‘আম জনতার’ দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনার আহ্বান ইশরাকের

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
‘আম জনতার’ দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনার আহ্বান ইশরাকের
‘আম জনতার’ দলের সভাপতি তারেক রহমানের সঙ্গে আজ রোববার সংহতি জানান ইশরাক হোসেন। ছবি: চরচা

বিএনপি চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির বিশেষ সহকারী ইশরাক হোসেন বলেছেন, ‘আম জনতার’ দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়া নতুন করে পর্যালোচনা করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন দলের নিবন্ধন না দেওয়া রাজনৈতিক বৈষম্যেরই বহিঃপ্রকাশ।

আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সামনে অনশনরত ‘আম জনতার’ দলের সভাপতি তারেক রহমানের সঙ্গে আজ রোববার সংহতি জানান ইশরাক হোসেন। এসময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

ইশরাক বলেন, ‘‘ওয়ান ইলেভেনের পর থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু হলেও ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠ দলগুলোকে বারবার বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। অথচ যারা দীর্ঘদিন রাজপথে থেকে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের প্রতি হচ্ছে বৈষম্য ও উপেক্ষা।’’

ইশরাক হোসেন বলেন, “তারেক রহমান একজন তরুণ, কর্মঠ এবং নির্যাতিত রাজনৈতিক নেতা। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনসহ প্রতিটি গণআন্দোলনে তিনি সামনের সারিতে ছিলেন। তাঁর ওপর একাধিকবার হামলা চালানো হয়েছে, তবুও তিনি দমে যাননি। এমন এক নেতার দলের নিবন্ধন যদি না দেওয়া হয়, সেটি নিঃসন্দেহে প্রশাসনিক ব্যর্থতার পাশাপাশি রাজনৈতিক পক্ষপাতেরও উদাহরণ।”

রাতারাতি নিবন্ধন পাওয়া দলগুলো নিয়ে প্রশ্ন

ইশরাক হোসেন সম্প্রতি কিছু নতুন দলকে দ্রুত নিবন্ধন দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, এসব দলের অনেকেরই রাজনৈতিক কার্যক্রম বা সাংগঠনিক কাঠামো দৃশ্যমান নয়, তবুও তারা নিবন্ধন পাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহ তৈরি করছে। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন— “বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি, আসল বিএনপি, তৃণমূল বিএনপি, কিংবা ভারতীয় জনতা পার্টির আদলে করা দল— এসব নাম শুনলেই বোঝা যায়, এটি রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে কতটা বিচ্ছিন্ন। এমন দলগুলোর কোনো কার্যক্রম নেই, অফিস পর্যন্ত অনেক সময় রান্নাঘরের ভেতরে দেখানো হয়েছে। অথচ তারা নিবন্ধন পেয়ে যাচ্ছে।”

ইশরাক দাবি করেন, এসব দলের অনেকেই আদালতের আদেশের কথা বলে নিবন্ধন পেলেও নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা আছে, তারা সব শর্ত পূরণ করেনি। “তারপরও তারা নিবন্ধন পেল। কিন্তু যারা প্রকৃত অর্থে রাজনৈতিক সংগ্রাম করেছেন, যেমন তারেক রহমান, তারা বঞ্চিত। এটা কি ন্যায়সঙ্গত?”— প্রশ্ন রাখেন তিনি।

নিবন্ধন প্রক্রিয়া পুনর্গঠনের দাবি

ইশরাক স্পষ্ট করে বলেন, তিনি কোনো দলের নিবন্ধন বাতিলের পক্ষে নন। তাঁর মূল দাবি— পুরো নিবন্ধন প্রক্রিয়াটাই নতুনভাবে সাজানো হোক। “আমরা চাই, নির্বাচন কমিশন সব দলকে আহ্বান জানিয়ে পুনর্নিবন্ধনের সুযোগ দিক। এতে বোঝা যাবে কারা প্রকৃত রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় এবং কারা শুধু নামমাত্র দল। এই উদ্যোগই জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে।”

ইশরাক আরও বলেন, “কমিশনের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাত ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, যার ফলে যোগ্য আবেদনকারীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। যে কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করেন, তাদের মধ্যেও পক্ষপাতের অভিযোগ এসেছে। আমরা চাই, কমিশন এসব খতিয়ে দেখুক।”

সম্পর্কিত