সিলেট নগরীর রায়নগরে একই পরিবারের দুজনসহ তিনজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার বাবুল মিয়াকে ৪ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। রোববার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ফারহানা সুলতানা এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) সোবহানীঘাট ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিপলু চৌধুরী এ বিষয়টি বার্তা সংস্থা ইউএনবিকে নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত ৪ দিন মঞ্জুর করে।
এর আগে গত বুধবার সকালে রায়নগরের বাসা থেকে গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের (১৫) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
এসএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনার পরদিন গত বৃহস্পতিবার বাবুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি খালি প্লট থেকে রক্তমাখা ব্যাগ ও ধারালো ছুরি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল দাবি করেন, গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে তার পূর্বে পরিচয় ছিল এবং তার ব্যবহারে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিশোধ নিতে তিনি পরিকল্পিতভাবে ছুরি নিয়ে ওই বাসায় যান। প্রথমে তাহমিনাকে হত্যা করার পর বাধা দিলে গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং পরবর্তীতে গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তারকে গলা কেটে হত্যা করে বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যান।
তবে পুলিশের এই দাবি নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। মামলার বাদী সেলিনা সুলতানা ও নিহত গৃহকর্মীর বাবার অভিযোগ, ঘটনাটি অন্য খাতে প্রবাহিত করতে গৃহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্কের গল্প তৈরি করা হচ্ছে। একা এক ব্যক্তির পক্ষে তিনজনকে হত্যা করা সম্ভব নয় দাবি করে তারা জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।
সিলেট মহানগর জুড়ে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করা এই নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে আলামত উদ্ধার করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং চুরি বা নথি খোয়া গেছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।