ঈদুল আজহার ছুটিকে সামনে রেখে ট্রেনে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে দেখা দিয়েছে শিডিউল বিপর্যয়। এতে উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা পড়েছেন ভোগান্তিতে। একই দিনে নারী যাত্রীদের জন্য বিশেষ কোচ চালুর উদ্যোগও নিয়েছে রেলওয়ে, যা কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আজ সোমবার সকালে কমলাপুর রেলস্টেশন ঘুরে দেখা যায়, ঈদযাত্রার তৃতীয় দিনে স্টেশনের প্রবেশমুখ থেকেই যাত্রীদের দীর্ঘ সারি। কয়েক ধাপে টিকিট যাচাই শেষে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করলেও সেখানে দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে অনেককে। কারও চোখ টাইম টেবিলে, কেউ ফোনে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, আবার কেউ প্ল্যাটফর্মে অলস সময় পার করছেন।
রংপুর, রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলগামী ট্রেনের যাত্রীদের দুর্ভোগ বেশি দেখা গেছে। নির্ধারিত সময় পার হলেও কিছু ট্রেন প্ল্যাটফর্মে পৌঁছায়নি বা ছেড়ে যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।
রংপুর এক্সপ্রেসের যাত্রী মোরসালিন নোমান বলেন, “ট্রেন কখন আসবে, কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না। অপেক্ষা করা ছাড়া কোন উপায় নেই।”
সকাল থেকে এই প্রতিবেদন লেখার আগ পর্যন্ত বিভিন্ন গন্তব্যে প্রায় ১৫টি ট্রেন ছেড়ে গেছে। বেশিরভাগ ট্রেন সময়মতো চললেও কয়েকটির ক্ষেত্রে বিলম্ব হয়েছে। সকাল ৬টার ধূমকেতু এক্সপ্রেস প্রায় আধাঘণ্টা দেরিতে ছেড়ে যায়। নীলসাগর এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়ের পরে স্টেশন ত্যাগ করে। রংপুর এক্সপ্রেস ও তিতাস কমিউটার নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও প্ল্যাটফর্ম ছাড়তে পারেনি। যাত্রীদের অভিযোগ, একতা এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়ের পরও স্টেশনে পৌঁছয়নি।
কমলাপুর স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দিনভর এখান থেকে মোট ৬৭টি ট্রেন দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ৪৪টি আন্তনগর ট্রেন এবং বাকিগুলো মেইল ও কমিউটার।
শিডিউল বিপর্যয়ের বিষয়ে স্টেশন ম্যানেজার মো. কবীর উদ্দীন বলেন, “অধিকাংশ ট্রেন সময়মতো চলাচল করছে। তবে কিছু ট্রেন অপারেশনাল কারণে বিলম্বিত হয়েছে।” তিনি জানান, বিভিন্ন এলাকায় রেললাইনের ওপর স্থানীয়দের খড় শুকানোর কারণে ট্রেনকে ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে, যা সময়সূচিতে প্রভাব ফেলছে। তিনি আরও বলেন, ঈদযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে রেলওয়ের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত নজরদারি রাখা হয়েছে।
এদিকে একই দিনে ঈদযাত্রাকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে নারী যাত্রীদের জন্য বিশেষ কোচ চালু করা হয়েছে। সোমবার কমলাপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসে যুক্ত বিশেষ কোচের নারী যাত্রীদের বিদায় জানান বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন।
চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকামুখী সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ঢাকায় পৌঁছালে ওই ট্রেনের বিশেষ কোচের নারী যাত্রীদের স্বাগত জানানোর কথা রয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলামের।
সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় ঢাকা–সিলেট–ঢাকা রুটের জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস এবং ঢাকা–চট্টগ্রাম–ঢাকা রুটে ননস্টপ চলাচলকারী সোনার বাংলা এক্সপ্রেসে এই বিশেষ কোচ সংযুক্ত করা হয়েছে। সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই সেবা ঈদের আগের তিন দিন, অর্থাৎ ২৭ মে পর্যন্ত চালু থাকবে বলে জানিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।