বাংলাদেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিশুদের যৌন নির্যাতন ও হয়রানির সাম্প্রতিক সংবাদে গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)।
আজ শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের আইনের আওতায় আনা এবং সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
গাজীপুর, টঙ্গী, সাভার ও কুষ্টিয়ায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনার চেয়ে প্রকৃত ঘটনার সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে বলে ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায় এমজেএফ।
সংস্থাটি মনে করে ভয়, সামাজিক লজ্জা কিংবা চাপের কারণে অনেক শিশু হয়তো নির্যাতনের কথা বলতে পারে না। এসব ঘটনার পাশাপাশি অভিযোগ জানাতে বাধা দেওয়া এবং ভয়ভীতি দেখানোর বিষয়ও উদ্বেগজনক। প্রতিটি অভিযোগ দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিশুদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সার্বিক কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, “প্রতিটি শিশুর নিরাপদ ও স্নেহপূর্ণ পরিবেশে বেড়ে ওঠার অধিকার রয়েছে। বাবা-মা তাদের সন্তানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠান এই বিশ্বাস নিয়ে যে, সেখানে তারা শিখবে, নিজেদের বিকশিত করবে এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়বে। যাদের দায়িত্ব শিশুদের যত্ন নেওয়া ও শিক্ষা দেওয়া, তাঁদের কাছ থেকে কোনো শিশুর ভয় পাওয়ার কথা নয়। কোনো শিশু নির্যাতনের কথা জানালে আমাদের প্রথম দায়িত্ব হলো তার কথা শোনা, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। শিশুদের যেকোনো নির্যাতন বা অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের কথা নির্ভয়ে জানাতে বাবা-মাকে তাদের উৎসাহিত করতে হবে। শিশুদের আশ্বস্ত করতে হবে যে, তাদের কথা শোনা হবে, তাদের অভিযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং তারা প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবে। নির্যাতনের কথা বলার কারণে কোনো শিশুকে দোষারোপ, ভয় দেখানো বা চুপ করিয়ে দেওয়া যাবে না। শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। প্রতিটি শিশু যেন নির্ভয়ে নিজের কথা বলতে পারে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো শিশুকে যেন শিক্ষা ও নিরাপত্তার মধ্যে একটিকে বেছে নিতে না হয়।”
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা জোরদার করা এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার জন্য এমজেএফ দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। ২০০৯ সালে হাইকোর্টের ঐতিহাসিক নির্দেশনা এবং পরবর্তী নির্দেশনার আলোকে এমজেএফ বারবার মাদ্রাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠন ও কার্যকর করার দাবি জানিয়ে আসছে।