মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি ভবনে যাওয়ার পথ তৈরি হতেই বদলে গেল সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের সমীকরণ। মন্ত্রিসভায় আনা হয়েছে জরুরি রদবদল। ফখরুলের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্র ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়েও আসছে পরিবর্তন।
নীতি-নির্ধারণী সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রশাসনিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের শূন্যতা তৈরি না করে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলো সচল রাখা এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে প্রশাসনিক কাঠামোর দ্রুত সমন্বয় করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলের নাম চূড়ান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি তার সংসদীয় ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। আর তার এই সিদ্ধান্তের পরই সামনে আসে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন–কে সামলাবেন এলজিআরডির মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়?
সেই প্রশ্নের উত্তরও এসেছে দ্রুতই। ফখরুলের মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সালাহউদ্দিন আহমদের কাঁধে যাচ্ছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে থাকা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে দেওয়া হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফখরুল রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় মন্ত্রণালয়টিতে নেতৃত্বের কোনো শূন্যতা যেন তৈরি না হয়, সেজন্য দ্রুতই অভিজ্ঞ এই নেতাকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
স্থানীয় সরকার ও গ্রামীণ উন্নয়ন থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। ফলে মন্ত্রণালয়টির দায়িত্বে দ্রুত নতুন নেতৃত্ব আনার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শুধু এলজিআরডি নয়, একই সঙ্গে পরিবর্তন আসছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে দেওয়া হচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
অর্থাৎ, একদিকে ফখরুলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়াকে কেন্দ্র করে এলজিআরডিতে নতুন দায়িত্ব বণ্টন, অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে পরিবর্তন–সব মিলিয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দপ্তরে একসঙ্গে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
কেন এত দ্রুত রদবদল?
নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সূত্রগুলো বলছে, এই রদবদলের মূল লক্ষ্য হলো রাজনৈতিক পর্যায়ে পরিবর্তন এলেও প্রশাসনিক কার্যক্রমে যেন কোনো ধরনের স্থবিরতা তৈরি না হয়।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এখন সরকারের সামনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। এ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ঘোষণার পর তার বর্তমান দায়িত্বগুলো দ্রুত পুনর্বণ্টনের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়।
বিশেষ করে এলজিআরডির মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় দীর্ঘ সময় নেতৃত্বহীন রাখা হলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও চলমান কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে। সে কারণেই দ্রুত নতুন দায়িত্ব বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
সামনে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ
মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়া শুধু একটি নির্বাচনী সিদ্ধান্ত নয়, এর সঙ্গে সরকারের প্রশাসনিক কাঠামোতেও তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে। তার মন্ত্রণালয় ছাড়ার পর সেখানে সালাহউদ্দিন আহমদকে দায়িত্ব দেওয়া এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নেওয়া সেই পরিবর্তনেরই প্রতিফলন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারের ভেতরে আরও কী ধরনের প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক সমন্বয় হয়, সেদিকেও এখন নজর থাকবে।
তবে আপাতত সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তাটি স্পষ্ট–ফখরুলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গেই সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোর দায়িত্বে দ্রুত পরিবর্তন এনে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার পথে এগিয়েছে সরকার।