ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত প্রাঙ্গণ থেকে হাতকড়া খুলে কৌশলে পালিয়ে গেছেন জিসান হত্যা মামলার আসামি শরিফুল ইসলাম (২২)। এ ঘটনায় দায়িত্বে থাকা পুলিশ কনস্টেবল আবদুল আলিমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে শুনানি শেষে হাজতখানায় নিয়ে যাওয়ার পথে এ পালানোর ঘটনা ঘটে। এর আগে গত বছরের জুনেও ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত চত্বরে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের মারধর করে পালিয়েছিলেন এই আসামি। পরবর্তীতে ফেনী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
ডিএমপি প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কোতোয়ালি থানার একটি মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য থাকায় শরিফুলকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। আদালত থেকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য অন্যমনস্ক থাকার সুযোগে আসামি হাতকড়া খুলে একটি দরজা দিয়ে পালিয়ে যান। তাঁকে পুনরায় গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ।
এ ঘটনায় সিএমএম আদালতের হাজতের ইনচার্জ এসআই মো. মোরশেদ আলম বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়া দায়িত্বে অবহেলার দায়ে কনস্টেবল আবদুল আলিমকে সাময়িক বরখাস্ত করার পাশাপাশি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, আসামি শরিফুল ইসলাম দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ থানার হরিপুর গ্রামের শফিক আহমেদের ছেলে। ২০২৫ সালের ১৯ জুন ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের এজলাস থেকে হাজতখানায় নেওয়ার পথে পুলিশ সদস্যদের আঘাত করে প্রথম দফায় হাতকড়া খুলে পালিয়ে যান তিনি। ওই ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা হলে গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর ফেনী রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সেই পালানোর মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্যই মঙ্গলবার তাকে আদালতে তোলা হয়েছিল। তবে সাক্ষী উপস্থিত না থাকায় শুনানি স্থগিত করে হাজতখানায় নেওয়ার পথেই তিনি দ্বিতীয়বারের মতো পালিয়ে যান।
সম্প্রতি আদালত প্রাঙ্গণ ও আসামিদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর প্রিজনভ্যান থেকে একাধিক মামলার আসামি ‘পিচ্চি রাজা’র পালানোর ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে পুলিশের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়ে জড়িত সদস্যদের ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।