জাতীয় সংসদে যতদিন পর্যন্ত জনগণের স্বার্থে কথা বলার পরিবেশ থাকবে, ততদিনই জামায়াত সংসদে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগর মোড়ে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘‘জাতির স্বার্থে যতদিন সংসদে থাকার দরকার হবে, তার বাইরে আমরা এক সেকেন্ডও থাকবো না। যেদিন সংসদে প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে , যেদিন মনে হবে এই সংসদে কথা বলে লাভ নাই; সেদিন এই সংসদ থেকে আমরা বেরিয়ে আসব।’’
বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, ‘‘লজ্জার বিষয় হলো—ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হওয়ার কথা বলে ঠিক ফ্যাসিবাদের রাজপথ ধরেই তারা এখন হাঁটা শুরু করেছেন। নির্বাচনের সময় তারা বলেছিলেন, নির্বাচিত হলে ফ্যাসিবাদের হাতে যতগুলো খুন, গুম ও নির্যাতন হয়েছে, সবগুলোর বিচার করবেন। কিন্তু ক্ষমতায় বসার পর এখন তাদের সুর পাল্টে গেছে। বিচার তো তারা করছেই না, বরঞ্চ গত চার মাসে ৬ শতাধিক মানুষ নির্মমভাবে বাংলার মাটিতে খুন হয়েছে।”
শফিকুর রহমান বলেন, ‘‘বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তন, বিভিন্ন ব্যাংকে অযাচিত হস্তক্ষেপ, বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজগুলো দলীয় অনুগত লোকদের দিয়ে দখল করা, জেলায় জেলায় নিজেদের প্রশাসক বসিয়ে দেওয়া, এমনকি খেলার মাঠটাও তারা দলমুক্ত রাখতে পারলেন না। এইভাবে তারা কার্যত একদলীয় ফ্যাসিবাদী শাসনের দিকে আগাচ্ছেন।”
সরকারি দল বিএনপির উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘‘বাংলাদেশ কিন্তু বারবার বিপ্লবের সাক্ষী। আমরা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি—হয় আপনারা (অপরাধীদের) বিচার নিশ্চিত করুন, না হয় যাওয়ার রাস্তা খুঁজে বের করুন।”
ক্ষমতাসীনদের এক সিনিয়র নেতার ‘নির্মূল’ করার ঘোষণার দিকে ইঙ্গিত করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘‘অতীতে যারা নির্মূল করার ঘোষণা দিয়েছিল, তারা নিজেরাই আজকে নির্মূল হয়ে গেছে। নির্মূলের রাজনীতি বেশি করবেন না। এটি এক ধরনের ভাইরাস—চাঁদাবাজির ভাইরাস, দুর্নীতির ভাইরাস, দলীয় শাসনের ভাইরাস। এই সকল ভাইরাস থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য আরেকটি বিপ্লব অনিবার্য হয়ে উঠেছে।”