি সুজন, পলাশ ও সাইফুলকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতির আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

সম্পর্কিত