ads

বঙ্গভবনে সাহাবুদ্দিন অধ্যায়ের সমাপ্তি

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
বঙ্গভবনে সাহাবুদ্দিন অধ্যায়ের সমাপ্তি
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ শুক্রবার বিকেলে তিনি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

গত বুধবার রাত থেকেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে গুঞ্জন ওঠে। বৃহস্পতিবারই শোনা যাচ্ছিল তিনি শুক্রবার পদত্যাগ করবেন। এরমধ্যে চিকিৎসাসফর সংক্ষিপ্ত করে থাইল্যান্ড থেকে শুক্রবার দুপুরে দেশে ফেরেন স্পিকার।

Advertisement

রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করার সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী এখন রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র পাঠিয়ে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালের এপ্রিলে।

সাহাবুদ্দিন দায়িত্ব নেওয়ার দেড় বছরের মাথায় ২০২৪ সালে ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এরপর সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন। ওই সরকারের করা অধ্যাদেশগুলোতে সই করতে হয়েছে তাকে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণের দাবি উঠেছিল। ওই সময় তার পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিল বিভিন্ন সংগঠন। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার মো. সাহাবুদ্দিনকে সরাতে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে তিনি পদত্যাগ করতে চান। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাকে ‘অপমান’ করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ২৪ ফেব্রুয়ারি কালের কণ্ঠকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাহাবুদ্দিন বলেন, সরকার চাইলে তিনি দায়িত্বে থাকবেন, না হলে পদত্যাগ করবেন।

গত ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি তাকে সরানোর পথে যায়নি। সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট সংসদে নজিরবিহীন ক্ষোভ প্রকাশ করে।

১৯৯১ সালে দেশে সংসদীয় ব্যবস্থা ফেরার পর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের একমাত্র নজির ছিল বিএনপি সরকারের আমলে। এবারও তাই হলো।

বিএনপির সংসদীয় দলের অনাস্থার মুখে ২০০২ সালের ২১ জুন পদত্যাগ করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তখনকার স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার পরে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরে ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে কার্যভার নেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেন সংসদ সদস্যরা। বর্তমান ত্রয়োদশ সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও দলটির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। অর্থাৎ বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর জয় নিশ্চিত। অন্য কোনো বৈধ প্রার্থী না থাকলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবে।

সম্পর্কিত