জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, “জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচার না করে উৎখাত হওয়া স্বৈরাচারী শাসনের সঙ্গে কোনো আপস বা পুনর্মিলনের সুযোগ নেই।”
আজ সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজের (সিজিএস) উদ্যোগে ‘জাস্টিস, অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যান্ড ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন।
কায়সার কামাল বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একনায়কতন্ত্র থেকে গণতন্ত্রে উত্তরণের অভিজ্ঞতা দেখায়- বিচার এড়িয়ে দ্রুত পুনর্মিলনের চেষ্টা অনেক সময় ব্যর্থ হয়। অপরাধীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা দেশকে আবারও অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।”
জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “৫ আগস্ট কেবল ক্ষমতার পালাবদল নয়, এটি দেশের রাজনৈতিক ধারায় একটি মৌলিক পরিবর্তন।” জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধানী দলের প্রতিবেদন উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, “ওই আন্দোলনে অন্তত এক হাজার ৬০০ মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১২ থেকে ১৩ শতাংশ শিশু।”
বিচার বিভাগ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে জনগণের স্বার্থে পুনর্গঠনের ওপরও জোর দেন ডেপুটি স্পিকার। তার মতে, বিচার, জবাবদিহি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নিশ্চিত না হলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ফিরবে না।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ কারও অনুগ্রহের ওপর নির্ভর করবে না; নিজস্ব সক্ষমতার ভিত্তিতে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বমঞ্চে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান তৈরি করবে।”