থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লিমিটেডের (পরিবর্তিত নাম নগদ লিমিটেড) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ মিশুকসহ অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ৭৮৬ কোটি ৩৯ হাজার ২৮৪ টাকার শেয়ার অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ রোববার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন। দুদকের সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ শেয়ার ফ্রিজের এ আবেদনটি করেছিলেন।
আদালতে পেশ করা দুদকের আবেদনে বলা হয়, অননুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটরের মাধ্যমে সরকারি ভাতার অর্থ বের করে নেওয়া, বৈধ চ্যানেল ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা না এনে অনাবাসী বিনিয়োগকারীদের অনুকূলে শেয়ার হস্তান্তর, জিরো কুপন বন্ডের অর্থ দিয়ে বিদেশি ঋণ পরিশোধ, বিদেশে অর্থ পাচার এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তানভীর আহমেদ মিশুকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বর্তমানে অনুসন্ধান চলছে।
দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০২১ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘নগদ’-এর মাধ্যমে বিতরণ করা সরকারি ভাতার অব্যবহৃত অর্থ সফটওয়্যার জালিয়াতির মাধ্যমে ২৪ হাজার ১৫৯টি ভুয়া উদ্যোক্তা ওয়ালেটে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তী সময়ে তা ৬৪৮টি ভুয়া ডিএসও এবং ৩৪টি অননুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটরের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হয়।
সংস্থাটি জানায়, এই প্রক্রিয়ায় প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৭০৬ কোটি ৩৮ লাখ ৫৪ হাজার ২২৯ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। আত্মসাৎ করা অর্থের একটি অংশ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে লেয়ারিংয়ের মাধ্যমে থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লিমিটেডের ১৬ কোটি ৮৪ লাখ ৩৪ হাজার ১২৭টি শেয়ার কেনায় ব্যবহার করা হয়েছে।
দুদকের আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা বর্তমানে এসব শেয়ার বিক্রি বা হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন এবং লব্ধ অর্থ বিদেশে পাচার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকরা এসব শেয়ার কেনার জন্য বিদেশ থেকে বৈধ উপায়ে অর্থ এনেছেন—এমন প্রমাণ অনুসন্ধানে মেলেনি।
এ অবস্থায় অনুসন্ধান শেষ হওয়ার আগে যেন শেয়ারগুলো কোনোভাবে বিক্রি বা হস্তান্তর হতে না পারে, সে জন্য রাষ্ট্রীয় আর্থিক ক্ষতি রোধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও দুদক বিধিমালা অনুযায়ী শেয়ারগুলো ফ্রিজ করার আবেদন জানানো হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।