বোলাররা শেষের দিকে গিয়ে খেই হারালেও টার্গেটটা অসম্ভব ছিল না। দরকার ছিল পরিস্থিতির চাহিদা মিটিয়ে ব্যাটিং করা। লম্বা সময় পর দলে ফেরা ইয়াসির আলিই কেবল পারলেন সেটা। অন্য ব্যাটসম্যনদের ব্যর্থতার ভিড়ে একাই লড়লেন, তবে শেষ রক্ষা আর হলো না। বড় হার দিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু করল বাংলাদেশ।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ হেরে গেছে ৩২ রানে। ১৭১ রানে টার্গেটে ১৯ ওভারে ১৩৮ রান অলআউট হয়েছে স্বাগতিকরা।
বিশাল রান তাড়ায় শুরুটা যেমন দরকার, হয়েছিল ঠিক তেমনটাই। সিকান্দার রাজার প্রথম ওভারে দুই বাউন্ডারি হাঁকান ওপেনাররা। তিন ওভারেই হয়ে যায় ২২ রান। তবে জোড়া আঘাতে বাংলাদেশকে চাপে ফেলে দেন রিচার্ড এনগারাভা। শিকার বানান তানজিদ হাসান ও সাইফ হাসানকে।
বাংলাদেশের বিপত্তির শুরু সেখানেই। টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ হারের পেছনে বড় কারণ ছিল টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের অধারাভিকতা। এই ম্যাচেও চিত্রটা একই। ৪৫ মাস পর দলে ফেরা ইয়াসির অবশ্য সেই দলে নেই। তিনি ইনিংসের সূচনা থেকে বড় শট খেলে চাপ কমানোর চেষ্টা করেন।
অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় পারেননি তাল মেলাতে। ১৩ বলে মাত্র ১৪ রান আসে তার ব্যাট থেকে। নুরুল হাসানও (৩) অল্পে ফিরলে ৭৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ, ম্যাচের রোমাঞ্চ প্রায় শেষ সেখানেই।
এরপর নিঃসঙ্গ লড়াই চালিয়ে যান ইয়াসির। অন্যদের ব্যর্থতার দিনে তিনি সাবলীল ব্যাটিংয়ে বুঝিয়ে দেন, রান করাটা মোটেও কঠিন ছিল না। মাত্র ৩২ বলে করে ফেলেন ফিফটি।
তবে অন্যপ্রান্তে তাকে বাড়তি চাপে ফেলেন শেখ মাহেদি হাসান। ১০৫ স্ট্রাইক রেটে করতে পারেন মাত্র ১৯ রান। অতি আগ্রাসী হতে গিয়ে তাই শেষ পর্যন্ত এনগারাভার বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন। তবে তার আগে করেন ৩৮ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় ৫৪ রান।
এর আগে টস জিতে বোলিং নেওয়া বাংলাদেশ পারেননি লক্ষ্যটা অল্প রানে রাখতে। ১২ ওভার পর্যন্ত জিম্বাবুয়েকে চাপে রাখলেও শেষের দিকে গিয়ে তালগোল পাকান বোলাররা। ৪ উইকেট নেওয়া নাহিদের স্পেলের পরও তাই বোর্ডে জেতার জন্য যথেষ্ট রান জমা করে স্বাগতিকরা।