চট্টগ্রাম মহানগরীর হামজারবাগ এলাকায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা চেয়ে না পেয়ে প্রবাসীর বাকরে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ওই এলাকায় হাজী ইউসুফের মালিকানাধীন বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
পরিবারের সাথে সংশ্লিষ্ট লোকজন ও পুলিশের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ইউনূসের দুই ছেলে বিদেশে থাকেন। সম্প্রতি বড় ছেলে বিদেশ থেকে দেশে এসেছেন। গতকাল তার মোবাইলে ইন্টারনেট নম্বর থেকে ভয়েস মেসেজ দিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে দুই যুবক এসে রুনা টাওয়ারের ১১তলা ভবনের নিচতলার গেটে দুই রাউন্ড গুলি করে চলে যান। এ ঘটনার পর ওই ভবনের বাসিন্দাদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল ইসলাম চরচাকে বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগীর পরিবার থেকে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো অভিযোগ করা না হলেও আমরা নিজেরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।”
সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসা-বাড়িতে চাঁদা দাবি করে না পাওয়ার পর গুলি ছুঁড়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি ও ভাংচুরের কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের ২ জানুয়ারি ও ২৯ ফেব্রুয়ারি নগরীর চন্দনপুরা এলাকায় ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমানের বাসভবন লক্ষ্য করে দুই দফায় গুলি ছোঁড়া হয়।
গত ১৩ জুন নগরীর বাকলিয়া এক্সেস রোড এলাকায় ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিডিএনের মালিকের নিকট থেকে চাঁদা চেয়ে না পেয়ে কার্যালয় ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। ১৩ জুলাই চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানাধীন বড়দীঘির পাড় এলাকায় ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের নিকট থেকে চাঁদা চেয়ে না পেয়ে নির্মাণাধীন ভবনে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় বিদেশে পালিয়ে থাকা সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের অনুসারী ডেভিড ইমন ও রায়হানের নাম উঠে আসে। বর্তমানে ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।