দেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতি, দখল, চাঁদাবাজির বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন শতাধিক নাগরিক।
তারা বলছেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশবাসী একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র আশা করেছিল। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে গঠিত সরকারের গত কয়েক মাসের কার্যক্রমে সেই আশা হুমকির মুখে পড়েছে। সারাদেশে দখল-চাঁদাবাজির বিস্তার, মানবাধিকার সুরক্ষার আইনি ভিত্তি দুর্বল করা এবং অতীতের মতো বিচারবহির্ভূত পদক্ষেপের দিকে ঝোঁকায় বাংলাদেশের নাগরিকরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে সংবিধান সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য সিনিয়র আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রুশাদ ফরিদী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপনসহ শতাধিক নাগরিক এ বিষয়ে সমর্থন জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, সেপ্টেম্বরে পাস হওয়া তিনটি আইন অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সুরক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যত ভেঙে দিয়েছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের হাত থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ সরাসরি তদন্তের এবং গোপন আটককেন্দ্র পরিদর্শনের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গুমের ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জবাবদিহির মানদণ্ড শিথিল করে স্বাধীন তদন্তের বদলে এক বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আরেক বাহিনীকে দিয়ে তদন্তের পুরনো নিয়ম ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত র্যাব বিলুপ্তির দাবি থাকলেও তা হয়নি। শুধু নাম পাল্টে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ করা হয়েছে- ক্ষমতা, কর্মপদ্ধতি ও দায়মুক্তি আগের মতোই রয়ে গেছে।
তদন্তের দুর্বলতা ও আইনি ফাঁকফোকরের সুযোগে গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্তরা অন্যায্যভাবে জামিন পেয়ে যাচ্ছে। তারা জামিন-পরবর্তী আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
পুলিশের পেশাদারত্ব বাড়ানো বা আইনের ফাঁকফোকর বন্ধ করার বদলে সরকার ২০০২ সালের ‘অপারেশন ক্লিন হার্টের’ ধাঁচে অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। জবাবদিহিহীন এমন ‘কঠোর অভিযান’ অতীতে অপরাধ কমায়নি, বরং নাগরিক অধিকার কেড়ে নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতাকে বিরোধীদের দমনের হাতিয়ার বানিয়েছে।
দলীয় পরিচয়ের কারণে দখলবাজ ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি চলছে। কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ঘটনাতেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই শৈথিল্য অপরাধীদের আরও সাহস জোগাচ্ছে।
এ অবস্থায় সুশাসন এবং নাগরিক অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিতে ছয় দফা দাবি জানানো হয় বিবৃতিতে।