সিসা দূষণ রোধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রংপুরের পরিবেশকর্মী, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাদের মতে, অনিরাপদভাবে সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারি পুনর্ব্যবহারসহ বিভিন্ন উৎস থেকে ছড়িয়ে পড়া সিসা দূষণের কারণে দেশের লাখো শিশু মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে।
আজ শুক্রবার যুব নেতৃত্বাধীন পরিবেশবিষয়ক সংগঠন ইয়ুথনেট গ্লোবাল আন্তর্জাতিক দূষণবিরোধী সংস্থা পিওর আর্থের সহযোগিতায় এ সচেতনতামূলক র্যালির আয়োজন করে। ‘সিসা দূষণ বন্ধ করি, সুস্থ জীবন ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করি’ প্রতিপাদ্যে দেশের আটটি বিভাগে সপ্তাহব্যাপী চলমান জাতীয় প্রচারণার অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
সকালে রংপুর নগরীর চন্দ্রা মোড় থেকে র্যালিটি শুরু হয়ে আবু সাঈদ চত্বরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে গিয়ে শেষ হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, র্যালিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পরিবেশকর্মী, সরকারি প্রতিনিধি ও তরুণরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে অংশ নেন। তারা সিসা দূষণ নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, শিশুদের সিসা দূষণের দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। দেশে সাড়ে ৩ কোটিরও বেশি শিশু ক্ষতিকর মাত্রার সিসার সংস্পর্শে রয়েছে।
তারা সতর্ক করে বলেন, এ বিষাক্ত ধাতুর দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শ শিশুদের স্বাস্থ্য, মস্তিষ্কের বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ সুস্থতার জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সমাবেশ থেকে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো—সিসাকে বিষাক্ত রাসায়নিক হিসেবে ঘোষণা করে একটি সমন্বিত জাতীয় কৌশল প্রণয়ন, শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর রক্তে সীসার মাত্রা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, অনিরাপদ ব্যাটারি পুনর্ব্যবহার রোধে এক্সটেন্ডেড প্রডিউসার রেসপনসিবিলিটি (ইপিআর) কার্যকর করা, ব্যবহৃত ব্যাটারির নিরাপদ সংগ্রহ ও পরিবেশসম্মত পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং সিসা দূষণ মোকাবিলায় গবেষণা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এবং সংশ্লিষ্ট গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বক্তারা বলেন, বিশ্বে সিসা দূষণে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ অন্যতম শীর্ষে। দেশে সাড়ে ৩ কোটিরও বেশি শিশুর রক্তে সিসার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি।
তাদের ভাষ্য, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রায় ৩৮ দশমিক ৩ শতাংশের রক্তে সিসার মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) নির্ধারিত নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি।
আয়োজকেরা বলেন, শিশুদের সিসা দূষণ থেকে রক্ষা করতে সরকার, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও তরুণদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তাদের মতে, শিশুদের নিরাপদ রাখা একটি সুস্থ, নিরাপদ ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ার পূর্বশর্ত।