Advertisement Banner

রুশ জ্বালানি আমদানিতে মার্কিন ‘ছাড়ের’ সংবাদ ‘ভিত্তিহীন’

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
রুশ জ্বালানি আমদানিতে মার্কিন ‘ছাড়ের’ সংবাদ ‘ভিত্তিহীন’
বাংলাদেশ সরকারের লোগো।

রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে ৬০ দিনের ‘ছাড়’ দিয়েছে—এমন সংবাদকে ভিত্তিহীন ও অনুমোদনহীন বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।

গতকাল শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন তাদের কোনো অনুমোদিত সূত্র থেকে দেওয়া হয়নি। বিশেষ করে ১১ এপ্রিল থেকে ৯ জুন, ২০২৬ সময়সীমায় কথিত ৬০ দিনের ওয়েভার কিংবা রাশিয়া থেকে ১০ লাখ টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা—এ ধরনের কোনো তথ্য বিভাগ থেকে গণমাধ্যমে সরবরাহ করা হয়নি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে বলা হয়, রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ওয়েভার (ছাড়) সংক্রান্ত সরকারি তথ্য, আপডেট বা যোগাযোগ তাদের কাছে নেই। একইসঙ্গে এ ধরনের কোনো প্রস্তাব, সিদ্ধান্ত বা চুক্তি সম্পর্কেও বিভাগ অবগত নয়।

জ্বালানি বিভাগ সতর্ক করে বলেছে, তাদের নাম ব্যবহার করে ‘অযাচাইকৃত ও সংবেদনশীল’ তথ্য প্রকাশ করলে জাতীয় জ্বালানি নীতি ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ২০২২ সাল থেকে রাশিয়ার জ্বালানি খাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং অনেক দেশ বিকল্প উৎস খুঁজতে শুরু করে।

বাংলাদেশ ঐতিহ্যগতভাবে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের কাছ থেকে আমদানি করে থাকে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তি ও উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক দরপত্র—দুই পদ্ধতিতেই জ্বালানি সংগ্রহ করে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে জ্বালানি তেলের মজুত ও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং চাহিদা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানি অব্যাহত আছে। সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিও জরুরি চাহিদা পূরণে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরাসরি ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছে, যা বিদ্যমান সরবরাহ ব্যবস্থা বজায় রাখার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সম্পর্কিত