রিকন্ডিশন্ড বা ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) আমদানির সুযোগ পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)। আজ শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
সংগঠনটির দাবি, নতুন আমদানি নীতিতে ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানি নিষিদ্ধ করায় আধুনিক প্রযুক্তির তুলনামূলক সাশ্রয়ী যানবাহন ব্যবহারের সুযোগ থেকে গ্রাহকেরা বঞ্চিত হচ্ছেন।
বারভিডা জানায়, গত ২৪ আগস্ট প্রকাশিত নতুন আমদানি নীতিতে ব্যবহৃত বা রিকন্ডিশন্ড ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর ফলে পুরোনো গাড়ির কাঠামোর সঙ্গে নতুন প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি বৈদ্যুতিক মোটরযান ব্যবহারের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “নতুন ইভির দাম মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের অনেকেরই নাগালের বাইরে। তুলনামূলক কম দামে রিকন্ডিশন্ড ইভি বাজারে এলে পেশাজীবী ও সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বৈদ্যুতিক গাড়ি পৌঁছানো সহজ হবে। একই সঙ্গে ইভির বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হলে ২০৩০ সালের মধ্যে মোটরযান খাতে ৩০ শতাংশ বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের সরকারি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও সহায়ক হবে।”
বারভিডা নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর মাধ্যমে রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। সংগঠনটি প্রাথমিকভাবে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর বয়সী ব্যবহৃত বা রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির অনুমতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি আমদানির ক্ষেত্রে গাড়ির ব্যাটারির স্বাস্থ্য বা স্টেট অব হেলথ (এসওএইচ) ন্যূনতম ৭০ শতাংশ নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বারভিডা বলছে, চার্জিং স্টেশন, গাড়ির সার্ভিসিং, ব্যাটারি ডায়াগনস্টিক ও রিসাইক্লিং খাতে প্রকৃত বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে শুল্ক ও করের মাধ্যমে দেওয়া প্রণোদনা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি চলতি বাজেটে ইলেকট্রিক যানবাহনের জন্য মূল্যস্তরভিত্তিক যে শুল্ক ও কর কাঠামো করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট খাতের সঙ্গে আলোচনা করে সেটি যৌক্তিকভাবে পুনর্বিন্যাসের দাবি জানিয়েছে তারা।
মানববন্ধনে বারভিডার প্রেসিডেন্ট আবদুল হক, সেক্রেটারি জেনারেল রিয়াজ রহমান, সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্দুল মান্নান চৌধুরী খসরু, মো. হাবিব উল্লাহ ডন, সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল মাহবুবুল হক চৌধুরী বাবর, সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামসহ সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দ, সাধারণ পরিষদের সদস্য এবং রিকন্ডিশন্ড মোটরযান খাতের ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।