পাকিস্তানে ব্যাংক-পুলিশ স্টেশন দখলের চেষ্টা, সংঘর্ষে নিহত অন্তত ১২

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
পাকিস্তানে ব্যাংক-পুলিশ স্টেশন দখলের চেষ্টা, সংঘর্ষে নিহত অন্তত ১২
নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের আইএসপিআর। ছবি: রয়টার্স

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তানের খারান শহরে সরকারি ও বাণিজ্যিক স্থাপনায় হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। এ ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর।

স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার এ ঘটনা ঘটেছে বলে এক ‍বিবৃতিতে জানিয়েছে আইএসপিআর। খবর পাকিস্তানের গণমাধ্যম দ্য ডনের।

বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতের পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’- এর সঙ্গে যুক্ত ১৫ থেকে ২০ জন সন্ত্রাসী খারান শহরে একযোগে হামলা চালায়। তাদের লক্ষ্য ছিল খারান সিটি পুলিশ স্টেশন, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং হাবিব ব্যাংক লিমিটেড।

পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দাবি, হামলার সময় সন্ত্রাসীরা ব্যাংক দুটি থেকে প্রায় ৩৪ লাখ রুপি লুট করে। তারা পুলিশ স্টেশনে জিম্মি নেওয়ারও চেষ্টা চালায়, তবে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত ও কার্যকর অভিযানে সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়।

আইএসপিআর জানিয়েছে, সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করতে খারান ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চলছে চলমান রয়েছে। জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান) এবং ফেডারেল সরকারের অনুমোদিত ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ ভিশনের আওতায় বিদেশি পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া সন্ত্রাসবাদ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানায় সংস্থাটি।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের এক প্রতিদবেদনে বলা হয়েছে, বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী মীর সরফরাজ বুগতি নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। তিনি জানান, অভিযানে একজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন এবং তাকে কম্বাইন্ড মিলিটারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী মীর সরফরাজ বেলুচিস্তানের দুর্গম এলাকায় ডিজিটাল অবকাঠামো নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সাঙ্গানের মতো কম জনবসতিপূর্ণ এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট টাওয়ার স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

সেই সঙ্গে ৩০০ কোটি রুপির একটি প্রাদেশিক প্রকল্পের ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মীর সরফরাজ, যার আওতায় বেলুচিস্তানজুড়ে ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালগুলোকে সংযুক্ত করা হবে, পাশাপাশি অপব্যবহার রোধে নজরদারিও বজায় রাখা হবে।

সম্পর্কিত